ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ ১৯:২১ Asia/Dhaka

কাতারে আফগান শান্তি আলোচনা আবারও স্থগিত হয়ে গেছে। তালেবানদের সঙ্গে ওই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী আফগান সরকারের আলোচক দলের পাঁচ সদস্য কাবুলে ফিরে গেছে।

শান্তি বিষয়ক আফগান সরকারের মুখপাত্র নাজিয়া আনোয়ারিসহ  আলোচক দলের আরও অনেকেই এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কাতারের মধ্যস্থতায় তালেবানদের সঙ্গে আফগান সরকারের শান্তি আলোচনা ২০২০ সালের ১২ সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছিল। আলোচনা স্থগিত হয়ে যাবার ফলে কাবুল সরকারের সামনে এখন কী পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে সেটি একটা প্রশ্ন বটে। আফগান সরকারের দৃষ্টিতে তালেবানদের অবস্থান উচ্চাভিলাষী। এ কারণেই আন্ত-আফগান শান্তি আলোচনায় স্থবিরতা এসেছে। আলোচনা স্থগিত হবার ফলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতাসহ যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা ভেস্তে গেল এবং নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বেড়ে গেল। অপরদিকে তালেবানরা দুটি বিষয়ে বেশ পীড়াপীড়ি করছে। প্রথমত তারা প্রজাতন্ত্রের অপসারণ চায় এবং দ্বিতীয়ত আফগানিস্তানে ইসলামি এমারাত প্রতিষ্ঠা করার ওপর জোর দিচ্ছে। এ ধরনের কঠোর এবং অযৌক্তিক শর্তাবলি আলোচনায় অগ্রগতির পথকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং এই শান্তি আলোচনার অচলাবস্থা কাটাতে হলে নতুন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। নতুবা তালেবানদের বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে আলোচনার ভবিষ্যৎ অস্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং প্রয়োজন হলো তালেবানের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে জাতীয় রোডম্যাপ এবং কৌশল নির্ধারণ করা। কাতারে বিগত ছয় মাস ধরে আন্ত-আফগান আলোচনা চলছে। আফগান সরকার  ধারাবাহিকভাবে তালেবানকে আলোচনা চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে এসেছে। কিন্তু চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি হওয়ার আগে এই দলটি তাদের উচ্চাভিলাষী দাবি ক্রমশ বাড়িয়েই যাচ্ছে। তাদের এসব দাবির কাছে যদি সরকার নতি স্বীকার করে তাহলে যুদ্ধের ফলে যেরকম ক্ষয়ক্ষতি হবে তারচেয়েও বেশি ক্ষতি হবে আফগান সরকার ও জনগণের। সেটি হবে আরও বেশি বিপজ্জনক। সুতরাং, আফগান সরকারকে তালেবানদের সাথে চূড়ান্ত শান্তির আগে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি নিতে হবে যে, তারা সংবিধান ও প্রজাতন্ত্রের কাঠামো রক্ষা করবে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে অন্য কোনো নীতি মেনে চলবে না। এসব মৌলিক বিষয়ে তালেবানদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।#

পার্সটুডে/এনএম/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ