মার্চ ০৪, ২০২১ ১৯:২২ Asia/Dhaka
  • ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আল আনবার প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি আইন আল আসাদ
    ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আল আনবার প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি আইন আল আসাদ

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আল আনবার প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি 'আইন আল আসাদ'-এ আবারও হামলা হয়েছে। ওই বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১০টি রকেট আঘাত হেনেছে। এই হামলায় একজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তাসহ তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে।

মার্কিন সরকার বলেছে, কোনো তাড়াহুড়া না করেই এই হামলার কঠোর জবাব দেয়া হবে। 

গত এক বছরে ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ছাড়াও মার্কিন সেনাদের নানা অবস্থানে প্রায়ই হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী গত বছর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আইন আল-আসাদ ঘাঁটিকে তছনছ করে দিয়েছিল।

ইরাকে মার্কিন সেনা অবস্থানে হামলাগুলো নানা কারণে ঘটতে পারে। এসবের মধ্যে চারটি কারণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রথমত: ইরাকের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ এবং দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী মার্কিন আচরণ। ইরাকের প্রতিরোধকামী ও সন্ত্রাস বিরোধী সেনা কমান্ডারদের ওপর বার বার পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী এবং দখলদার মার্কিন সেনারা। বিশেষ করে গত বছরের প্রথম দিকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে বাগদাদ বিমানবন্দরের খুব কাছেই এক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ইরানের কুদ্‌স ব্রিগেডের তৎকালীন প্রধান ও গোটা পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের সবচেয়ে সফল মহানায়ক জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ও ইরাকের  জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সেনাদল থেকে রাষ্ট্রীয় সেনাদলে পরিণত বাহিনী হাশদ্‌ আশ্‌ শাবির তৎকালীন উপপ্রধান আবু মাহদি আল মুহানদিসকে শহীদ করে মার্কিন বিমান বাহিনী।

এই ঘটনার পর থেকে সারা বিশ্বের ও এমনকি মার্কিন বিশ্লেষকদেরও অনেকেই বলেছিলেন যে ইরাক আর মার্কিন সেনাদের জন্য কখনও নিরাপদ থাকবে না। ইরাক ও সিরিয়ার ওপর লেলিয়ে দেয়া নানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতিও কখনও প্রকাশ্য ও কখনও গোপন মার্কিন সহায়তা ইরাকি ও সিরিয় জনগণের মধ্যে মার্কিন বিরোধী তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি ইরাক-সীমান্ত সংলগ্ন পূর্ব সিরিয়ায় প্রতিরোধকামী সেনাদের ওপর মার্কিন বিমান হামলাও ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি মার্কিন সহায়তারই অংশ। ওই হামলায় প্রতিরোধকামী তথা সন্ত্রাস-বিরোধী এক সেনা শহীদ ও চার জন আহত হয়। 

দ্বিতীয়ত: ইরাকের সংসদ মার্কিন সেনাদেরকে সেদেশ থেকে বের করে দেয়ার আইন পাশ করা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বর্তমান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাযেমির সরকারের দুর্বল ভূমিকা। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী এমনভাবে কথা বলে আসছেন যে তাতে প্রতিরোধকামী জনপ্রিয় ইরাকি শক্তিগুলোর প্রতি তার বিদ্বেষ ও মার্কিন শক্তির প্রতি তার নতজানু এবং সহযোগী মনোভাবই ফুটে উঠছে। যেমন, তিনি আইনুল আসাদে হামলার বিষয়ে গতকাল বলেছেন: মার্কিন সেনারা ইরাক সরকারের আমন্ত্রণেই এদেশে এসেছে!

তৃতীয়ত: ইরাকের বেশিরভাগ জনগণের কাছে অস্ত্র থাকায় এবং প্রতিরোধকামী বহ সশস্ত্র দল গড়ে ওঠায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের পক্ষে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অবশ্য হাশদ আশ শাবি বা পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটের মত গ্রুপগুলো এখন সরকারের সশস্ত্র বিভাগের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। ইরাকের জনগণসহ প্রতিরোধকামী সব দল ও গ্রুপই মার্কিন বিরোধী। 

চতুর্থত: ইরাকে এমন কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে যারা মার্কিন সেনাদের বিতাড়নকে  গুরুত্ব দেয় না বরং তারা কয়েকটি ইরাকি গ্রুপ ও বাইরের শক্তির ইঙ্গিতেই ইরাকি প্রতিরোধকামী শক্তিগুলো ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে ইরাকের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তারা এই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মাঝে মধ্যে মার্কিন দূতাবাস ও অন্যান্য মার্কিন অবস্থানে হামলা চালিয়ে এসব হামলাকে প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোর বা ইরানপন্থী ইরাকি শক্তিগুলোর কাজ বলে প্রচারের চেষ্টা করছে। প্রতিরোধকামী শক্তি ও মার্কিন সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় তাদের এই প্রচারণাকে সহজেই বিশ্ব-জনমতকে বিশ্বাস করানো যাবে বলে তারা মনে করছে।  মার্কিন সরকারও এইসব প্রচারণা বা অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে ইরাকে নিজ  সেনা উপস্থিতি অব্যাহত রাখার ও জোরদারের চেষ্টা করছে।  কিন্তু ষড়যন্ত্রমূলক এসব প্রচেষ্টা সফল হবে না।  #   

পার্সটুডে/এমএএইচ/৪   

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।     

ট্যাগ