মার্চ ০৯, ২০২১ ১১:৩৪ Asia/Dhaka

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টকে হুমকি দিয়ে একটি চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকার অথবা তালেবানদের সাথে জোট সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনিকে লেখা চিঠিতে অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন আফগান শান্তি আলোচনায় অচিরেই এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি জাতিসংঘকে বলেছেন।

শান্তি আলোচনার বিষয়ে মোট চারটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। এদিকে তুরস্ককে ওই শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে অনুরোধ করেছে আমেরিকা।

সেইসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জানিয়েছেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সমস্ত বিকল্প তাদের টেবিলে রয়েছে। সোমবার যালমাই খালিলযাদ দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর কাবুল পৌঁছলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। তালেবানদের সাথে জোট সরকার গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে তিন দিনের কাবুল সফরের সময় যালমাই খালিলযাদ প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি, জাতীয় পুনর্গঠন বিষয়ক উচ্চ পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই, সামরিক ব্যক্তিত্ব আবদুল রশিদ দোস্তাম, কারিমি এবং মোহাক্কেকসহ আরও অনেক রাজনীতিবিদের সাথে সাক্ষাত করেন। জোট সরকার সম্পর্কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের মতামত জানাতে বলেন।

কোনো কোনো বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, খালিলযাদ চাচ্ছেন প্রস্তাবিত সরকারে তালেবানদের অংশগ্রহণ অর্ধেক মানে সমান সমান থাকবে। এ নিয়েই মূলত দর কষাকষি চলছে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।

আফগানিস্তানে মার্কিন প্রশাসনের নয়া পরিকল্পনা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য যে, আফগানিস্তান বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত যালমাই খালিলযাদ ট্রাম্পের সময় দোহা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে আফগানিস্তানসহ আঞ্চলিক বহু দেশ সফর করেছিলেন। এবার মনে হচ্ছে সেই চুক্তি বাদ দিয়ে তিনি বাইডেন সরকারের নয়া পরিকল্পনা নিয়ে আফগানিস্তান সফর করেছেন।

আসলে বাইডেন প্রশাসন চাচ্ছে আফগানিস্তানে অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বন সম্মেলনের মতো একটি শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করতে। যেমনটি বলেছেন আফগান রাজনীতি বিশেষজ্ঞ শাহজাদা মাসউদ। তার মতে খালিলযাদ চাচ্ছেন বন সম্মেলনে তালেবানসহ গণতন্ত্রপন্থি সকল পক্ষকে একত্রিত করতে। যেখানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও প্রতিনিধিত্বও থাকবে। যাতে বিশ্ব সমাজে বৈঠকটি বৈধতা পায়।

কিন্তু আফগানিস্তানে বাইডেনের এই পরিকল্পনার অনেক বিরোধী রয়েছে। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গনির সরকারই অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা তথাকথিত অংশগ্রহণমূলক সরকার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধী। আশরাফ গণি বারবার এই পদক্ষেপকে সরকারের 'ক্ষমতাচ্যুতির পরিকল্পনা' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন: জীবন থাকতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের অনুমতি দেবেন না।

আফগানিস্তানের জমিয়তে ইসলামী দলের নেতা এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইউনুস কানুনিও এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। কানুনি কাবুলে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেষে তালেবানরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকবে কিনা তার কোনও গ্যারান্টি নেই। তারা পুনরায় তাদের আগেকার ইসলামী আমিরাত গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যদি হয় তাহলে আফগানিস্তানে আবারও যুদ্ধ শুরু হবে।

তালেবানদেরও উচ্চ পদস্থ কেউ কেউ খালিলযাদের পরিকল্পনার বিরোধী। তারা বলছেন: জোট সরকার কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আফগান জনগণের। আমেরিকানদের ইচ্ছা আফগানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। মজার ব্যাপার হলো দোহা চুক্তি অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময় যখন ঘনিয়ে এসেছে তখন খালিলযাদ বাইডেনের নয়া পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছেন।  

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানদের সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে ২০২১ সালের মে মাসে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে মনে হচ্ছে বাইডেন সরকার এখন এই চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো মানবে না। তারা নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিজেরাই ভঙ্গ করে উল্টো আশরাফ গনি সরকারকে মার্কিন সরকারের পরিকল্পনা মেনে নিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।

যেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গত বিশ বছরে হাজার হাজার আফগান জনগণ প্রাণ দিয়েছে সেই গণতন্ত্রের স্বপ্ন এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। জনগণের ভোটাধিকার উপেক্ষা করে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে গেলে ওই পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে-এটাই স্বাভাবিক বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা।

পার্সটুডে/এনএম/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ