এপ্রিল ১৫, ২০২১ ১৬:৩০ Asia/Dhaka
  • ইয়েমেনে গণহত্যায় যুক্ত আমিরাতের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা বাইডেনের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ২৩০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আমিরাতের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধ কিংবা এ সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করবেন বলে ঘোষণা দেয়ার মাত্র কয়েক মাস পর অস্ত্র বিক্রির এ ঘোষণা দিলেন। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমিরাতের কাছে এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান এবং যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন বিক্রি করা হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত দখলদার ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৩০০ কোটি ডলার মূল্যের এসব যুদ্ধাস্ত্র আমিরাতের কাছে বিক্রির বিষয়ে সম্মত হয়েছিলেন। এমন সময় এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছিল যখন করোনা  মহামারি পরিস্থিতিতেও ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে এবং সৌদি  নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে গণহত্যা চালাচ্ছে। এ গণহত্যায় আমিরাতও সৌদি আরবের সহযোগী। এমনকি বিশ্বের বহু দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবাদ সত্বেও তারা গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।  এ ছাড়া এসব দেশ ও সংস্থা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও আমিরাতের আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এ দুই দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কাছে আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু এসব আহ্বান সত্বেও বৃহৎ শক্তিগুলো সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে বড় অঙ্কের অস্ত্র চুক্তি করছে এবং ইয়েমেনে গণহত্যা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রাখছে।

যদিও মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট সদস্যরা অস্ত্র বিক্রি আটকে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রিতেও তিনি সম্মত হন। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করলেও পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র ইসরাইল ছাড়া এ যুদ্ধ বিমান আর কারো হাতে নেই। ইসরাইলের পর এখন একমাত্র আরব দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলাকালে জো বাইডেন ইয়েমেন যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন তাহলে সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করবেন। নির্বাচনে জেতার পরও জো বাইডেন অস্ত্র চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের কথা বলেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তার এসব কথা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। এমনকি বহু মার্কিন কর্মকর্তাও এটাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সৌদি আরব ও আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে বাইডেনের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ওই দুই আরব দেশ ইয়েমেনে বছরের পর বছর ধরে বোমা হামলা চালিয়ে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু এখন প্রমাণিত হয়েছে এসবই ছিল বাইডেনের লোক দেখানো প্রতিশ্রুতি। ধারণা করা হচ্ছে, কেবল রাজনৈতিক প্রচারণার স্বার্থে বাইডেন ওই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যাইহোক, আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র ও অস্ত্র নির্মাণ কোম্পানিগুলোর কাছে মানবিকতার কোনো মূল্য নেই বরং তারা কেবল নিজেদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। বর্তমান বাইডেন প্রশাসন তাদের নীতিতে পরিবর্তনের কথা বললেও ইয়েমেন যুদ্ধে এখনো আমিরাত ও সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে গণহত্যায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনও শরীক হলেন। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫

 

 

ট্যাগ