মে ০২, ২০২১ ১৮:১০ Asia/Dhaka

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণকামী লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তুরস্ক সরকার আবারো উত্তর ইরাকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোলাইমান সুইলো এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি সিরিয়ার মাটিতে অবস্থিত তুর্কি সামরিক ঘাঁটির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আঙ্কারা সিরিয়ায় যেমন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে তেমনি ইরাকেও ঘাঁটি স্থাপন করতে চায় যাতে কাছে থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নজরদারী করা যায়।

কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)কে দমনের অজুহাতে তুরস্কের সামরিক বাহিনী প্রায়ই ইরাকের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালায়। এমন সময় তারা এসব হামলা অব্যাহত রেখেছে যখন ইরাকের কর্মকর্তারা তুর্কি সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে একে সেদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ নিন্দার মধ্যেই সম্প্রতি তুরস্কের সেনাবাহিনী উত্তর ইরাকে হামলা চালানোয় ইরাক সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহ এক বিবৃতিতে বলেছেন, তুর্কি সেনাবাহিনীর হামলা ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। তিনি এ ধরনের আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানান। ইরাকের প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, তুরস্কের মধ্যে যে গেরিলা সংকট চলছে তা সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয়ে ভিত্তিতে মীমাংসা করা উচিত।

এদিকে ইরাকের মন্ত্রিসভাও সেদেশে তুর্কি সামরিক অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাগদাদে নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে দুইবার রাষ্ট্রদূত তলবের ঘটনা ঘটল। ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবাদ লিপি তুর্কি রাষ্ট্রদূতকে হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে দেশটির মন্ত্রিসভাও তুর্কি হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে অভিযোগ জানানোর জন্য ইরাকের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া ইরাকের একদল পার্লামেন্ট সদস্য প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমির স্বাক্ষরযুক্ত এক বিবৃতিতে ইরাকে তুর্কি হামলার জবাব দেয়ার পাশাপাশি আঙ্কারার সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরাকের বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ সত্বেও তুর্কি হামলা ঠেকানোর বিষয়ে ইরাক থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা গ্রহণের কথা শোনা যায় না। ইরাকের কোনো কোনো দল ও পার্লামেন্ট সদস্য প্রতিবাদ জানালেও অনেকে মনে করেন ইরাকের কোনো কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমন্বয়ের ভিত্তিতেই তুরস্ক এসব হামলা চালাচ্ছে। ইরাকের আল হুকমা দলের নেতা আম্মার হাকিম তুর্কি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ইরাকিরা গত কয়েক দশক ধরে জাতীয় স্বাধীনতা ও সম্মান বজায় রাখার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয় এমন  কোনো কাজ আমরা মেনে নেব না। তাই সরকারের উচিত প্রতিবেশী সব দেশ বিশেষ করে তুরস্ক যাতে ইরাকের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে না পারে সেজন্য পদক্ষেপ নেয়া।

কিন্তু তারপরও তুরস্ক সরকার ইরাকের উত্তরে সামরিক ঘাটি স্থাপনের চেষ্টা করছে। #     

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২

ট্যাগ