মে ০৪, ২০২১ ১৭:৪৬ Asia/Dhaka

ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বর্বর আগ্রাসনে এ পর্যন্ত বহু নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে অসম এ যুদ্ধে ইয়েমেনের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর ৭৪ মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেন হচ্ছে সবচেয়ে দরিদ্র দেশ। এ অবস্থায় সৌদি আগ্রাসনে বহু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ইয়েমেনের জনগণের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। ফলে শ্রমিক শ্রেণীসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ইয়েমেনের শ্রমিকদের ইউনিয়ন এক রিপোর্টে জানিয়েছে সৌদি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৯০০ শ্রমিক নিহত এবং ১৯ হাজার হাজার ৫০০ শ্রমিক আহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় ইয়েমেন যুদ্ধে হতাহতদের অর্ধেকই হচ্ছে শ্রমিক।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, একজনের মৃত্যু মানেই কেবল একটি মাত্র জীবনের অবসান নয়। এর ফলে অবশিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। ইয়েমেনের প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক নিহত হওয়ার অর্থ হচ্ছে লাখ লাখ পরিবারের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাওয়া। এক কথায় বলা যায় একজন কর্মক্ষম মানুষের মৃত্যু পরিবারের জীবিত অন্য সদস্যদের জীবনে নিয়ে আসে কঠিন পরিস্থিতি। এর ফলে যেমন ভয়াবহ সামাজিক সংকট তৈরি হয় তেমনি জাতীয় পর্যায়েও ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ে।

যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের শ্রমিকদের একটি বিরাট অংশ কাজ হারিয়েছে। কেননা এই যুদ্ধের ফলে কারখানা, ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র, বিমানবন্দরগুলো, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট, দোকানপাটসহ ৮০ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। গত প্রায় ছয় বছর ধরে অব্যাহতভাবে সৌদি বিমান হামলার কারণে ইয়েমেনের আবাসন প্রকল্প কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনের শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অব্যাহত আসন ও কঠোর অবরোধের কারণে ইয়েমেনের ৬৫ শতাংশ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে আর ৮০ শতাংশ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে জীবন যাপন করছে। মোটকথা, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আগ্রাসন দেশটির জনগণের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

এ কারণে জাতিসংঘ এবং ঘোষণা করেছে একবিংশ শতাব্দীতে ইয়েমেনে সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটতে চলেছে। জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সৌদি আগ্রাসনের কারণে ২ কোটি ১০ লাখ ইয়েমেনি চরম খাদ্য সংকটের সম্মুখীন। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে দুর্ভিক্ষ হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক কর্মকর্তা মার্ক লুকুক গত ফেব্রুয়ারিতে এক প্রতিবেদনে বলেছেন ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে। এছাড়া পাঁচ বছরের নিচে ৪ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। তিনি বলেছেন এমনিতে যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই দরিদ্র এ দেশটিতে খাদ্য সংকট বজায় ছিল কিন্তু যুদ্ধের পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই যুদ্ধ ইয়েমেনের সবকিছুকেই ধ্বংস করে দিয়েছে বলে তিনি জানান।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪

ট্যাগ