মে ১০, ২০২১ ১৮:১২ Asia/Dhaka

ইরাকে একজন নাগরিক অধিকার কর্মী হত্যার প্রতিবাদে ধর্মীয় নগরী কারবালায় বহু মানুষ বিক্ষোভ করেছে। কিন্তু বিক্ষোভের এ সুযোগে একদল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কারবালায় অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালিয়েছে এবং ভবনের দেয়ালে অগ্নি সংযোগ করেছে।

বিভিন্ন সময় বিক্ষোভের আয়োজনকারী এবং সরকার বিরোধী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এইহাব যাওয়াদ আল-ওয়াযনি গতকাল কারবালা শহরে নিহত হয়। কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। ওই হত্যাকাণ্ডের পরপরই কারবালায় ইরানের কনস্যুলেট ভবন থেকে এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে এর নিন্দা জানানো হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নাগরিক অধিকার কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যায় গত দুই বছরে ইরাকে নিরাপত্তাহীনতা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত বছর অক্টোবরে ইরাকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সহিংসতায় শতাধিক মানুষ হতাহত হয়। এ ছাড়া গত এক বছরে সহিংসতা ও গুপ্তহত্যায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। এ বিষয়ে কারবালায় ইরানি দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে এ ধরণের সহিংসতা ইরাককে আরো বেশী নিরাপত্তাহীন ও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইরান বিরোধী একটি চক্র তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য গত দুই বছর ধরে ইরাকে বিক্ষোভসহ যে কোনো সামাজিক সংকট বা ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং সুযোগ পেলেই তারা ইরাকে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক দফতরগুলোতে হামলা চালায়। এর আগে ২০১৮ সালে বসরায় এবং ২০১৯ সালে নাজাফে ইরানি কন্স্যুলেট ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এবার কারবালায় ইরানি দফতরে হামলার ঘটনা ঘটল। ইরাকে ইরানের দফতরগুলোতে হামলার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। 

অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, ইরাকে অবস্থিত বাইরের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা এবং কোনো কোনো দেশের পক্ষ থেকে উস্কানিতে ইরানের দফতরগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটছে। ইরাকে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্টিফেন হাইকি কোনো দলিল প্রমাণ ছাড়াই ইরাকে নিহত নাগরিক অধিকার কর্মী এইহাব যাওয়াদ আল-ওয়াযনি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে দাবি করেছেন, ইরানঘনিষ্ঠ গ্রুপগুলো ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অথচ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমি আল জাজিরা টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইরানিরা প্রমাণ করেছে তারা অবাস্তব কিছু করে না এবং  তারা সবসময় ইরাক সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়ে এসেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাগদাদে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের ইরান বিরোধী ভিত্তিহীন বক্তব্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে তেহরান-বাগদাদ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে ইরাকে 'আল-সারখি' 'জোখের' ও 'ইয়ামানি' নামক বিভ্রান্ত কয়েকটি শিয়া গ্রুপ রয়েছে যারা ইরান বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত। ওই গ্রুপগুলোর সাথে ইরাকের সাবেক বাথিষ্ট এবং বাইরের কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে যারা কিনা ইরান ও ইরাকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধী। সাদ্দামের বাথিষ্ট সমর্থকরা প্রায়ই কারবালায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেয়।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে গতকাল কারবালায় ইরানি দফতরে হামলার একই সময়ে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি সেনাদের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০

 

ট্যাগ