মে ১৩, ২০২১ ১৮:৫৫ Asia/Dhaka
  • বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরের পর ইসরাইলের আরো একটি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেপণাস্ত্র
    বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরের পর ইসরাইলের আরো একটি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেপণাস্ত্র

ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের আলকুদস্ তলোয়ার বা সাইফুল কুদস্ শীর্ষক জিহাদ তাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ-সংগ্রামের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা করেছে। 

গত সোমবার বা তিন দিন আগে শুরু হওয়া এই অভিযান দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শক্তির ভারসাম্যের নতুন সমীকরণ তুলে ধরেছে। 

মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ সংলগ্ন অঞ্চল ও শহরে ফিলিস্তিনিদের বসত-বাড়ি ও নানা স্থাপনা দখল করার ইসরাইলি সন্ত্রাসী তৎপরতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক অভিযান শুরু করে গাজা-ভিত্তিক সংগ্রামী ফিলিস্তিনি দল হামাস ও ইসলামী জিহাদসহ ফিলিস্তিনের অন্য কয়েকটি সংগ্রামী দল। আলকুদস শহরের আল-জাররাহ অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রচেষ্টাও অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণভাবে রুখে দিয়েছে স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে ইসরাইলের প্রহসনের আদালতও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বায়তুল মুকাদ্দাসে আল-আকসা সংলগ্ন অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি, আলআকসা মসজিদের অবমাননা এবং বৃহত্তর কুদস শহরের নানা অংশ থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ অভিযানকে হামাস আগুন নিয়ে খেলা বলে ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়েছিল!

ইহুদিবাদী ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে রাজধানী করার লক্ষ্যে এই শহরে ইহুদিবাদীদের সংখ্যা ও বসতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং ইসলামী ও অ-ইহুদি ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস করে গোটা শহরের ইহুদিকরণ করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে মেতে উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে বিশ্ব-কুদস দিবসে আল-আকসা মসজিদে ও এর আশপাশে অবস্থিত ফিলিস্তিনিদের ওপর হানাদার ইসরাইলি পুলিশ পাশবিক হামলা চালালে এ সময়ও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা ওই পবিত্র মসজিদের ভেতর ও বাহির থেকে  অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ পন্থায় ইট-পাথর, জুতা ও চেয়ার নিক্ষেপ করে পাল্টা হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসী হানাদারদের মোকাবেলা করতে সক্ষম হন। পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও এর আশপাশের অঞ্চলকে ইহুদিবাদী দখলদারিত্ব থেকে রক্ষাসহ এ অঞ্চলের ইসলামী পরিচিতি টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের এই প্রাণপণ সংগ্রাম গোটা বিশ্বের মুক্তিকামী এবং সংগ্রামীদের প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

ইসরাইল আলকুদসকে পুরোপুরি গ্রাস করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে মার্কিন সরকারের কথিত শতাব্দীর লেনদেন শীর্ষক মহা-ষড়যন্ত্রের আওতায়। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই মার্কিন সরকার আলকুদস্ তথা বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

ইহুদিবাদী ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শক্তির ভারসাম্যের অন্যতম নতুন দিক হল এই প্রথম ফিলিস্তিনের সংগ্রামী তথা জিহাদি দলগুলো ইহুদিবাদী ইসরাইলকে আগেই সতর্ক করে দিয়ে ও সময়সীমা ঘোষণা করে সেই সময়সীমা মোতাবেক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি অবস্থানে। ইহুদিবাদী ইসরাইল অবৈধভাবে সৃষ্টি হওয়ার পর এই প্রথম ইসরাইলি শাসক-চক্র এই বার্তা পেল যে তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালালে ও বায়তুল মুকাদ্দাসের মত পবিত্র অঞ্চলকে গ্রাস করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে থাকলে সংগ্রামী ফিলিস্তিনি দলগুলো তা সহ্য করবে না।

আরও একটি লক্ষণীয় দিক হল এই প্রথম সংগ্রামী ফিলিস্তিনিরা মাত্র কয়েক মিনিটে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইল অধিকৃত শহরগুলোতে নিক্ষেপ করতে সক্ষম হয়েছে এবং এইসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব ও এমনকি তেলআবিব থেকেও অনেক দূরে হাইফা শহরেও আঘাত হেনেছে! অথচ এক সময় এই ফিলিস্তিনিরা কেবল পাথর ছুঁড়ে ইসরাইল বিরোধী গণ সংগ্রাম বা ইন্তিফাদা শুরু করেছিল! ইসরাইল এই বার্তাও পেল যে হামাসের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের যে কোনো টার্গেটে ও শহরে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সেসব ঠেকাতে সক্ষম নয়। হামাস ও জিহাদ এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে ইসরাইলি বিশ্লেষক ও পত্র-পত্রিকাগুলোও মন্তব্য করেছে।

দখলদার ইহুদিবাদীদের  মধ্যে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা অধিকৃত সবগুলো শহরেই ইঁদুরের মত বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছে ফিলিস্তিনি ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে! বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরের পর ইসরাইলের আরো একটি বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে ফিলিস্তিনিদের ক্ষেপণাস্ত্র।  

এটা স্পষ্ট এখন ফিলিস্তিনিরা সম্মান ও স্বাধীনতা অর্জনের প্রশ্নে  বেসামরিক অঞ্চলে কাপুরুষোচিত ও বর্বর ইসরাইলি হামলাকে সহ্য করে যাচ্ছেন। তারা কুদস শহর ও আল-আকসা মসজিদের ফিলিস্তিনি পরিচিতি ধরে রাখার জন্য আগের চেয়েও বেশি দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ। আর এ কারণেই দখলদার ইসরাইলি সেনা ও পুলিশের ব্যাপক বাধা সত্ত্বেও আজ (বৃহস্পতিবার) এক লাখ ফিলিস্তিনি আল-আকসা মসজিদে ঈদের জামায়াতে অংশ নিয়েছেন।

অন্যদিকে মোনাফিক ও ইসরাইলের বন্ধুপ্রতীম তথাকথিত মুসলিম সরকারগুলোরও জানা উচিত যে ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ ও জোরদারের পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং পেছন থেকে ছুরি মারার পদক্ষেপ হলেও এর ফলে সন্ত্রাসী ইসরাইলের ও তাদের শেষ রক্ষা হবে না। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ