জুন ২১, ২০২১ ১৬:২৩ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। এর আগে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ সংক্রান্ত খবর দেয়ার পর এখন পেন্টাগন এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করল।

পেন্টাগনের মুখপাত্র জেসিকা ম্যাকনালতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুইদ অস্তিন চলতি গ্রীষ্মের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন তাদের কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সৈন্য কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এসব সরঞ্জামের মধ্যে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র দাবি করেন, এসব সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে অনেকগুলোই মেরামত এবং দেশের ভেতরেই  সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে আর অবশিষ্ট সরঞ্জাম ওই অঞ্চলেই মোতায়েন রাখা হবে। তবে পেন্টাগনের এই মুখপাত্র চীনকে মোকাবেলার জন্য এসব আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। কেননা পূর্বে এ ধরনের কিছু কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিল।

চলতি মাসের দুই তারিখে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুইদ অস্তিনের বৈঠকের পর পশ্চিম এশিয়া থেকে এসব সামরিক সরঞ্জাম কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়া হল। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে মার্কিন দৈনিক ওয়াল  স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে ইরাক, কুয়েত, জর্দান ও সৌদি আরবে মোতায়েন  আমেরিকার আটটি 'পেট্রিয়ট' বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা  দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া সৌদি আরবে মোতায়েন 'থাড' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এসব সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার একইসাথে এসব সমরাস্ত্র দেখাশোনা ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সেনাদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এসব সেনা সংখ্যা কয়েশ' হতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন দাবি করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় তাদের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতির কারণে এ অঞ্চলে বিরাজমান বড় ধরনের হুমকি মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। তাই সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও তা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কেননা এ অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আকাশ ও সমুদ্র পথে পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন রয়েছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির অজুহাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এসব আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও সামরিক ঘাটিতে ইয়েমেনি যোদ্ধাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবেলায় আমেরিকার এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা  খুব একটা কাজ করেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর তিনি ইয়েমেন যুদ্ধের কারণে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের প্রতি সামরিক সমর্থন বন্ধ করার কথা বলেছিলেন। তার ওই ঘোষণাকে রিয়াদ-ওয়াশিংটনের সম্পর্কে অবনতির ইঙ্গিত বলেও অনেকে মনে করেছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যদিও পেন্টাগন পশ্চিম এশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম কমিয়ে আনার যে ঘোষণা দিয়েছে সেটাকে স্বাভাবিক এবং হাল্কা করে দেখানোর চেষ্টা করলেও প্রকৃত কারণ নিয়ে এরই মধ্যে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীন ও রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলার বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এজন্য তাদের সামরিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। কেননা বাইডেন প্রশাসন তাইওয়ানকে সমর্থন দেয়া এবং দক্ষিণ চীন সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় চীনের কথিত হুমকি মোকাবেলায় প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এ অবস্থায় পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম কমিয়ে আনার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছন।#

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ