জুলাই ২৪, ২০২১ ১৫:১২ Asia/Dhaka
  • মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরাকের মাটিতে মার্কিন সেনাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে সম্প্রতি ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেন যে মন্তব্য করেছেন তাতে দেশটিতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইরাকের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলো এবং রাজনৈতিক নেতারা এই সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন।

গতকাল (শুক্রবার) আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাগদাদ এখনো আমেরিকার সাহায্য চায় এবং দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা রক্ষা করতে ইচ্ছুক।

তিনি বলেন, "উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে মোকাবেলার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন যে আন্তর্জাতিক জোট রয়েছে তাদের সঙ্গে আমাদের কাজ করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের মার্কিন সেনা প্রয়োজন।"

ইরাকে মোতায়েন মার্কিন সেনা

যখন আমেরিকা ও ইরাকের কর্মকর্তারা মার্কিন সামরিক মিশন অবসানের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে যাচ্ছেন তখন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্য দিয়েছেন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমি সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে। ঘোষণা অনুযায়ী, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে তবে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার জন্য এবং দায়েশ-বিরোধী লড়াইয়ে বিমান সহায়তা দেয়ার নামে কিছু সেনা ইরাকে রাখা হবে। গত কয়েক বছর ধরে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের জনপ্রিয় প্রতিরোধকারী সংগঠন হাশদ আশ-শাবির সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু মাহাদি আল-মুহান্দিসের এর হত্যাকাণ্ডের পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।

কায়েস খাজালি

ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকালের বক্তব্যের বিরোধিতা করে হাশদ আশ শাবি বলেছে, ইরাকের প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলোর ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইল যে গোয়েন্দাবৃত্তি চালাচ্ছে তাকে সুরক্ষা দিতেই মার্কিন সেনারা ইরাকে অবস্থান করছে। এ অবস্থায় ইরাক থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা জরুরি।

এদিকে, ইরাকের অন্যতম প্রতিরোধকামী সংগঠন আসাইব আহলুল হকের মহাসচিব কায়েস খাজালি বলেছেন, ইরাকের যে সমস্ত মানুষ তাদের সামরিক বাহিনী এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে গর্বিত তাদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেনের বক্তব্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, সবাই জানেন মার্কিন সেনা ইরাকে থাকা কোনমতেই বাগদাদের স্বার্থের সাথে জড়িত নয় বরং ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তিনি মার্কিন সেনাদেরকে ইরাক এবং ইরাকের জনগণের এক নম্বর শত্রু বলে উল্লেখ করেন।#

পার্সটুডে/এসআইবি/২৪

ট্যাগ