জুলাই ৩০, ২০২১ ১৬:১৯ Asia/Dhaka

লেবাননের নতুন প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির ওপর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব পড়েছে। এর আগেও তিনি অস্থায়ীভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিন্তু দুই বছর পর তিনি ওই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।

লেবাননের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হবেন একজন খ্রিস্টান, প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন সুন্নি মুসলমানের পক্ষ থেকে এবং পার্লামেন্ট স্পিকার হবেন একজন শিয়া মুসলমান। সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৭২ জনের সমর্থন নিয়ে নাজিব মিকাতি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তার উপরই মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব পড়েছে। লেবাননের পার্লামেন্টে ১২৮জন প্রতিনিধি রয়েছেন। এর মধ্যে সম্প্রতি দুই জন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আটজন ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে বর্তমানে সংসদ সদস্যের সংখ্যা ১১৮ জন। এদের মধ্যে ৪২ জন সংসদ সদস্য নাজিব মিকাতির বিরুদ্ধে ভোট দেন। তারপরও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

নাজিব মিকাতি এর আগে ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এবং ওই বছরেরই ১৯ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এরপর আবারো ২০১১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১৩ সালে তিনি ইস্তফা দিলেও পরের বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য তৃতীয়বারের মতো ফের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হাতে পেলেন। লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায় দেশটি দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটা পথ খুঁজে পেয়েছে।

এদিকে, লেবাননের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠায় বাইরের অনেক দেশ প্রতিক্রিয়া দেখতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে শর্ত সাপেক্ষে তারা আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের সঙ্গে লেবাননের সহযোগিতার বিষয়টিকে সমর্থন জানাবে। অন্যদিকে আরব দেশগুলোর মধ্যে মিশর ও জর্দান নাজিব মিকাতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারও একই মনোভাব দেখিয়েছে। এদিকে সৌদি আরব সবসময়ই হিজবুল্লাহর উপস্থিতি বা অংশ গ্রহণে লেবাননে যে কোনো সরকার গঠনের বিরোধী সেই দেশটি এখনো নাজিব মিকাতির দায়িত্ব নেয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তাই ধারণা করা হচ্ছে নাজিব মিকাতি হয়তোবা স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন এক নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে সক্ষম হবেন যার প্রতি বাইরের অনেক দেশের সমর্থন থাকবে।

তবে নাজিব মিকাতি  তিনটি বিষয়ে অবহিত আছেন। যার প্রথমটি হচ্ছে লেবাননের জনগণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাই তারা মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে দ্রুত এ পরিস্থিতির অবসান চান। দ্বিতীয়ত তিনি এটাও জানেন তার প্রধানমন্ত্রীত্বের এ দায়িত্ব অস্থায়ী। কেননা যদি কোনো কারণে পিছিয়ে না যা যায় তাহলে আগামী বছর লেবাননে সংসদ নির্বাচন  অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে পাঁচ বছর নির্বাচন পিছিয়ে গিয়েছিল। তাই তাকে আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে এবং এটার জন্য নতুন মন্ত্রিসভা, সংসদ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে, নাজিব মিকাতি এটাও জানেন লেবাননে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট চলছে এবং জনগণ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছে।

এ ছাড়া ইসরাইল ও সৌদি আরব তাদের অনুচরদের মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করে সবসময়ই লেবাননের নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। তাই এসব দিক বিবেচনা করে নাজিব মিকাতিকে খুব সতর্ক হয়ে পথ চলতে হবে।#    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩০

ট্যাগ