আগস্ট ০৪, ২০২১ ১৮:১৮ Asia/Dhaka

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমুদ্র উপকূলে কয়েকটি জাহাজ ছিনতাই নাটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বার্তাসংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, অন্তত চারটি জাহাজ আমিরাতের উপকূল থেকে ছিনতাই হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরেকটি জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়েছিল কয়েকটি বার্তাসংস্থা।

এদিকে এ সংক্রান্ত খবরাখবর প্রকাশের একই সময়ে পশ্চিমা ও ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগর এলাকায় ইরানি সেনাবাহিনীর জাহাজ চলাচলের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ খাতিব যাদেহ এ ধরনের খবর প্রত্যাখ্যান করে মিথ্যা গুজব না  ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পাশ্চাত্য ও ইসরাইলকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, এ অঞ্চলে জাহাজে হামলা কিংবা নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে যা হচ্ছে তা খুবই সন্দেহজনক।

এ অবস্থায় ওমান ও পারস্য উপসাগর এলাকায় তেল ট্যাংকারের বিরুদ্ধে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরি করে কারা সবচেয়ে বেশি ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

প্রথমত, তেল ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টির জন্য যারা চেষ্টা করছে তারা আসলে এ ধরনের নাটক সাজিয়ে ওমান ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আগ্রাসনের নীল নকশা তৈরি করছে। গভীর এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র,  ব্রিটেন, ইসরাইল, সৌদি আরব ও আরো কয়েকটি আরব দেশ জড়িত রয়েছে। এ ব্যাপারে মার্কিন সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল জোসেফ ড্যানফোর্ডের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ও বাব আল মান্দাব প্রণালীতে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচলের জন্য জোট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোন্‌ কোন্ দেশ এ পরিকল্পনায় সমর্থন দেবে সেটা স্পষ্ট হবে।

এ অঞ্চলে সংকট সৃষ্টির দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে শত্রুরা তাদের অশুভ লক্ষ্য হাসিলের জন্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি জাহাজে হামলা ও ছিনতাইয়ের যে নাটক সাজানো হয়েছে তারও মূল উদ্দেশ্য ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এ ক্ষেত্রে তাদের দুটি লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে পরমাণু বিষয়ক আলোচনাকে বানচাল করে দেয়া এবং দ্বিতীয়ত, এ অঞ্চলে ইরানের সামরিক ও প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়া। তাই এটা অসম্ভব নয় যে দখলদার ইসরাইল ও তার মিত্ররা তাদের সম্প্রসারণকামী লক্ষ্য অর্জনের জন্য ওমান ও পারস্য উপসাগর এলাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে যাতে ইরানকে সংকটে ফেলা যায়।

গত শুক্রবার ওমান সাগরে ইসরাইলি জাহাজে ড্রোন হামলার উদ্দেশ্য ছিল এটাই। হামলার পরপরই ইসরাইলি কর্মকর্তারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই ‌এ ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করেন এবং ইরানকে এর কঠিন জবাব দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। আরব রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল বারি আতাওয়ান দৈনিক রাই আল ইয়াওমে লেখা এক নিবন্ধে জাহাজে ড্রোন হামলা কিংবা ছিনতাইয়ের নাটকের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখেছেন, ভিয়েনায় চলমান পরমাণু আলোচনা এবং ইরানের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসির শপথ গ্রহণ প্রস্তুতির একই সময়ে এ ধরনের নাটক সাজানো হয়েছে।

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন ইসরাইল যদি ইরানের বিরুদ্ধে হঠকারী কোনো পদক্ষেপ নেয় তাহলে তারা অনেক বড় ভুল করবে। কেননা ইরান এর কঠিন জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৪

ট্যাগ