সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ১৭:১২ Asia/Dhaka

ইরান থেকে পাঠানো তেলের প্রথম চালান লেবাননে গিয়ে পৌঁছেছে। তেলবাহী জাহাজ প্রথমে সিরিয়ায় যায় এবং সেখানে তেল খালাস করে তা ট্যাংকারে করে লেবাননে পাঠানো হয়। তেল ট্যাংকার লেবাননে পৌছলে দেশটির জনগণ পতাকা নাড়িয়ে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানায়। ইরানের দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজও আজ সিরিয়ার পানি সীমানা অতিক্রম করেছে এবং বন্দরের দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

লেবাননে ইরানের তেল পাঠানোর ঘটনাকে এটার বিরোধী দেশগুলোও একে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর জন্য বিরাট বিজয় হিসেবে দেখছে যদিও তারা মুখে তেমন কিছু বলছে না। ইরানের তেল পাঠানোর বিষয়টি কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ইরানের তেলবাহী প্রথম জাহাজটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথ অতিক্রম করে তা মিশরের সুয়েজ প্রণালী অতিক্রম করতে হয়েছে যা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক দেশের বিরোধিতা উপেক্ষা করে সেই তেল শেষ পর্যন্ত সিরিয়ার বন্দর হয়ে লেবাননে পৌছতে সক্ষম হয়েছে। ইরান ও হিজবুল্লাহর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এ কাজ সম্পন্ন করা হয়।

 দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, মার্কিন রক্তচক্ষু ও নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননে ইরানের তেল পাঠানোর ঘটনা থেকে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ইরান ও হিজবুল্লাহর শক্তিমত্বার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তেলবাহী জাহাজ ইরানের বন্দর ছাড়ার পরপরই হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ শত্রুদেরকে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন, ওই জাহাজ লেবাননের ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে এবং শত্রুরা যে কোনো হুমকি বা নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কঠিন প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবে। হিজবুল্লাহর এই কঠোর হুশিয়ারির কারণে এমনকি দখলদার ইসরাইলও ইরানের তেলবাহী জাহাজের পথ আটকানোর সাহস পায়নি। সর্বশেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত লেবাননের জনগণের কাছে ইরানের তেল বন্টনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। 

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লেবাননে ইরানের তেল পাঠানোর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও এ অঞ্চলে তাদের আরব মিত্রদের জন্য বিরাট পরাজয়। কেননা এতে করে ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভেস্তে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আরব মিত্ররা ভেবেছিল কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এবং জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করে লেবাননে রাজনৈতিক গণ্ডগোল বাধানো যাবে এবং হিজবুল্লাহকে জনগণের বিরুদ্ধে দাড় করানো যাবে। কিন্তু এখন তেল সংকটের অজুহাতে হিজবুল্লাহকে কেউ অভিযুক্ত করতেতো পারবে না বরং লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান আরো শক্তিশালী হলো।

অন্যদিকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও লেবাননে জ্বালানি তেল পাঠিয়েছে ইরান যা কিনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক এবং তাদের পরাজয়।  সিরিয়ার বিরুদ্ধেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বলবত রয়েছে। এ অবস্থায়, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক বড় ধাক্কা ও অপমানজনক। কেননা এই তিন দেশের মধ্যকার সহযোগিতাকে বানচাল করার জন্য গত দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বহু চেষ্টা করে আসছে। দৈনিক রাই আল ইয়াওমের সম্পাদক আব্দুল বারি আতাওয়ান লেবাননে ইরানের তেল পাঠানোর ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের আরব মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরান, সিরিয়া ও লেবাননের জন্য বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, ইরান এমন সময় তেল পাঠিয়ে লেবাননকে বড় সংকট থেকে রক্ষা করেছে যখন আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। একসঙ্গে এ দুটি ঘটনার দুটি দিক রয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের কোনো দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনা করে না এমনকি তাদের মিত্র দেশ হলেও না এবং দ্বিতীয়ত, এটা প্রমাণিত হয়েছে ইরান তার মিত্রদেরকে কখনো একা ফেলে রেখে যাবে না।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৮            

ট্যাগ