অক্টোবর ১৬, ২০২১ ১৭:৪০ Asia/Dhaka

লেবাননের পরিস্থিতি আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী বৈরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের গুলিবর্ষণে অন্তত ৮ ব্যক্তি নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি গতকাল শুক্রবারকে সাধারণ শোক দিবস পালনের ঘোষণা দেন।

এর আগে গত বছর চার আগস্ট বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২০০ ব্যক্তি নিহত এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বিচারবিভাগ। এ কারণে বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত থেকে বিচারক তারেক বিতারকে অপসারণের দাবিতে হিজবুল্লাহ ও আমাল মুভমেন্ট এ বিক্ষোভের ডাক দেয়। ঐ বিচারকের তৎপরতাকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এই দুই সংগঠন। বিক্ষোভকারীরা তাকে আমেরিকার দাস হিসেবে অভিযুক্ত করছেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিতর্কিত ওই বিচারক দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত না করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের জন্য হিজবুল্লাহ ও আমাল মুভমেন্টের কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতাকে অভিযুক্ত করেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য দলের নেতারা ধরে নিয়েছেন, বিচারক মার্কিন স্বার্থে কাজ করছেন এবং তার প্রতি বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসের সমর্থন রয়েছে।

কোনো কোনো সূত্র বলছে, হিজবুল্লাহ ও আমাল মুভমেন্টের আয়োজিত বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে সামির জাজা গ্রুপের অনুগত অনুগত এক ব্যক্তি গুলি চালিয়েছে। এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, কয়েকটি গ্রুপের নেতৃত্বে এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে যারা দেশকে পনবন্দী করে রেখেছে। তিনি বলেন, আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে দেয়া হবে না এবং কাউকেই আমরা স্বার্থ হাসিলের সুযোগ দেব না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, লেবাননের অভ্যন্তরেই কোনো কোনো মহল ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।  এমন সময় এ গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল যখন হিজবুল্লাহ পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানি করেছে। এমনকি হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহও যখন ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানির ঘোষণা দেন তখনও লেবাননের অভ্যন্তরে কোনো কোনো মহল এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তারপরও হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থানে অটল থাকে।

ইরানের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আহমাদ দাস্তমল চিয়ান বৈরুতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের ব্যাপারে বলেছেন, লেবাননে অনেক দিন ধরেই উত্তেজনা চলে আসছে এবং দেশটি কঠিন ষড়যন্ত্রের শিকার। হিজবুল্লাহর মতো প্রতিরোধ শক্তির বিরোধীরা সেখানে গোলযোগ বাধিয়ে রেখেছে। বিদেশি মদদপুষ্ট ওই চক্রটি কখনোই চায় না লেবাননে শান্তি বজায় থাকুক এবং সেখানে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ সংগঠন থেকে জনগণের মুখ ফিরিয়ে রাখা।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকাণ্ড থেকেও প্রমাণিত হয়েছে যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে তাদের হাত রয়েছে। কেননা গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিচারকসহ লেবাননের বেশ ক'জন ব্যক্তির সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সন্দেহজনক সাক্ষাত হয়েছিল। ওই সাক্ষাতের পরই এইট মার্চ জোটের দুজন পার্লামেন্ট সদস্যকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়। এ থেকেই বোঝা যায় লেবাননের ভেতরে ও বাইরে দেশটির বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত চলছে।#      

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন

 

ট্যাগ