নভেম্বর ২৬, ২০২১ ১৮:৫১ Asia/Dhaka

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান গোষ্ঠীর শীর্ষস্থানীয় নেতা আনিস হাক্কানি বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আফগানিস্তানকে কয়েক টুকরা করতে সক্রিয়। তিনি আরও বলেছেন, মার্কিন সরকারই আফগান সংকটের উৎস।

কোনো কোনো মহল আফগানিস্তানে নানা জাতির প্রতিনিধিত্ব-ভিত্তিক ফেডারেল সরকার ও কোনো কোনো আফগান মহল দেশটিতে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছে।  

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় তালেবান ও মার্কিন সরকারের মধ্যে কাতারের দোহায় ১৮ মাস আলোচনার পর যে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল তাতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানে কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ায় নানা রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও সুপারিশ বাস্তবায়নের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আফগান বিশেষজ্ঞরা বলেন, মার্কিন সরকার কোনো জাতিকে দমিয়ে রাখতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে কয়েক ভাগ করার পদক্ষেপ নেয়। দোহা-চুক্তি এরই অংশ।

দোহা চুক্তি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে তালেবান-মার্কিন বিরোধ থেকে মনে হচ্ছে যে তালেবানদের হাক্কানি গ্রুপ ওই চুক্তি উপেক্ষা করে কাবুল দখল করায় আফগানিস্তানের অর্থ আটকে দিয়ে ওয়াশিংটন তালেবানকে দোহা চুক্তিতে ফিরতে বাধ্য করতে চায়।

এ অবস্থায় হাক্কানি গ্রুপ মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানকে কয়েক টুকরা করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে জনমতকে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ক্ষেপাতে চায় যাতে মার্কিন সরকারও এই চাপের মুখে তালেবানদের সহযোগী হতে বাধ্য হয়। ওদিকে পাক গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ হাক্কানি গ্রুপ, মোল্লা বারাদার-গ্রুপ ও মার্কিন সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দোহা চুক্তি লঙ্ঘন করে তালেবানের মধ্যে নিজ অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।

কিন্তু অন্য তালেবান নেতারা বর্তমান কাবুল সরকারের প্রতি বিশ্বের দেশগুলোর স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে তালেবানদের ঘরোয়া বিরোধগুলো মিটিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন যাতে মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে হস্তক্ষেপের কোনো অজুহাত দেখাতে না পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে তীব্র জাতিগত ও ধর্মীয় দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রাখায় আফগান জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৬          

 

 

ট্যাগ