ডিসেম্বর ৩১, ২০২১ ১৬:০০ Asia/Dhaka

ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আচেহ প্রদেশের কাছে সাগর থেকে অন্তত ১২০ জন রোহিঙ্গাকে ১১৩ দিন পর উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। উদ্ধার হওয়াদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তাদেরকে নিকটবর্তী নৌবন্দরের কাছে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

একটি কাঠের নৌকায় এসব রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, কাঠের ওই নৌকাটিতে ফুঁটো দেখা দিয়েছিল এবং এর ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকদিন ধরেই ইন্দোনেশিয়ার কাছে সাগরে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ওই নৌকাটি ভাসছিল।

গত বুধবার ইন্দোনেশিয়া সরকার জানায়, তারা নৌকাটির খারাপ অবস্থার কথা বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে স্থলভাগে নিয়ে আসবে।

আপাতত উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের স্থান হয়েছে আসেহ প্রদেশের ক্রুয়েঙ গুকুহ বন্দরে। ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের বহনকারী কাঠের নৌকাটিকে অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর পশ্চিম-বহরের কমান্ড মুখপাত্র কর্নেল লা ওদি এম হলিব বলেন, উঁচু ঢেউ ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যহত হয়েছে। রোহিঙ্গাবাহী ভাসমান নৌকাটিকে ধরতে ঘণ্টায় ৫ দশমিক ৭ মাইল পথ অতিক্রম করছিল নৌবাহিনীর জাহাজ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু পর নৌকাটিকে নিরাপদে ডকে ভেড়ানো সম্ভব হয়।

উদ্ধারের পর প্রবল বর্ষণের মধ্যে কর্তৃপক্ষ বাসে করে রোহিঙ্গাদের একটি সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায়। কর্নেল লা ওদি এম হলিব বলেন, সব শরণার্থীদের করোনা পরীক্ষা করা হবে।

অন্য এক খবরে বলা হয়, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ধরে চলে এ উদ্ধার অভিযান।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের নেতা বদরুদ্দিন ইউনুস জানান, বিরুয়েন বন্দর থেকে ৬০ মাইল দূরে সাগরে গত রোববার জেলেরা প্রথম নৌকাটিকে দেখতে পান। জেলেরা ওই নৌকার আরোহীদের খাবার, পানি ও পোশাক সরবরাহ করেন। নৌকাটিতে ৬০ নারী, ৫১ শিশু ও ৯ জন পুরুষ ছিলেন। তারা জানান যে, তারা মালয়েশিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন; ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার এতদিন ধরে  সাগরে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন।#

পার্সটুডে/ আবুসাঈদ/৩১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ