জুন ২৭, ২০২২ ১৮:৪১ Asia/Dhaka

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের কর্মকর্তারা সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও এবং এখন পর্যন্ত দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যা ১০০ জন বলে ঘোষণা দিলেও সেদেশে রক্তাক্ত সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

আফগানিস্তানের পাঞ্জশির এলাকায় সংঘর্ষ চলছে এবং কান্দাহারসহ কুনার প্রদেশের বালখাব এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস বিস্ফোরণের দায়িত্ব স্বীকার করেছে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় চলমান এসব সংঘাত ও সহিংস হামলা শুধু যে ওই দেশটির জন্য অশুভ ইঙ্গিত তাই নয় একইসাথে দেশ পরিচালনায় তালেবানের দুর্বলতাকেও তুলে ধরেছে। এ কারণে আফগানিস্তানের শিয়া ওলামা পরিষদ বালখাব এলাকায় সহিংস পরিস্থিতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সংঘাত অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তালেবান সরকার যদিও সাবেক কর্মকর্তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং তাদের এ পদক্ষেপকে যদিও রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ কমিয়ে আনার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে কিন্তু তাদের এ পদক্ষেপ স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গঠনমূলক নয়। এ ব্যাপারে আফগান রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল হামিদ আরেফি বলেছেন, আফগানিস্তান বহু জাতি, ধর্ম ও বর্ণের দেশ এবং বিভিন্ন সময়ে তারা বাইরের আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছে। এ অবস্থায় টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা সবচেয়ে জরুরি। অর্থাৎ যেসব কর্মকর্তা দেশে ফিরে এসেছে তাদের নিজ ধর্মীয় অঙ্গন কিংবা গোত্রের মধ্যে প্রভাব না থাকলেও প্রশাসন পরিচালনায় তাদের দক্ষতা রয়েছে এবং এ ধরণের লোককে কাজে লাগানো উচিত। কিন্তু সংঘাত বন্ধে এ পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। 

আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় যে সংঘর্ষ চলছে তার পেছনে বিশেষ লক্ষ্য রয়েছে এবং এ থেকে বোঝা যায় তালেবান ফের ক্ষমতায় এলেও জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিতে তারা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি তালেবান গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও চরমে উঠেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে তারা হাক্কানি তালেবান ও কান্দাহারি তালেবান নামে আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আফগান রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোসলেম আখলাকি বলেছেন, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিরাজমান সংকট দূর করতে হলে তালেবান সরকারকে অবশ্যই জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হবে। কেননা শত্রুরা আফগানিস্তানকে দুর্বল করার জন্য  যে কোনো সুযোগকে কাজে লাগাতে পিছ পা হবে না এবং এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তালেবানকে আরো কঠিন সমস্যায় ফেলে দেবে।

যাইহোক, ৯০এর দশকের শেষের দিকে প্রথমবার তালেবান ক্ষমতায় এসে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও এবার জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির জন্য তাদেরকে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে পথ চলতে হবে। কারণ দেশটির অতীত ইতিহাসের দিকে তাকাল দেখা যাবে এককভাবে কোনো দল বা গোষ্ঠী ওই  দেশটিতে শাসন করতে পারবে না। কিন্তু তালেবান অতীত থেকে শিক্ষা না নিয়ে এককভাবে দেশ শাসন করার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের পলাতক সাবেক কর্মকর্তাদের দেশে ফেরানোর পদক্ষেপ তালেবানের দৃষ্টিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ভালো পদক্ষেপ হলেও তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করার জন্য যথেষ্ট নয়। সাম্প্রতিক সংঘাতময় পরিস্থিতিই তার প্রমাণ। #         

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ