জুন ৩০, ২০২২ ১৮:২০ Asia/Dhaka

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সাঈদ মোহাম্মদ আলী হোসেনির সঙ্গে সাক্ষাতে ভ্রাতৃ ও বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যৌথ কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে তেহরান সফরে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে ইসলামাবাদের প্রস্তুতির কথা জানান। এছাড়া বৈঠকে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ইরানি সীমান্তের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হন এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে আরো উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিজেদের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন। 

ইরানি রাষ্ট্রদূত এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চোরাচালান রোধে দুই দেশের সীমান্তে বাণিজ্য বৈধ করার ওপরও  গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দৃঢ় ইচ্ছা থেকে বোঝা যায় ক্ষমতাসীন মুসলমি লীগ এবং তার শরীকদলগুলোর সবাই ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে প্রবল আগ্রহী।  

বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক চোরাচালানহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে এবং এসব সংকট দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।  

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে ব্যাপক মাত্রায় মাদক পাচার এবং দুই দেশের অভ্যন্তরে উগ্র সন্ত্রাসীদের অবাধে যাতায়াতের ফলে বিষয়টি এখন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আর এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে কাবুলের সাথে ইসলামাবাদের সম্পর্ক মাঝে মাঝেই চরম তীক্ততায় রূপ নিয়েছে।   

অবশ্য এটা উল্লেখ করা উচিত যে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ হওয়ার কারণে পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জগুলো ইরানের জন্য একই সমস্যা তৈরি করেছে। তাই সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা এবং সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে ইরান ও পাকিস্তানে মাদক চোরাচালান বন্ধের মতো এসব অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় দ্বিপাক্ষিক এবং ত্রিপক্ষীয় পদক্ষেপ দ্বিগুন করা বর্তমান সময়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের সাথে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য এসব অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে দুই দেশকে ভবিষ্যতে অনুপ্রাণিত করবে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি সীমান্তে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচার ঠেকাতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলো ব্যর্থ হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।

 

পার্সটুডে/ বাবুল আখতার /৩০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ