সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ ১৯:২১ Asia/Dhaka

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ভারতে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ওই আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেছেন, ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানো আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে।

পাক প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ওই অঞ্চলের জনগণের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার দেয়া উচিত। তিনি আরো বলেছেন, বর্তমানে পাকিস্তানে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সর্বাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের দুর্দশার একটি বড় কারণ হচ্ছে বিভিন্ন দেশে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান যা খুবই উদ্বেগের বিষয়। 

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে মার্কিন সরকার ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা ওই হামলার জন্য আল কায়েদা ও তালেবানের হাত থাকার অভিযোগ তুলে এমনভাবে ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণা চালাতে থাকে যাতে সারা বিশ্বের মুসলমানদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা যায়। মার্কিন সরকার গত দুই দশক ধরে সন্ত্রাসবাদকে ইসলামের সাথে যুক্ত করে তুলে ধরার চেষ্টা চালানোয় পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ঘৃণা বহুগুণে বেড়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসলাম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের কয়েকটি দেশের ভূমিকার প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা থেকে বোঝা যায় মুসলিম দেশগুলো পাশ্চাত্যের এ ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে খুবই অসন্তুষ্ট। তার অসন্তুষ্টির বিষয়টিকেই তিনি জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে  তুলে ধরেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে তিনি পাঁচটি মুসলিম দেশের মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় মুসলিম বিদ্বেষ  ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বেই এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের অন্য অংশে কাশ্মিরসহ সমগ্র ভারতে মুসলমানদের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরে বিজেপি সরকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করায় সেখানে মুসলিম বিদ্বেষ ও অত্যাচার বহুগুণে বেড়ে গেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাসহ তাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেহরুয আয়ায বলেছেন, ভারতের মুসলমানরা যাতে সেদেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে চলে যায় সেজন বিজেপি সরকার তাদের জুলুম  অত্যাচার অব্যাহত রেখেছে। মুসলমানদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে পালনে সীমাবদ্ধতা, মুসলিম অভিবাসীদের বসবাসের অনুমতি প্রদানে নিষেধাজ্ঞা, কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে চরমপন্থী হিন্দুদের সহিংস আক্রমণের মুখে সরকারের নীরবতা ভারতে মুসলিম বিদ্বেষের বড় প্রমাণ।

এ অবস্থায় জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৪     

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ