২০১৯-০৮-০৫ ২০:১৯ বাংলাদেশ সময়

পশ্চিমা দেশগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে এসেছে। বিশেষ করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে একই অভিযোগ করার পালা।  মস্কোর পক্ষ থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে পাশ্চাত্যকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকা ও জার্মানিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গত ৩ আগস্ট মস্কোয় সরকার বিরোধী যে বিক্ষোভ হয়েছে তাতে মস্কোর মার্কিন দূতাবাস এবং জার্মানি গণমাধ্যমগুলো ইন্ধন যুগিয়েছে।  রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, জার্মান নিউজ চ্যানেল ডয়েচে ভেলে রুশ ভাষায় মস্কোর জনগণকে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাখারোভা আরো বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর এসব উসকানিমূলক তৎপরতা সত্ত্বেও শনিবারের বিক্ষোভে মাত্র দেড় হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে এবং সরকারের অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আইন ভঙ্গ করার অপরাধে পুলিশ অন্তত ৬০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে।

রাশিয়ার সরকার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে দেশটি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ওয়াশিংটনের অনুকূলে নিয়ে আসার লক্ষ্যে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে মার্কিন সরকার। মস্কোর মার্কিন দূতাবাস রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধী পক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা করার পাশাপাশি দেশটির সরকার বিরোধী গণমাধ্যমগুলোকেও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ওয়াশিংটন রাশিয়ার সরকার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে দেশটির ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করছে।  প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করছেন, তার দেশে সরকার বিরোধী অভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে পশ্চিমা দেশগুলো উঠেপড়ে লেগেছে।

আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কথিত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। এসব সংগঠন রাশিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে এবং দেশটির জনগণকে পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে।

কিন্তু রাশিয়ার জনগণের জাতীয়তাবাদী চেতনা, পাশ্চাত্যের গতিবিধিকে সন্দেহের চোখে দেখা এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে পাশ্চাত্যের এসব অপতৎরতা এখন পর্যন্ত হালে পানি পায়নি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমেরিকা যখন নিজে রাশিয়ায় এ ধরনের অপতৎপরতায় ব্যস্ত তখন ওয়াশিংটন ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগটি এখন প্রায় সত্য ঘটনায় পরিণত করে ফেলেছে।  এ সম্পর্কে রুশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার পল শারিকভ বলেছেন, আমেরিকা নিজেকে বিশ্বের একমাত্র মোড়ল বলে মনে করছে এবং নিজের মোড়লিপনা ফলানোর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো বিশেষ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়াকে বৈধ বলে মনে করছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের একাধিপত্যের যুগের অবসান হতে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।#

পার্সটুডে/এমএমআই/৫

ট্যাগ

মন্তব্য