ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ ১৩:২৯ Asia/Dhaka
  • যুব বিশ্বকাপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা: বাংলাদেশ-ভারতের পাঁচ ক্রিকেটারের সাজা

দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে বাংলাদেশের উদযাপন ঘিরে তৈরি হয়েছিল যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থতি সৃষ্টি হয়েছিল তা হালকাভাবে নেয়নি আইসিসি। আচরণ বিধির ‘লেভেল থ্রি’ ভঙ্গের দায়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মোট পাঁচ ক্রিকেটারকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আইসিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাজা পাওয়া বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার হলেন- তৌহিদ হৃদয়, শামিম হোসেন ও রকিবুল হাসান এবং ভারতের দুই ক্রিকেটার হলেন- আকাশ সিং ও রবি বিষ্ণোই। বিভিন্ন মাত্রার সাসপেনশন পয়েন্ট তাদের নামের পাশে যোগ হয়েছে। ফলে আগামী বেশ কয়েকটি ম্যাচে তারা খেলতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা সবাই আইসিসির আচরণ বিধির ২.২১ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ করেছেন। এছাড়া বিষ্ণুই আলাদাভাবে ২.৫ অনুচ্ছেদও ভঙ্গ করেছেন।

পচেফস্ট্রুমে শুক্রবারের ফাইনালে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ।

ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই ছিল উত্তেজনা। কখনও কখনও তা মাত্রা ছাড়ালে পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হয় আম্পায়ারদের। কিন্তু ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাসের মধ্যে সেই উত্তেজনা আর বেঁধে রাখা যায়নি। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের কয়েকজন।

ফাইনালের দুই অন-ফিল্ড আম্পায়ার স্যাম নোগাজস্কি ও আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক, তৃতীয় আম্পায়ার রবীন্দ্র উইমালাসিরি ও চতুর্থ আম্পায়ার প্যাট্রিক বোন্নি জেলে ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। এরপর ম্যাচ রেফারি গ্রায়েম ল্যাব্রুইয়ের প্রস্তাবিত সাজা মেনে নিয়েছে যুবারা। তাই আনুষ্ঠানিক কোনো শুনানির প্রয়োজন হয়নি।

তবে, শাস্তি হিসেবে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হৃদয় ১০ সাসপেনশন পয়েন্ট পেয়েছেন, যা ছয়টি ডিমেরিট পয়েন্টের সমান। অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার শামীম পেয়েছেন ৮ সাসপেনশন পয়েন্ট এটিও ছয় ডিমেরিট পয়েন্টের সমান। আর বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল পেয়েছেন চারটি সাসপেনশন পয়েন্ট, যা পাঁচটি ডিমেরিট পয়েন্টের সমান।

ভারতীয় পেসার আকাশ পেয়েছেন ৮ সাসপেনশন পয়েন্ট যা ছয়টি ডিমেরিট পয়েন্টের সমান। লেগ স্পিনার বিষ্ণুই পেয়েছেন ৫ সাসপেনশন পয়েন্ট যা পাঁচটি ডিমেরিট পয়েন্টের সমান।  

এক সাসপেনশন পয়েন্ট মানে হল- ওই খেলোয়াড় একটি ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্ট বা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে ‘এ’ দলের ম্যাচও এর আওতায় থাকবে।

পাঁচ ক্রিকেটারের এই শাস্তি আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কার্যকর হবে। সেটা অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে হতে পারে কিংবা সিনিয়র ক্রিকেটেও হতে পারে। পাঁচ ক্রিকেটারই দোষ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন। তাদের নামের পাশে এই ডিমেরিট পয়েন্টগুলো থাকবে পরবর্তী দুই বছর।

এই ঘটনার বাইরে আরেকটি আচরণবিধি ভাঙার কথা স্বীকার করেছেন বিষ্ণু। বাংলাদেশ ইনিংসের ২৩তম ওভারে অলরাউন্ডার অভিষেক দাস আউট হলে তার উদযাপন ছিল মাত্রাছাড়া। সে ঘটনায় পেয়েছেন আরও দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট। সব মিলিয়ে তার ডিমেরিট পয়েন্ট হলো ৭।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য