মে ২৫, ২০২০ ২০:০৮ Asia/Dhaka

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতি বিশেষ করে রাজনৈতিক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের চীন সংক্রান্ত নীতি আরও কঠোর হচ্ছে।

চীনের ঘরোয়া বিষয়েও প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে ট্রাম্প-সরকার। আর এক্ষেত্রে নানা অজুহাত ব্যবহারের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

সম্প্রতি মার্কিন সরকার চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, চীন হংকংয়ের বিষয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন অনুমোদন করায় বেইজিংয়ের ওপর ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা  সর্বোচ্চ হয়ে উঠতে পারে।

চীন যখন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্বের এক নম্বর পরাশক্তি হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন এই মার্কিন হুমকির অজুহাত হিসেবে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও-ব্রাইন বলেছেন, চীনের নতুন নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের ওপর চীনের পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে এবং এতে হংকংয়ের স্বাধীনতা বিপন্ন হচ্ছে বলে খুব সম্ভবত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মনে করতে পারেন। ফলে চীনের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

হংকংয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ, সন্ত্রাস ও অশান্তি বন্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চীন সরকার। নতুন নিরাপত্তা আইনে বিক্ষোভ মিছিলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ব্যবস্থা রয়েছে। হংকংয়ে বিক্ষোভ ও অসন্তোষের পেছনে মার্কিন উস্কানি রয়েছে বলে চীন অভিযোগ করে আসছে। মার্কিন সরকার হংকংয়ের অশান্ত পরিস্থিতির অপব্যবহার করে চীনের ঘরোয়া বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় এবং বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সামরিক ক্ষেত্রসহ নানা খাতে সুবিধা আদায়ে সচেষ্ট।

মার্কিন সরকার হংকং এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপর চীনের কর্তৃত্ব ও প্রভাবের বিষয়েও উদ্বিগ্ন। চীনের এই প্রভাব ঠেকাতে মার্কিন সরকার বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিন্ন বা কমিয়ে আনতে চাপ দিচ্ছে নিজ মিত্রদের ওপরও।

যেমন, সম্প্রতি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশকে যুক্ত করার বিষয়ে চীনের 'বেল্ট ও রোড উদ্যোগ' নামের একটি প্রকল্প থেকে ভিক্টোরিয়া সরকার বেরিয়ে না আসলে ওয়াশিংটন ক্যানবেরার সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।  চীন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত দেশগুলোকে বিপুল অংকের অর্থ ঋণ দিয়ে তাদেরকে নতজানু ও নির্ভরশীল করতে চায় বলে মার্কিন সরকার দাবি করছে। কিন্তু চীন এই অভিযোগ জোর দিয়ে নাকচ করেছে। বরং চীন বলছে এই প্রকল্পটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উন্নয়ন ঘটাবে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়েও চীনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে ট্রাম্প সরকার চীনকে ক্রুদ্ধ করেছে। চীন এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়ে আসছে এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অলীক বা কাঁচা স্বপ্ন না দেখার আহ্বান জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে চীন-মার্কিন শীতল যুদ্ধ ততই জোরদার হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এ যুদ্ধে চীন না মার্কিন স্বার্থ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫

 

ট্যাগ

মন্তব্য