মে ২৬, ২০২০ ১৭:২২ Asia/Dhaka

ইরানের দ্বিতীয় তেল ট্যাংকার ‘ফরেস্ট’-কে স্কর্ট করে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ করেছে ভেনিজুয়েলা। এর আগে ইরানের পতাকাবাহী 'ফরচুন' নামের তেল ট্যাংকারকে একইভাবে স্কর্ট করে নিয়ে যায় দেশটি। এর মাধ্যমে নিরাপত্তার পাশাপাশি ইরানের প্রতি সম্মানও জানাচ্ছে কারাকাস।

তেহরানের স্থানীয় সময় গতকাল (সোমবার) সকালে ভেনিজুয়েলার পানিসীমায় প্রবেশ করার পর দেশটির নৌবাহিনীর কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার ও বিমান বাহিনীর কয়েকটি জঙ্গি বিমান ইরানি তেল ট্যাংকারকে স্কর্ট করে ভূ-ভাগের দিকে নিয়ে যায়। 

এর একদিন আগে অর্থাৎ রোববার সকালে ইরানের প্রথম তেল ট্যাংকার ‘ফরচুন’ ভেনিজুয়েলার পানিসীমায় প্রবেশ করে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী- ইতোমধ্যে দুটো ট্যাংকারই ভেনিজুয়েলার ইআই পালিটো বন্দরে পৌঁছে গেছে। ‘ক্ল্যাভেল’, ‘ফ্যাকসন’ ও ‘পতুনিয়া’ নামের অপর তিনটি তেল ট্যাংকার ভেনিজুয়েলার পানিসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ভেনিজুয়েলা তেলসমৃদ্ধ দেশ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির তেল শোধানাগারগুলো অচল হয়ে পড়ার কারণে পরিশোধিত তেলের অভাবে পড়ে দেশটি। এ অবস্থায় সম্প্রতি দু’দেশের ওপর আমেরিকার অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের পাঁচটি তেল ট্যাংকার ভেনিজুয়েলার জন্য ৪৩ মিলিয়ন লিটার পরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য নিয়ে দেশটির উদ্দেশে যাত্রা করে। 

এ খবর পাওয়ার পর মার্কিন সরকার গত ১৪ মে হুমকি দেয়, ইরানের তেল ভেনিজুয়েলায় সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। পরবর্তীতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনিজুয়েলার স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, আমেরিকা ইরানি তেল ট্যাংকারকে বলপূর্বক বাধা দেয়ার হুমকি দিয়েছে। কোনো কোনো পশ্চিমা গণমাধ্যমে এ খবরও প্রকাশিত হয়, ইরানি তেল ট্যাংকারকে বাধা দিতে আমেরিকা ক্যারিবীয় সাগরে নৌবাহিনী পাঠিয়েছে।

ক্যারিবিয় সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর খবর প্রকাশ হওয়ার পর ইরান ও ভেনিজুয়েলা উভয় দেশের পক্ষ থেকে পাল্টা হুমকি এবং ইরানের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরে আমেরিকাকে একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন উস্কানিমূলক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'ক্যারিবিয়ান সাগর বা অন্য কোথাও যদি আমাদের তেল ট্যাংকার আমেরিকার হাতে বিপদের সম্মুখীন হয় তাহলে তারাও (আমেরিকা) অন্য কোথাও একই ধরনের বিপদের মুখে পড়বে।'

তিনি শনিবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি’র সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এরপরই আমেরিকা ইরানি ট্যাংকারে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে বলে মনে করা হচ্ছে।#  

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য