মে ৩১, ২০২০ ১৬:৫৪ Asia/Dhaka
  • ইরান ইস্যুতে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল: চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর থেকে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় পরমাণু সমঝোতায় সইকারী প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো এর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চীন ও রাশিয়া প্রতিক্রিয়া দেখানোর পর এখন ইউরোপের দেশগুলোও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছে।

জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করার তীব্র সমালোচনা করে একে খুবই দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে তারা আরো বলেছে, ‘ইরানের সব প্রকল্প শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার স্বীকৃতি দিয়েছে’।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেলও ইরানের পরমাণু ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিলের এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এতে করে তেহরানের পরমাণু প্রকল্পের ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি বহাল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। পরমাণু সমঝোতাকে সবচেয়ে উত্তম চুক্তি এবং এটাকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হওয়ার একমাত্র গ্যারান্টি বলে অভিহিত করে জোসেফ বোরেল  বলেন, আমেরিকার এ সিদ্ধান্তে আমি খুবই মর্মাহত।

 জোসেফ বোরেল

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের কারণে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টর, ফোর্দো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা, বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেহরান রিসার্চ রিঅ্যাক্টরে কাজ অব্যাহত রাখতে পেরেছিল।

২০১৮ সালের ৮মে আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন এ পদক্ষেপ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন। যদিও আন্তর্জাতিক সমাজের চাপে পড়ে ওয়াশিংটন কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিয়েছিল কিন্তু এখন তারা নিষেধাজ্ঞা ছাড় পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, আগামী দুই  মাস পর ইরান ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হবে এবং এরপর আর তা নবায়ন করা হবে না। ইরান পরমাণু তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে পম্পেও আরো বলেন, এ কারণেই দেশটির ওপর মার্কিন চাপ বাড়তেই থাকবে।

পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা শুধু যে ইরানের বাণিজ্য, জ্বালানি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তাই নয় একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাকারী বিদেশি  কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন সরকারের ইরান বিষয়ক প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক বলেছেন, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।

যাইহোক, মার্কিন সরকার ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করলে এখন পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে ইউরোপ আর ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না বলে  পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #             

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩১        

ট্যাগ

মন্তব্য