মে ০৩, ২০২১ ১৮:০৯ Asia/Dhaka

দুই দশক পর আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে আনার কাজ শুরুর একই সময়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দাবি করেছেন মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের হুমকি মোকাবেলার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেছেন সারাবিশ্বে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকবো।

আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যা বার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আরো দাবি করেছেন আফগানিস্তানে আল-কায়েদা গোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মার্কিন সরকার সেদেশে তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করে দেয়ার যে ওয়াদা করেছিলো তা বাস্তবায়ন করেছে। ১১ সেপ্টেম্বরের মত হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে বলে বাইডেন মন্তব্য করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানে তৎপর আল-কায়দাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও পশ্চিম এশিয়ায় দায়েশসহ অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে গড়ে তোলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকার বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে শীতল যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান দখল করার পর ওয়াশিংটন আল-কায়েদা নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ দমনের কথা বললেও বাস্তবতা হচ্ছে আল-কায়েদা, দায়েশ বা আইএসসহ অন্যান্য উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে তারাই পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।

১৯৮০’র দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান জবর দখল করার পর মার্কিন সরকার কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার ব্যক্তিকে আফগানিস্তানে এনে জড় করেছিল এবং তাদেরকে অস্ত্রে সজ্জিত করেছিল যাতে এই অঞ্চলে সোভিয়েতের প্রভাব ঠেকানো যায়। এখান থেকেই ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে আল-কায়েদা গোষ্ঠীর জন্ম হয়। এরপর নব্বইয়ের দশকে এসে ওসামা বিন লাদেন মুসলমানদের পবিত্র ভূমি সৌদি আরবে মার্কিন সেনা মোতায়েনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এডেন বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে এবং অন্যান্য মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় ওসামার সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে আল-কায়েদা গোষ্ঠী হামলা চালায়। সেই অজুহাতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের অজুহাতে আফগানিস্তান দখল করে এবং তালেবান সরকারের পতন ঘটায়। এরপর সিরিয়ায় বৈধ সরকারের পতন ঘটানো এবং এ অঞ্চলের ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ যোদ্ধাদেরকে দুর্বল করার জন্য দায়েশ নামক আরেক জঙ্গিগোষ্ঠীকে মাঠে নামায় যুক্তরাষ্ট্র। দায়েশ এখন হেইয়াতে তাহরীর আল শাম নাম ধারণ করে সিরিয়ায় তৎপরতা চালাচ্ছে এবং এই গোষ্ঠীর প্রতি পাশ্চাত্যের সমর্থন রয়েছে।

যাইহোক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিছুদিন আগে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন দীর্ঘ যুদ্ধ অবসানের সময় হয়ে এসেছে। আফগানিস্তান বিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি জালমাই খলিলজাদ বলেছেন আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ওয়াশিংটনের স্বার্থ পরিপন্থী।  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩

ট্যাগ