সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ ১৬:৪৪ Asia/Dhaka

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া প্রথম ভাষণে পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজের নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গত ২০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে আমিই প্রথম এখানে দাড়িয়ে বলছি আর কোনো যুদ্ধ হবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি এও বলেন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাত্রা বাড়ানো হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে অংশ নেয়া বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা যদিও প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার যুদ্ধ বিরোধী বক্তব্যের সাথে বিশ্বজুড়ে মার্কিন কর্মকাণ্ড ও আচরণের কোনো মিল নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গত ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও যুদ্ধের অবসান ঘটলেও এর অর্থ এটা নয় যে তারা যুদ্ধ থেকে সরে এসেছে। এখনো বিশ্বের আনাচে কানাচে বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং কোথাও কোথাও তারা সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। যেমন ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে পরোক্ষভাবে যুদ্ধ করছে। অর্থাৎ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র, অর্থ ও তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে এবং ওই অঞ্চলের জনগণকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, বিংশ শতাব্দিতে মার্কিন যুদ্ধ কৌশল ও উপকরণের সাথে চলতি শতাব্দির যুদ্ধ কৌশল ও উপকরণের বিরাট পার্থক্য রয়েছে। গত শতাব্দিতে মার্কিন সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল সেনা সমাবেশের মাধ্যমে নিজের শক্তিমত্বার প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করতো এবং সেই সাথে যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে যুদ্ধ পরিচালনা করতো। যুদ্ধের এ কৌশল মার্কিন সেনাদের প্রাণহানী ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া আর কিছু বয়ে আনেনি। এ কারণে মার্কিনীরা ধীরে ধীরে তাদের যুদ্ধ কৌশল ও হাতিয়ারে পরিবর্তন আনছে যাতে চলতি শতাব্দিতে রক্তপাতও এড়ানো যায় আবার নিজের শক্তিমত্বাও ধরে রাখা যায়। এ কৌশলের অংশ হিসেবে এবং নিজেদের আধিপত্য ও সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তারা যুদ্ধ ও সামরিক পন্থার পরিবর্তে শত্রু দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কৌশল বেছে নিয়েছে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুদ্ধের জন্য এখন আর কোথাও মার্কিন সেনা পাঠানো কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ব্যবহারের কথা খুব একটা শোনা যায় না। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা তাদের শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অস্ত্র দিয়ে মার্কিন সরকার বহু দেশে মানবিক বিপর্যয় ঘটিয়েছে। মার্কিন সরকার নির্বিঘ্নে নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বিভিন্ন দেশ ও জাতির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই অস্ত্র গোপনে ও নিঃশব্দে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে অনেক দেশ মার্কিন জুলুম ও আধিপত্যের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জোর এতোটাই মাত্রা ছাড়িয়েছে যে এমনকি মিত্রদের বিরুদ্ধেও তারা নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র ব্যবহার করতে কিংবা বিশ্বাসঘাতকতা করতেও ছাড়ে না। অস্ট্রেলিয়ার কাছে সাবমেরিন বিক্রি নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিক্ততা সৃষ্টিই এর প্রমাণ।

খ্যাতনামা মার্কিন সাংবাদিক বেন নোরটন বলেছেন, মার্কিন সরকার আর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যে দাবি করেছেন তা ডাহা মিথ্যা। কেননা মার্কিন সরকার এখনো ইরাক, সিরিয়া ও সোমালিয়ায় বোমা বর্ষণ করে চলেছে এবং ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের বিরামহীন আগ্রাসনের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরাক ও সিরিয়ায় সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে অন্যদিকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২২ 

ট্যাগ