অক্টোবর ১২, ২০২১ ১৭:৩০ Asia/Dhaka

আফগানিস্তানের তালেবান ঘোষণা করেছে, তারা একাই উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের মোকাবেলার ক্ষমতা রাখে এবং এ ক্ষেত্রে আমেরিকার সহযোগিতার কোনো প্রয়োজন তাদের নেই।

জাতিসংঘে তালেবানের প্রস্তাবিত প্রতিনিধি সোহেল শাহিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, 'তালেবান নিজেরাই স্বাধীনভাবে আইএসসহ যেকোনো উগ্র গোষ্ঠীকে মোকাবেলা করবে এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার কোনো চিন্তা তাদের নেই।' তিনি বলেন, 'আফগানিস্তানে আইএস জঙ্গিদের ধ্বংস করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।' এদিকে, তালেবান রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আইএস জঙ্গিরা উত্তরাঞ্চলীয় কুন্দুজ শহরে শিয়া মসজিদে হামলা চালানোসহ আরো বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। শিয়া মসজিদে হামলায় অন্তত ৩০০ মুসল্লি হতাহত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতিসংঘে তালেবানের প্রস্তাবিত প্রতিনিধি সোহেল শাহিন আইএস জঙ্গিদের নির্মূলে আমেরিকার কাছ থেকে সহযোগিতা না নেয়ার যে কথা বলেছেন তা থেকে বোঝা যায় আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতা রোধে গৃহীত পদক্ষেপে তালেবান হোয়াইট হাউজকে শামিল করতে চায় না। গত ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দায়েশ বা আইএস জঙ্গিরা বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে যাতে তালেবান সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছিলেন, আইএস জঙ্গিদেরকে তিনি আফগানিস্তানের জন্য তেমন একটা হুমকি মনে করেন না। তার এ বক্তব্যের পর দিনই কুন্দুজে শিয়া মসজিদে হামলার ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে আইএস জঙ্গিরা এখনো সেদেশের জনগণ বিশেষ করে শিয়া মুসলমানদের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে আছে। তাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা এবং সাম্প্রদায়িক ফেতনা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাধানো।

এর আগে সৌদি সমর্থিত সন্ত্রাসী দায়েশ বা আইএস জঙ্গিরা ইরাক ও সিরিয়ায় তথাকথিত ইসলামি খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়নের জন্য অনেক বছর ধরে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। কিন্তু ইরাক ও সিরিয়ায় ব্যর্থ হওয়ার পর আইএস জঙ্গিরা এখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ আরো অনেক দেশে তৎপরতা চালাচ্ছে। আইএস জঙ্গিরা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরো অনেক দেশেও সক্রিয় রয়েছে। বলা যায় তারা ওই অঞ্চলে প্রধান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে তালেবানের অস্থায়ী সরকার আফগানিস্তানের ধর্ম, বর্ণ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অবস্থায় আইএস জঙ্গিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে তালেবানের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যাতে জনগণের কাছে তালেবান সরকারকে দুর্বল প্রমাণ করা যায়। এ কারণে তালেবানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আফগানিস্তান জুড়ে দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছেন।

যাইহোক, তালেবান এমন সময় আইএস জঙ্গিদের দমনে আমেরিকার কাছ থেকে সহযোগিতা না নেয়ার কথা জানিয়েছে যখন তারা স্বীকৃতি আদায়ের জন্য হোয়াইট হাউজের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছে। এ  অবস্থায় কতদিন পর্যন্ত তারা নিজেদের অবস্থানে অটল থাকতে পারবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।#                  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ