অক্টোবর ২১, ২০২১ ১৮:১৫ Asia/Dhaka

মস্কোয় তালেবান প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আফগানিস্তান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সম্মেলনে রাশিয়া, চীন, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, কাজাখস্তান, কিরঘিজিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। যত দ্রুত সম্ভব আফগানিস্তান পুনর্গঠনে জাতিসংঘকে সম্মেলন আহ্বান করার দাবি জানিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা এক যৌথ বিবৃতিতে তালেবানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের অস্থায়ী সরকারের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ওই দেশটিতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের প্রতি সমর্থন জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলনে অংশ নেয়া থেকে বিরত  ছিল। ধরনা করা হচ্ছে পুনর্গঠন বিষয় ছাড়াও আফগানিস্তানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং দ্রুত অংশগ্রহণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার  বিষয়ে আলোচনা করাই ছিল এ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ থেকে বোঝা যায় যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ ও তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার হয়েছে।

এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া তালেবানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদেরকে এমন একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে যাতে সেদেশে গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটে এবং আর কোনো শরণার্থী সংকট তৈরি না হয়। আফগানিস্তান বিষয়ক রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলোভ বলেছেন, এ কারণেই মস্কো সম্মেলনে তালেবানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

গত আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়ার পর তাদের ব্যাপারে মস্কো দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে  তারা তালেবানকে আফগানিস্তানের অনস্বীকার্য বাস্তবতা বলে মনে করে এবং এ কারণে তাদের সঙ্গে একটা সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কেননা বর্তমান তালেবান প্রশাসন অস্থায়ী।

রুশ  পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মস্কো সম্মেলনে আফগানিস্তানে সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশটির অস্থায়ী তালেবান প্রশাসনের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করি তালেবান সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে অংশগ্রহণমূলক একটি সরকার গঠন করবে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই দেশটিতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা হবে কাবুলের নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে আসছে। এমনকি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ায় তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি জানাচ্ছে। এ অবস্থায় তালেবানের সঙ্গে মস্কোর ঘনিষ্ঠতায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। মস্কোর একটি অন্যতম দুশ্চিন্তার  বিষয় হচ্ছে আফগানিস্তানে আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর উদ্ভব যারা  কিনা রাশিয়াসহ  মধ্যএশিয়ার দেশগুলোর জন্য বিপদজনক। এ কারণে রাশিয়া আফগানিস্তানের বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। #       

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন

ট্যাগ