অক্টোবর ২৭, ২০২১ ১৯:৩১ Asia/Dhaka

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এবার ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ইংলিশদের সঙ্গে সামান্য লড়াইও করতে পারল না মাহমুদউল্লাহর দল। এই হারে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল।

আজ (বুধবার) আবুধাবিতে টস জিতে আগে ব্যাট করে মাত্র ১২৪ রান করেছিলে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

১২৫ রানের মামুলী লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাবলীল সাবলীল ব্যাট করতে থাকে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের দলীয় ৪০ রানে জস বাটলারকে ফেরান নাসুম আহমেদ। তারকা এই ওপেনার ১৮ বলে ১৮ রান করেন। এরপর জেসন রয়ের সাথে ডেভিড মালানের জুটি ইংল্যান্ডকে নিয়ে যায় জয়ের কাছাকাছি। 

১৩তম ওভারে শরিফুল ইসলাম আরেক ওপেনার জেসন রয়কে ফেরালেও তাতে ইংল্যান্ডের কোনো সমস্যায়ই হয়নি। কেননা ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ৩৮ বলে ৬১ রানে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভীত গড়ে দেন। রয় ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান। ম্যাচ সেরাও নির্বাচিত হন এই ব্যাটসম্যান। ২৫ বলে ২৮ রানে অপরাজিত থাকেন ডেভিড মালান। বেয়ারস্টো নট আউট ৪ বলে ৮ রানে।

৩ ওভারে ২৪ রানে উইকেটশূন্য সাকিব। মোস্তাফিজুরও উইকেটশূন্য। ৩ ওভারে তিনি দেন ২৩। নাসুম ৩ ওভারে ২৬ রানে এক উইকেট। ৩.১ ওভারে ২৬ রানে শরিফুলও পান একটি উইকেট। মেহেদী হাসান ২ ওভারে দেন ২১ রান।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে চরম বাজে অবস্থায় থাকা লিটন দাস এদিন শুরুতেই স্ট্রাইক নিয়েছিলেন। প্রথম ওভারে মঈন আলিকে দুই চার মেরে ইতিবাচক কিছুর আভাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু মঈনের দ্বিতীয় ওভারেই স্লগ সুইপ ব্যাটে নিতে পারেননি। সহজ ক্যাচে ফেরেন ৯ রান করে।

ঠিক পরের বলেই আলত শটে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় রানে থাকা নাঈম শেখের। আগের ম্যাচে ফিফটি করা এই ওপেনার এবার আউট হন ৭ বলে ৫ রান করে।

১৪ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে বিদায় সাকিবেরও। তিনে নামা অলরাউন্ডার ৭ বলে মাত্র ৪ রান করে ক্রিস ওকসের বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ উঠিয়ে বিদায় নেন।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে কেবল ২৭ রান। পাওয়ার প্লের পরে রান বাড়াতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। আগের দিনের ছন্দ দেখা যাচ্ছিল তার ব্যাটে। যদিও খুব বেশি আগ্রাসী হতে পারছিলেন না।

অনিয়মিত বোলার লিয়াম লিভিংস্টোন এসে থামিয়ে দেন মুশফিককে। লিভিংস্টোনের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে নিতে পারেননি। রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনে ইংল্যান্ড। মুশফিক ফেরেন ২৯ বলে ৩০ করে।

ছয়ে নেমে আফিফ হোসেনের বিদায় বড় করুণ। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ৫ রানেই শেষ হয় এই তরুণের দৌড়। ১৩তম ওভারে রানের গতিও তখন বেশ মন্থর। সেই চাকা আর সচল করতে পারেননি অধিনায়ক। ২৪ বল খেলে ১৯ রান করে লিভিংস্টোনের বলে ক্যাচ উঠিয়ে তিনিও বিদায় নেন।

শেখ মেহেদী দুই চার মেরেছিলেন। কিন্তু বাড়তে পারেননি। প্রায় ৮ ওভার বাকি থাকতে নামা নুরুল হাসান সোহান শেষ অবধি টিকে থেকেও দ্রুত রান আনার চাহিদা মেটাতে পারেননি। নয় নম্বরে নামা নাসুম আহমেদই মেটান তা। ১৯তম ওভারে গিয়ে তার সৌজন্যেই আসে ইনিংসের প্রথম ছক্কা। আদিল রশিদকে টানা দুই ছয় মেরে দলের পুঁজি ১২০ পার করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ ওভারে আউট হওয়া কিপার ব্যাটসম্যান সোহান ১৮ বলে ১৬ রানের মন্থর ইনিংস খেলে তার দলে থাকার জায়গা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। শেষ বল খেলতে এসে বোল্ড হন মোস্তাফিজুর রহমান।

বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন উইকেট নেন টাইমাল মিলস। মঈন আলী ও লিভিংস্টোন দুটি, ক্রিস ওকস একটি উইকেট লাভ করেন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

  

 

 

 

ট্যাগ