ডিসেম্বর ০৫, ২০২১ ১৬:২১ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৫ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম :

  • খালেদার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
  • শিক্ষার্থীদের ‘প্রতীকী লাশের মিছিল’ ঘিরে বিপুল পুলিশ’-প্রথম আলো
  • খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না: ফখরুল- দৈনিক মানবজমিন
  • গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে সংগ্রাম করছেন শেখ হাসিনা: ওবায়দুল কাদের- যুগান্তর
  • দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই নৈরাজ্য চালিয়েছে বিএনপি: জয়-দৈনিক যায়যায় দিন

ভারতের শিরোনাম:

  • মুখের ভিতরেই করোনার সংক্রমণ রুখে দিতে পারে চিউয়িং গাম! জানাল গবেষণা -আনন্দবাজার পত্রিকা
  • অখিলেশের পদবি জিন্না! যোগীর ডেপুটির কটাক্ষ ঘিরে শোরগোল উত্তরপ্রদেশে প্রতিদিন
  • রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা’, কংগ্রেস ছাড়ার জল্পনা বাড়ালেন গুলাম নবি আজাদ–আজকাল

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

কথাবার্তার প্রশ্ন (৫ নভেম্বর)
১. পড়া শেষে চাকরির পেছনে না ঘুরে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর। এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার শিরোনাম। কী বলবেন আপনি?
২. তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনার মাঝে চীনকে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিল আমেরিকা। কীভাবে দেখছেন এই হুমকিকে?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

শিক্ষার্থীদের ‘প্রতীকী লাশের মিছিল’ ঘিরে বিপুল পুলিশ’-প্রথম আলো

সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সারা দেশে গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ার (হাফ পাস) শর্তহীন প্রজ্ঞাপন জারি করাসহ ৯ দফা দাবিতে আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগে ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডাকা প্রতীকী লাশের মিছিল কর্মসূচি পুলিশের ‘সতর্কতার ঘেরাটোপে’ সম্পন্ন হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। অন্যদিকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত শাহবাগ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী লাশের মিছিলে পুলিশের তৎপরতা

পুলিশের এই উপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা ‘সড়ক হত্যার শিকার ব্যক্তির প্রতীকী লাশ’ নিয়ে শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা পর্যন্ত মিছিল করেন। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তাঁরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রতিবাদী গানের আসর করবেন তাঁরা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ দুপুর ১২টায় শাহবাগে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে ৯ দফা দাবিতে প্রতীকী লাশের মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার কিছুক্ষণ আগে থেকেই ৩৫-৪০ পুলিশ সদস্য শাহবাগ মোড়ে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনের রাস্তা থেকে প্রতীকী লাশ নিয়ে মিছিল বের করেন ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য শিক্ষার্থীদের মিছিলকে অনুসরণ করছিলেন।

৯ দফা দাবিতে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা

মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে মিনিট দুয়েক অবস্থান করলে পুলিশ সদস্যরা পুরো মিছিলটিকে ঘিরে রাখেন। পরে মিছিলটি টিএসসি এলাকার দিকে যাত্রা করে। এ সময় শাহবাগ পুলিশ বক্সের সামনে মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও ধাক্কা দেন অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশীদ। পরে মিছিল নিয়ে টিএসসি এলাকায় যান শিক্ষার্থীরা। মিছিলে ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘শ্রমিক-ছাত্র ভাই ভাই, নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আইন করে হাফ পাস, দিতে হবে দিয়ে দাও’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেওয়া হয়।

পরে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মোহিদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। দাবি আদায়ে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি দিয়ে “আমরা নিরাপদ সড়ক চাই” লিখব। সঙ্গে থাকবে প্রতিবাদী গানের আসরও। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করেই আমরা ফিরব।’

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী লাশের মিছিলে পুলিশের তৎপরতা

ইনজামুল হক নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ ১৮টি জেলায় একযোগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বরিশালে কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য ঢাকার আজকের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তাঁরা তাঁদের দাবি সংবলিত স্মারক পৌঁছে দেবেন।

গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে সংগ্রাম করছেন শেখ হাসিনা: ওবায়দুল কাদের- যুগান্তর

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, '৭৫-এর পর গণতন্ত্র ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বারবার বলি হয়েছে। নির্বাচনের কফিনে গণতন্ত্রকে বারবার লাশ বানানো। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। রোববার সকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র শৃঙ্খলামুক্ত হলেও গণতন্ত্র এখনও পুরোপুরি পরিপূর্ণতা পেয়েছে তা দাবি করা যায় না। গণতন্ত্রকে পরিপূর্ণতা দিতে হলে গণতন্ত্রের এই অভিযাত্রায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের ক্রমবিকাশমান ধারাকে পরিপূর্ণতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে  হবে। এ জন্য গণতন্ত্র প্রিয় সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।  আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, '৭৫-এর পর যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করেছে ক্ষমতার মঞ্চে বসে, সেই অপশক্তির দোসররা এখনও বেঁচে আছে, তারাই বারবার বাধা সৃষ্টি করে চলেছে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায়।

খালেদার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী-দৈনিক কালেরকণ্ঠ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার কোনো সুযোগ আইনে আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজ রবিবার আইনজীবীদের এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, খা‌লেদা জিয়ার বি‌দে‌শে চি‌কিৎসার আবেদ‌ন আগের দুইবার আইনিভা‌বেই প্রত‌্যাহার করা হ‌য়ে‌ছিল। আর বর্তমান আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং সার্বিক বিষয়ে আইনে কোনো উপায় আছে কি না, সে ব‌্যাপা‌রে চিন্তাভাবনা করা হ‌চ্ছে ব‌লেই সিদ্ধান্ত নি‌তে দে‌রি হ‌চ্ছে।

শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কথা বলা হয়। এমনকি তিনি চরম সংকটাপন্ন দাবি করে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবি তোলে দলটি। তখন থেকে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে আসছে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না: ফখরুল- দৈনিক মানবজমিন

সরকারের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করতে পাঠানোর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, আপনাদের স্বার্থে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে চিকিৎসা করতে পাঠান। তাকে সুস্থ করে নিয়ে আসুন। তা হলে আপনারা পালানোর পথটাও খুঁজে পাবেন না।রোববার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক দল।সকালে সমাবেশ শুরু হওয়ার পর কয়েক দফায় থেমে-থেমে গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি হলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আর সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের একটা অংশে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচলেও কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হতেও দেখা গেছে। আর সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রেসক্লাব চত্বরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।

তবে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।সমাবেশে উপস্থিত শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আসুন জনগণের উত্তাল তরঙ্গের মধ্যে দিয়ে সরকারকে বাধ্য করি, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে।খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে না পাঠালে সরকারকে একদিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় ২ বছরের বেশি সময় পরিত্যক্ত কারাগারে ছিলেন। সেখান থেকে তার যে অসুখ সৃষ্টি হয়েছে, তা এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে এভার কেয়ারের এবং আমাদের যে চিকিৎসক আছে তারা বলেছেন, অতি দ্রুত খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য, উন্নত কেন্দ্রে না নেয়া হয়, আমেরিকা বা যুক্তরাজ্যে তাহলে তার জীবন বাঁচানো মুশকিল হয়ে যাবে।সরকারের মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলেন, সেটা কোনও সভ্য মানুষ এই ভাষায় কথা বলতে পারে না বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তিনি কখনই বিএনপির দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই দেখেন না। সব সময় বিএনপি-বিএনপি করেন। বিএনপি তো নাকি নাই, বিএনপি যদি নাই থাকে তাহলে এতো স্বপ্ন দেখেন কেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন-নির্বাচন করছেন। কিন্তু নির্বাচন ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলে দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কয়েক শত মানুষ মারা গেছে। ইসি বলেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, এই যদি হয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নমুনা। মানুষ এখন ভোট দিতে যায় না। আজকে সেই জন্য নির্বাচন ব্যবস্থা পাল্টাতে হবে। আর নির্বাচন কমিশনকে সরালে হবে না, এই সরকারকেও সরে যেতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে মানুষের ভোট দিয়ে জনগণের সরকার গঠন করতে হবে। সেটা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হবে।মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এতো উন্নয়ন, উন্নয়ন কথা বলছে। কিন্তু শ্রমিকের কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। আগে দেশে গরিব ছিলো ২ কোটি আর এখন তা হয়েছে ৬ কোটি।

আজকে সেই জন্য পরিবর্তন চাই। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে, সেই জন্য বলছি না। এই সরকারকে সরাতে হবে। যারা আমাদের সমস্ত অর্জনগুলোকে কেড়ে নিয়েছে। ৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম কি এই জন্য যে, আমার ভোট আমি দিতে পারবো না?নিরাপদ সড়ক ও হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্ররা সরকারকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। কেন তারা রাস্তায় নেমেছে? কারণ আপনরা (সরকার) কোনও কথা রাখেন না। এরআগে যখন আন্দোলন হয়েছে তখন বলেছিলেন সড়কে সঠিকভাবে চালাবেন।

কিন্তু সঠিকভাবে চালাতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী বলে- হঠাৎ করে ছাত্ররা কোথায় থেকে আসে। আরে আপনার ব্যর্থতার কারণে যখন মানুষের কোনও মূল্য নাই, তখন তো তারা রাস্তায় বেরিয়ে আসবে। আরও যদি এইভাবে চলতে থাকে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করেন, তাহলে কোটি কোটি মানুষ রাস্তায় নামবে।শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, বিএনপির সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান প্রমুখ।

দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই নৈরাজ্য চালিয়েছে বিএনপি: জয়-দৈনিক যায়যায় দিন

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীয় ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই বিএনপি নৈরাজ্য চালিয়েছে। দলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের ঢাল হিসেবে, এখনও তারা সেই কাজই করে যাচ্ছে।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চলছে। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি। দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও পালন করা হচ্ছে নানাবিধ অনুষ্ঠান।’

এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয় লিখেছেন, ৭ মার্চের (চলতি বছর) বেশ কয়েকদিন আগে, এই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। তখন দেশের মানুষ মুক্তকণ্ঠে তাদের প্রশংসা করতে শুরু করে। কিন্তু ৭ মার্চ বিএনপির অনুষ্ঠানে দেখা যায়, সেখানে বিএনপি নেতারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার নায়ক ও খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে দেশের সেরা মানুষ হিসেবে দাবি করে। অনুষ্ঠানটি ৭ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আয়োজন করার ঘোষণা দিলেও, বাস্তবে তারা স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, ‘মূলত একই পদ্ধতিতে এর আগেও অজস্রবার বিএনপি এই কাজ কাজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, জিয়াউর রহমান যেমন উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে; খালেদা জিয়াও তেমনি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী পরিচয় ব্যবহার করে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে এবং দেশকে তুলে দিয়েছে ১৯৭১-এর খুনি ও ধর্ষক জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে।’

জয় বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ছেলে ও বিএনপির ডি ফ্যাক্টো প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলরা আজ যেভাবে সাধারণ মানুষের মুক্তিযুদ্ধের আবেগ নিয়ে খেলা করছে, ঠিক একইভাবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কাজ করে আসছে বিএনপি। মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তি দাবি করে, সরলপ্রাণ মানুষদের আবেগের সঙ্গে প্রতারণার করে, নিয়মিত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে এই বিএনপি। এমনকি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিষয়ে এতদিন চুপ থাকলেও, হঠাৎ করেই মাঠে নেমেছে তারা। কারণ, তাদের রাজনীতির অস্তিত্বই টিকে আছে এই কপটতার ওপর।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির আবেগের জায়গা, আর বিএনপি সেটা নিয়েই খেলে। তাদের এই লুকোচুরি খেলার ছদ্মবেশ উন্মোচিত হয়ে পড়লে, তারা প্রকৃত অর্থেই পথে বসে যাবে। তাই যে কোনও মূল্যে, ইতিহাস বিকৃত করে, মুক্তিযুদ্ধকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে আসছে তারা।’

বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয় বলেন, ‘ত্রিশ লাখ মানুষের প্রাণ ও প্রায় চার লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান স্বাধীনতাকে নিয়ে যারা এহেন নিচুকর্মে লিপ্ত, তারা নৈতিক বিচারে অপরাধী। তাদের এই অপরাধ অমার্জনীয়। দেশবিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে নস্যাৎ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর দায়ে, বিএনপির নেতাকর্মীদের দ- প্রাপ্য। তারা এদেশকে ধ্বংস করার জন্য যা করেছে, গালভরা বুলি দিয়ে তা ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।’

এ প্রসঙ্গে দীর্ঘ লেখায় কয়েকটি শিরোনামে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়কালে ‘বিএনপি গংদের অপরাজনীতির ফিরিস্তি’ও তুলে ধরেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরের মধ্যে ২৫ বছরই ক্ষমতায় ছিল জিয়া-এরশাদ-খালেদা-তারেক চক্র। আর তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল খুন ও ধর্ষণের মাস্টারমাইন্ড স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের ঘৃণিত নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু গত এক যুগ টানা সরকারে থেকে দেশকে তাদের হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যেভাবে সোনার বাংলা গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেছেন। মানুষের অর্থনৈতিক জীবন যেমন পরিবর্তন হয়েছে, তেমনি ভূলুণ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে এই সময়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের স্বাধীনতার চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে এখনও নোংরা রাজনীতি করে যাচ্ছে বিএনপি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, এখনও বিদেশে বসে দেশ নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে ওঠে এই বিএনপি নেতা। বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করে জাতীয়ভাবে ধিক্কৃত হয়ে; নিজের দুর্নীতি, জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতা ও হত্যার মিশনগুলো চাপা দিতে; বিএনপি তথা রাজনৈতিক নেতার পরিচয় ব্যবহার করে লন্ডনে ফেরার হয়ে আছে সে। দলটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের ঢাল হিসেবে, এখনও তারা সেই কাজই করে যাচ্ছে।

মুখের ভিতরেই করোনার সংক্রমণ রুখে দিতে পারে চিউয়িং গাম! জানাল গবেষণা -আনন্দবাজার পত্রিকা

চিউয়িং গামই রুখে দিতে পারে করোনাভাইরাসকে! লালারসের মধ্যে আটকে রেখে একটি বিশেষ ধরনের চিউয়িং গাম শরীরে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে দেয় না। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এমনই দাবি করা হয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘মলিকিউলার থেরাপি’-তে।

গবেষণা জানিয়েছে, আলফা, বিটা, ডেল্টা-সহ করোনাভাইরাসের সবক’টি রূপ (‘ভেরিয়্যান্ট’)-কেই লালারসে রুখে দিতে পারছে চিউয়িং গাম। তবে ওমিক্রন-কেও রোখা যায় কি না, তা গবেষকরা এখনও পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পাননি।

এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে মানুষের লালারসে প্রচুর পরিমাণে থাকে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস। তাই চিউয়িং গাম মুখেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে পারে কি না, কতটা সক্ষম এ ব্যাপারে, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল আমেরিকার বিজ্ঞানীদের।

রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা’, কংগ্রেস ছাড়ার জল্পনা বাড়ালেন গুলাম নবি আজাদ–আজকাল

কংগ্রেস ছাড়ছেন বর্ষীয়ান নেতা তথা কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ? জল্পনা উসকে দিলেন‌ নিজেই। সাম্প্রতিককালে কংগ্রেসের বিভিন্ন কার্যপ্রণালীর বিরোধিতা করেন তিনি। এমনকী গান্ধী পরিবারের সমালোচনাও করতে শোনা যায় তাঁকে। কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ জি-২৩ গ্রুপের অন্যতম সদস্য গুলাম নবি আজাদ। এবার নিজেই কংগ্রেস ত্যাগের জল্পনা উসকে দিলেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে আগামী দিনে কী হবে কেউ বলতে পারে না, ঠিক যেমন কবে মৃত্যু হবে কেউ বলতে পারে না। এটা সম্ভাবনার খেলা।’

কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ

প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করতে শোনা গিয়েছিল কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। বলেছিলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী রাজীব গান্ধীর আমলে দলে সমালোচনা করার একটা জায়গা ছিল। প্রশ্ন করতে পারতাম কেউ তাতে আপত্তির কিছু দেখত না। কিন্তু আজকের নেতৃত্ব এগুলো নিয়ে আপত্তি করে।’ সম্প্রতি বলেছিলেন, কংগ্রেস আগামী লোকসভায় ৩০০ আসন পাওয়ার জায়গায় নেই।

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা করছেন তিনি। করছেন বিভিন্ন বৈঠকও। কয়েকদিন আগে তাঁর ঘনিষ্ঠ ২০ জন নেতা কংগ্রেস ত্যাগ করেছেন। তা থেকেই নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল করতে চলেছেন গুলাম নবি আজাদ। কিন্তু সেই দাবি নস্যাৎ করে তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করছি। ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর যা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ভাল লাগছে সব রাজনৈতিক দলই এটা করছে।’

অখিলেশের পদবি জিন্না! যোগীর ডেপুটির কটাক্ষ ঘিরে শোরগোল উত্তরপ্রদেশে প্রতিদিন

উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) দামামা বেজে গিয়েছে ভোটের। এই অবস্থায় প্রচারে এসে নানা ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে নেতাদের। কয়েক দিন আগেই মথুরায় মন্দির তৈরির কথা বলে হিন্দুত্বের তাস খেলতে দেখা গিয়েছিল রাজ্যে যোগীর ডেপুটি কেশবপ্রসাদ মৌর্যকে। শুক্রবারও এক জনসভায় একই পথে হেঁটে ফের বিতর্ক বাঁধালেন তিনি। এবার অখিলেশ যাদবকে (Akhilesh Yadav) ‘অখিলেশ আলি জিন্না’ বলে সম্বোধন করতে দেখা গেল তাঁকে।

ঠিক কী বলেছেন তিনি? এদিন জনসভায় অখিলেশের প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ”আমি ওঁকে অখিলেশ যাদব বলি না। বলি অখিলেশ আলি জিন্না।” সেই সঙ্গে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণির জন্য অখিলেশ কিছুই করেননি বলেও তোপ দাগেন কেশবপ্রসাদ।

গত মাসেই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের তালিকায় মহম্মদ আলি জিন্নাকেও শামিল করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অখিলেশ। ওই মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ বলে তোপ দাগেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। এদিন সেই বিতর্ককেই ফের উসকে দিতে দেখা গেল কেশবপ্রসাদ মৌর্যকে।#

 

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ