ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২২ ১৬:৪৫ Asia/Dhaka

শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: বরাবরের মতোই একটি বাণী শুনিয়ে আসর শুরু করতে চাই। হযরত ইমাম রেযা (আ.) বলেছেন : যে ব্যক্তি তার পাকস্থলীকে কষ্ট দিতে চায় না সে যেন খাওয়ার মাঝখানে বা পর পরই পানি পান না করে, বরং যেন খাওয়ার কিছু পরে পানি পান করে। যে তা করে তার শরীরে ঠাণ্ডা ভাব তৈরি হয়, পাকস্থলী দুর্বল হয়ে যায় এবং তার রগসমূহ খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে না।

আকতার জাহান: আমরা সবাই পানি পানের ক্ষেত্রে এই মূল্যবান বাণীটি মেনে চলার চেষ্টা করব- এ কামনায় নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।

আসরের প্রথম মেইলটি এসেছে বাংলাদেশের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নলছিয়া গ্রাম থেকে। আর পাঠিয়েছেন জাগো রেডিও লিসেনার্স ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশীদ। তিনি লিখেছেন, "বিশুদ্ধ জীবন বোধের রসনায় তৃপ্ত হয়ে আলোকিত মানুষের কাতারে নিজেকে খুঁজে পেতে আমি নিয়মিত শুনি ইরানের ব্যতিক্রমধর্মী সম্প্রচার মাধ্যম রেডিও তেহরান-এর বাংলা অনুষ্ঠান। সুস্থ চিন্তাধারার আলোকে পরিশীলিত বিনোদন, তথ্য, সংবাদ, জীবনঘনিষ্ঠ বার্তা পেতেই রেডিও তেহরানকে পরম বন্ধু হিসেবে পেয়েছি যাপিত জীবনের আনন্দ নিকেতনে।  জ্ঞানে বড় করে তুলে এবং পরিপূর্ণ ও বিকশিত জীবন গঠন করে রেডিও তেহরান একজন আদর্শ শিক্ষকের মতোই পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ভোগবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনীদের নানা চাপের মাঝেও রেডিও তেহরান ইসলামের আলো বিলিয়ে নীতি ও মহানুভবতার অনুপম বৈশিষ্ট্য স্থাপন করে যাচ্ছে- যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।"

এরপর তিনি শিশু-কিশোর বন্ধুদের জন্য প্রচারিত অনুষ্ঠান 'রংধনু আসর'-এ "বুদ্ধিমান ও বুদ্ধিহীন" শীর্ষক গল্প এবং প্রিয়জনের শুরুতে নিয়মিত হাদিস প্রচারের প্রশংসা করেছেন।

নাসির মাহমুদ: রেডিও তেহরান সম্পর্কে মূল্যায়নধর্মী এই লেখাটির জন্য হারুন অর রশীদ ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

পরের মেইলটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থেকে। আর পাঠিয়েছেন মনীষা রায়। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাবার পর তিনি লিখেছেন,

২ জানুয়ারি রবিবার সান্ধ্য অধিবেশনে "আদর্শ মানুষ গড়ার কৌশল" অনুষ্ঠানের পরিবর্তে 'সুখের নীড়' পরিবেশনা শুনে বেশ ভালোই লাগলো। আমার মনে হয় এখানে ভারত-বাংলাদেশসহ ইরানের পারিবারিক জীবন সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে যা থেকে অনেক অজানা তথ্য পাওয়া যাবে।

আশরাফুর রহমান: বোন মনীষা রায়, 'সুখের নীড়' ধারাবাহিকটি মূলত ইসলামী ও ইরানি পরিবারবিষয়ক অনুষ্ঠান। এতে ভারত কিংবা বাংলাদেশের মানুষের পারিবারিক জীবন নিয়ে আলোচনার তেমন সুযোগ নেই। তবে হ্যাঁ, অনুষ্ঠানটি থেকে যেকোনো দেশের মানুষ উপকৃত হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।  

বাংলাদেশের লালমনিরহাট থেকে মোঃ মিলন সরকার পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, "আমি নিয়মিত রেডিও তেহরানের সংবাদগুলো ইন্টারনেটে দেখি। রেডিও তেহরানের সংবাদগুলো আমার কাছে খুব স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠ মনে হয়। তাই ইন্টারনেটে রেডিও তেহরানের সংবাদ পড়া আমার কাছে নেশায় পরিণত হয়েছে। রেডিও তেহরানকে আমি খুব ভালোবাসি।"

আকতার জাহান: ভাই মিলন সরকার, আপনি নিয়মিত রেডিও তেহরানের সংবাদ পড়ছেন জেনে ভালো লাগছে। আশা করি আমাদের অন্যান্য আয়োজন সম্পর্কেও লিখবেন

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে শরিফা আক্তার পান্না পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। ২৫ ডিসেম্বর প্রচারিত ইরান ভ্রমণ অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, "ইরান ভ্রমণ অনুষ্ঠানে আজ ইরানে অবস্থিত বায়েজিদ বোস্তামির মাজার কমপ্লেক্স সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। উল্লেখ্য যে, ইরানি সাধক বায়েজিদ বোস্তামির একটি মাজার বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত। যদিও বায়েজিদ বোস্তামি চট্টগ্রামে এসেছিলেন বা তাঁর মরদেহ এখানে দাফন করা হয়েছে তার কোনো প্রমাণ নেই। তবু বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ এ মাজার জিয়ারত করে থাকেন। ফলে আমরা অতি আগ্রহ সহকারে আজকের অনুষ্ঠানটি শুনেছি। অনুষ্ঠান থেকে ইরানের বোস্তাম শহরে অবস্থিত বায়েজিদ বোস্তামির মাজার সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানতে পারলাম। এমন চমৎকার একটি অনুষ্ঠান শুনতে পেরে আমাদের খুবই ভালো লাগছে। ধন্যবাদ রেডিও তেহরানকে সুন্দর অনুষ্ঠানটির জন্য।"

নাসির মাহমুদ: বোন শরিফা আক্তার পান্না, ইরান ভ্রমণ অনুষ্ঠানে বায়েজিদ বোস্তামির মাজার সম্পর্কে আলোচনাটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। আশা করি আমাদের অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্পর্কেও লিখবেন।

বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি বাংলাদেশি এক সিনিয়র শ্রোতাকে। প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক।

নাসির মাহমুদ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চর হরিশপুরের মধুমালা রেডিও ক্লাব থেকে আলিয়া সাকিনা পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, "রেডিও তেহরান থেকে পাচ্ছি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ। এতে যেমন ইসলাম সম্পর্কে জানছি তেমনি দেশ ও বিশ্ব সম্পর্কেও জানছি। বিজ্ঞান সম্পর্কেও ভালো জানছি।"

সবশেষে এ শ্রোতাবোন জানতে চেয়েছেন- এ বছর বাংলাদেশে শ্রোতা সম্মেলন হবার সম্ভাবনা আছে কিনা?

আশরাফুর রহমান: সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে একটা শ্রোতা সম্মেলন করার ইচ্ছে আমাদের রয়েছে। চিঠি লিখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভারতের আসামের বড়পেটা জেলার কান্দুলিয়া থেকে আব্দুস সালাম সিদ্দিক পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি।

১০ জানুয়ারি তারিখে প্রচারিত প্রিয়জন অনুষ্ঠানের প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, "এ বছরের প্রথম প্রিয়জন আসরটি শুরু হয় হজরত আলী (আ.)-এর একটি কালজয়ী অমৃত বাণী দিয়ে। তার পর যথারীতি শুরু হয় শ্রোতাদের বিভিন্ন স্বাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ চিঠিপত্রের উত্তরদানের কার্যক্রম। এতে নবীন-প্রবীন শ্রোতাদের মনের আবেগ মাখানো ভাষা ও ভাবের হৃদয়নিংড়ানো এক/একটি চিঠি দারুণভাবে উপভোগ করেছি। বলা বাহুল্য যে, এই অধমেরও একটি চিঠি ওই তালিকায় শামিল ছিল।"

আকতার জাহান: আবদুস সালাম সিদ্দিক ভাই আসামের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও খুব চমৎকার বাংলা ভাষায় আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে নিয়মিত মতামত জানান। এটা আমাদের খুব ভালো লাগে। আশা করি এভাবেই মতামত জানিয়ে রেডিও তেহরানের পাশে থাকবেন।

এবারের মেইলটি পাঠিয়েছেন মোঃ সাগর মিয়া। এ শ্রোতাবন্ধুর বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার সাদির চর গ্রামে।

তিনি লিখেছেন, 'পারস্য উপসাগর থেকে বঙ্গোপসাগর রেডিও তেহরান সঙ্গী হোক আপনার-আমার'- এই কথাটা আমাকে বেশ টানে। রেডিও তেহরানের প্রতি ভালোলাগা থেকেই প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ২৩ মিনিটে যুক্ত হয়ে যাই লাইভ অনুষ্ঠানে। বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাতের পাশাপাশি পত্রপত্রিকার পাতার অনুষ্ঠান কথাবার্তা আমার বেশি ভালো লাগে। বাংলাদেশ ও ভারতের দৈনিক পত্রিকার প্রধান প্রধান শিরোনাম দিয়ে সাজানো এই অনুষ্ঠানটি শোনার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে থাকি। 

কথা-বার্তা অনুষ্ঠানটি যেন কখনো বন্ধ না হয় সে প্রত্যাশা রাখছি।

নাসির মাহমুদ: ভাই সাগর মিয়া, কথাবার্তা অনুষ্ঠানটি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আপনারা যতদিন চাইবেন ততদিন অনুষ্ঠানটি চলতে পারে। তো, চিঠি লিখার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

কুষ্টিয়ার খাদিমপুর বাজার থেকে 'বাংলাদেশ ডিএক্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল'-এর মহাপরিচালক  মোখলেছুর রহমান পাঠিয়েছেন অন্তত ১০টি ইমেইল। প্রতিদিনের অনুষ্ঠান শোনার পর মতামত জানিয়ে তিনি এসব মেইল পাঠিয়েছেন। ১৫ জানুয়ারি তারিখে আসা মেইলে তিনি লিখেছেন, "প্রতিদিনের ন্যায় আজকেও আমি আপনাদের সম্প্রচারিত গোটা অনুষ্ঠান অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেছি। আজকেও রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান ছিল তথ্য ও তত্ত্বে ভরা! রেডিও তেহরানের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান না শুনলে বুঝায় যাবে না যে, অনুষ্ঠানগুলি জ্ঞান-পিপাসুদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ!  সত্যি কথা বলতে কী, রেডিও তেহরানের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো না শুনলে আমি অনেক অজানা তথ্য সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতাম না। তাই আমি রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সকল কলা-কুশলীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"

আশরাফুর রহমান: মোখলেছুর রহমান ভাইকে ধন্যবাদ, নিয়মিত অনুষ্ঠান শুনে মতামত জানানোর জন্য।

আসরের শেষ মেইলটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থানার নওপাড়া শিমুলিয়া থেকে। আর পাঠিয়েছেন জাকির হোসেন। লিখেছেন, "গ্রাম-বাংলার মানুষের খবর শুনতে রেডিওই একমাত্র ভরসা। গ্রামের মানুষ এখনও রেডিওকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এক সময় আমাদের এলাকার মানুষ বিবিসি শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকত; রেডিও তেহরান যে বাংলা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে সে খবর অনেকের জানা ছিল না। আমরা চায়ের আড্ডায় বসে মানুষকে সচেতন করেছি রেডিও তেহরান শোনার জন্য। তখন থেকে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। অনুষ্ঠান শুনলেও সবাই চিঠি লিখতে পারত না। তবে, এখনও চায়ের দোকানের আড্ডায় রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা শোনা যায়। বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শোনার আগ্রহ আবারও বেড়েছে।"

আকতার জাহান: গ্রামের মানুষ এখনও রেডিও তেহরান শুনছেন- এটা আমাদের জন্য অনেক বড় আশা জাগানিয়া খবর। বিষয়টি চিঠি লিখে আমাদেরকে জানানোয় জাকির ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আমার হাতে আরও কিছু শ্রোতার ইমেইল রয়েছে। কিন্তু সময়ের অভাবে তাদের চিঠি পড়া সম্ভব হচ্ছে না। আমি বরং চিঠিগুলোর প্রাপ্তিস্বীকার করছি।

  • সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) এর সিলেট শাখার সভাপতি মোঃ চাঁন মিয়া।
  • চাঁপাই নবাবগঞ্জের চর হরিশপুর জয়নালপুর থেকে মোঃ শাহাদাত হোসেন
  • গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় মধুমতি বেতার শ্রোতা সংঘ থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন
  • ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে বিধান চন্দ্র সান্যাল
  • এবং ভারতের এলাহাবাদ থেকে এস উমাইদ আহমেদ

নাসির মাহমুদ: চিঠি লিখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। তো, শ্রোতাবন্ধুরা, আজকের আসর থেকে বিদায় নেওয়ার সময় হয়ে গেছে। তার আগে আপনাদের জন্য রয়েছে একটি বিখ্যাত নজরুলসঙ্গীত। গেয়েছেন শিল্পী সালাহউদ্দিন আহমেদ।  

আশরাফুর রহমান: আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।  

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ