ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২ ১৮:২৮ Asia/Dhaka

শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: প্রত্যেক আসরের মতো আজও একটি হাদিস শুনিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে চাই। হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) বলেছেন: ‘যদি কেউ তার মৃত্যু পিছিয়ে যাওয়া ও রুজি বৃদ্ধি পাওয়া পছন্দ করে, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে চলে এবং আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেয়।’

আকতার জাহান: আমরা সবাই এই হাদিসটি মেনে চলার চেষ্টা করব- এ আহ্বান রেখে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।

আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বারুইপাড়া থেকে আর পাঠিয়েছেন এস এম নাজিমউদ্দিন। ২০২১ সালে রেডিও তেহরানের প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, "বর্তমানে সারা পৃথিবীতে যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক বেতারকেন্দ্র বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করছে তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে রেডিও তেহরান। গত এক বছর ধরে শ্রোতাদের নানা ধরনের মতামতের প্রেক্ষিতে শ্রোতাবান্ধব নানা কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানেরও পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করেছি। শ্রোতাদের সবচেয়ে প্রিয় অনুষ্ঠান প্রিয়জন অনুষ্ঠানের সময় বাড়ানো শ্রোতাদের একটা বড় দাবি ছিল; যা পূরণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রিয়জন অনুষ্ঠানে এখন সাক্ষাৎকার, প্রাপ্তিস্বীকারসহ শ্রোতাদের নানা মূল্যবান মতামতপূর্ণ চিঠি, মেইল, রিসিপশন রিপোর্ট দিয়ে সাজানো জমজমাট আসরটি সবার নজর কেড়েছে। এখন গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি পত্রের উত্তর দেওয়া হয় যা পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। তাই শ্রোতারাও এখন প্রচুর চিঠি লিখছে। দীর্ঘ এক বছর আমরা দেখেছি, শ্রোতাদের চাহিদা ও আগ্রহের কথা বিবেচনা করে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা তৎপরতা হাতে নিয়েছে রেডিও তেহরান কর্তৃপক্ষ। মাসিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা প্রতিযোগিতা, বার্ষিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা, শ্রেষ্ঠ শ্রোতা ক্লাব, সর্বাধিক শেয়ারার, রেডিও তেহরান সহযোগী প্রভৃতি নানা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনা প্রমাণ করে শ্রোতাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেডিও তেহরান কতটা আগ্রহী। "

চিঠির শেষাংশে ইরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নানা খবরা-খবর সম্বলিত নতুন একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

নাসির মাহমুদ: রেডিও তেহরানের গত এক বছরের অনুষ্ঠানমালা ও শ্রোতাবান্ধব কর্মসূচি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জেনে সত্যি ভালো লাগল। আর বিজ্ঞানবিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচারের বিষয়ে শ্রোতাদের দীর্ঘদিনের দাবিটি আমরা বিবেচনায় রেখেছি। তো, চিঠি আর মতামতের জন্য নাজিমউদ্দিন ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আসরের পরের মেইলটি এসেছে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে। আর পাঠিয়েছেন সেখানকার ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন। তিনি ২০২১ সালে রেডিও তেহরানের শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে এই লেখাটি পাঠিয়েছেন। লিখেছেন, "কোনো প্রত্যাশায় নয়, কোনো হিসাব কষে নয়; রেডিও তেহরান শুনি নিজের মনের আকুতি মেটানোর জন্য। চিঠিও লিখি নিজের অনুভূতি জানানোর জন্য। কিন্তু সেই বেতার কেন্দ্রটি যখন তার শ্রোতাকে মূল্যায়ন করে বর্ষসেরা শ্রোতা হিসেবে ঘোষণা করে, তখন সত্যিই ভালো লাগে, আনন্দ হয়। রেডিও তেহরান যখন আমাকে ২০২০ সালের জন্য শ্রেষ্ঠ শ্রোতা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, তখনই মনটা আনন্দে নেচে উঠেছিল। তখন ভাবিওনি, ২০২১ সালের জন্যও আমাকে আবার শ্রেষ্ঠ শ্রোতার পুরস্কারে ভূষিত করা হতে পারে। তবে ২০২১ সালেও আমি ভালোলাগা আর ভালোবাসার টানেই নিয়মিত অনুষ্ঠান শুনেছি, চিঠিপত্র লিখেছি, মতামত দিয়েছি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থেকেছি। তারই প্রতিদানে আবারো শ্রেষ্ঠ শ্রোতার পুরস্কার। পর পর দুবছর শ্রেষ্ঠ শ্রোতা হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত, গর্বিত।"

আশরাফুর রহমান: শাহাদত ভাইয়ের সঙ্গে ভারত থেকে বার্ষিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতা পুরস্কার জিতেছেন পশ্চিমবঙ্গর দক্ষিণ দিনাজপুরের সিনিয়র শ্রোতা বিধান চন্দ্র সান্যাল। তিনি তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এভাবে- "জীবনে উন্নতি লাভ করতে হলে দুর্ভাগ্যের অবসান ঘটিয়ে, সুখের মুখ দেখতে হলে আলস্য ও জড়তা ত্যাগ করে, মানুষকে উদ্যোগী হতে হয়- কাজ করে যেতে হয়। আর তা করতে পেরেছি বলে রেডিও তেহরানের মতো জনপ্রিয় বেতার কেন্দ্রে ২০২১ সালের শ্রেষ্ঠ শ্রোতা নির্বাচিত হতে পেরেছি, যা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া।"

আকতার জাহান: বার্ষিক শ্রেষ্ঠ শ্রোতার শিরোপা পাওয়ায় ভাই মোঃ শাহাদত হোসেন ও বিধান চন্দ্র সান্যাল যেভাবে অনুভূতি জানালেন তা আমাদের খুব ভালো লাগছে। আপনাদের দু'জনকে প্রিয়জন অনুষ্ঠান থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।  

নাসির মাহমুদ: কুষ্টিয়ার খাদিমপুর বাজার থেকে 'বাংলাদেশ ডিএক্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল'-এর মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান পাঠিয়েছেন এবারের ইমেইলটি। এ শ্রোতাবন্ধু রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগ চালুর প্রথম দিন থেকে আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন। এতদিন ধরে আমাদের অনুষ্ঠান শোনার কারণ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, "সত্যি কথা বলতে কী, রেডিও তেহরানের সম্প্রচারিত বিশ্ব সংবাদ না শুনলে আমার মোটেও ভালো লাগে না! রেডিও তেহরান একটি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। সে শুধু ইরানের কথায় বলে না, সে মধ্যপ্রাচ্য তথা গোটা দুনিয়ার কথা বলে, তাও আবার ৩০টি ভাষায়। তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির ফলে যেখানে বিশ্বের নামি-দামি রেডিও স্টেশনগুলো সম্প্রচার গুটিয়ে নিচ্ছে, সেখানে রেডিও তেহরান স্বগৌরবে তার সম্প্রচার রেডিও'র পাশাপাশি ইন্টারনেট, টুইটার, পার্সটুডে ও ফেসবুক লাইভে চালিয়ে যাচ্ছে। রেডিও তেহরানের বিশ্ব সংবাদ এতোটাই নির্ভরযোগ্য, বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ এবং তরতাজা যা না শুনলে বোঝা সম্ভব নয়।"

আশরাফুর রহমান: গত ৪০ বছর ধরে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনার অনুভূতি তুলে ধরায় মোখলেছুর রহমান ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মধুগঞ্জ বাজার থেকে মোঃ আব্দুস সেলিম লিখেছেন এই চিঠিটি। এ শ্রোতাবন্ধু ১৯৯৬ সাল থেকে অনুষ্ঠান শুনলেও এবারই প্রথম চিঠি লিখলেন। তার বড়সড় এ চিঠির কিছু অংশ তুলে ধরছি। আব্দুস সেলিম ভাই লিখেছেন, "রেডিও তেহরান হতে প্রচারিত দৈনন্দিন অনুষ্ঠানসহ কুরআনের আলো, আসমাউল হুসনা, স্বাস্থ্যকথা, ইরান ভ্রমণ, ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস, রংধনু আসর ইত্যাদি সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান আমার ভালো লাগে। আমার সাথে আমার স্ত্রী মোছাঃ হুসনে আরা পারভিন ডেইজিও নিয়মিত সকল অনুষ্ঠান শুনে থাকে।"  গত ১৩ জানুয়ারি রংধনু আসরে মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমির অমূল্য গ্রন্থ মসনবী থেকে প্রচারিত গল্পটি তাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

আকতার জাহান: টানা ২৫ বছর অনুষ্ঠান শোনার পর এই প্রথম চিঠি লিখার জন্য আব্দুস সেলিম ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করি এখন থেকে নিয়মিত লিখবেন।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা কথা বলব ভারতের এক শ্রোতাবোনের সঙ্গে। প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক। (সাক্ষাৎকার)

আশরাফুর রহমান: আমাদের ইমেইলের ইনবক্সে জানুয়ারি মাসের ৩ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত তিন সপ্তাহে ১২টি চিঠি দেখতে পাচ্ছি ভারতের এক সিনিয়র শ্রোতার। বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করেছেন তিনি।

আকতার জাহান: আপনি কি আসামের বড়পেটা জেলার শ্রোতা আব্দুস সালাম সিদ্দিক ভাইয়ের কথা বলছেন?

আশরাফুর রহমান: আপনি একদম ঠিক ধরেছেন। তার সবগুলো চিঠিই প্রিয়জনে প্রচারযোগ্য। ২৩ জানুয়ারির চিঠিতে আবদুস সালাম সিদ্দিক ভাই লিখেছেন, জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আমার ভালোলাগার অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে ছিল চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। এরপর রংধনু আসর যেখানে শিশুদের প্রতি সাইয়্যিদুল মুরসালিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া, সুঅভ্যাস গড়ার উপায়বিষয়ক নতুন ধারাবাহিক 'সুন্দর জীবন' এবং পরিবারবিষয়ক অনুষ্ঠান 'সুখের নীড়' মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। 

নাসির মাহমুদ: নিয়মিত সুন্দর সুন্দর চিঠি লিখায় আবদুস সালাম সিদ্দিক ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আমার হাতে আরও কিছু শ্রোতার ইমেইল রয়েছে। কিন্তু সময়ের অভাবে তাদের চিঠি পড়া সম্ভব হচ্ছে না। আমি বরং চিঠিগুলোর প্রাপ্তিস্বীকার করছি।

  • বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে শরিফা আক্তার পান্না
  • ঢাকা সেনানিবাস থেকে সোহেল রানা হৃদয়
  • এম এইচ সোহেল চট্টগ্রাম থেকে
  • সাতক্ষীর আশাশুনি উপজেলার গাজীপুর থেকে মোঃ আলামিন হোসেন
  • এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থেকে তরুণ মৈত্র

আকতার জাহান: চিঠি লিখার জন্য আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। তো, শ্রোতাবন্ধুরা, আমাদের হাতে আজ আর সময় নেই। আপনার সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন এ কামনা করে বিদায় নিচ্ছি প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে। #

 

 

ট্যাগ