মার্চ ২৯, ২০২২ ১৫:৫২ Asia/Dhaka

শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। আজকের আসরে আপনাদের  স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি গাজী আব্দুর রশীদ এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: আসরের শুরুতেই আমি একটি বাণী শোনাতে চাই। নবীনন্দিনী হযরত ফাতেমা (সা. আ.) বলেছেন, "সত্য বলার কারণে যদি তোমার চারপাশ খালি হয়ে যায়, তাহলে বুঝে নিও তুমি কিছু আবর্জনাকে আগলে রেখেছিলে।"

গাজী আব্দুর রশীদ: খুবই মূল্যবান একটি বাণী শুনলাম। আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করব- এ আহ্বান রেখে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন পাঠিয়েছেন আসরের প্রথম মেইলটি।

তিনি লিখেছেন, "ভালোলাগা আর ভালোবাসার এক প্রিয় বেতারের নাম রেডিও তেহরান। মনের মাধুরী মিশিয়ে কথামালার নাম রেডিও তেহরান। শিক্ষা ও আনন্দ বিতরণের নাম রেডিও তেহরান। সারা বিশ্ব থেকে বেতার যেখানে ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে রেডিও তেহরানের পতাকা আরো উজ্জ্বল হয়ে আকাশে পত্ পত্ করে উড়েছে। আর সেই পতাকার ঔজ্জ্বল্যে দিনকে দিন শ্রোতা সংখ্যা বেড়েই চলছে।"

এরপর তিনি এ শ্রোতাবন্ধু ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত সুখের নীড় অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন।  

নাসির মাহমুদ: রেডিও তেহরান সম্পর্কে চমৎকার মূল্যায়নের জন্য শাহাদত ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের পর এবার ভারতের আসামের বড়পেটা জেলার কান্দুলিয়া থেকে আসা একটি ইমেইল চেক করছি। এটি পাঠিয়েছেন আব্দুস সালাম সিদ্দিক।

তিনি লিখেছেন, "১৭ মার্স শিশু-কিশোরদের মনোরঞ্জনের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান 'রংধনু আসরে ইরানের সুফী সাধক ও কবি জালাল উদ্দিন রুমীর বিখ্যাত গ্রন্থ মসনবী শরীফ থেকে  'অন্ধকারে হাতি দেখা' শিরোনামের একটি মজার গল্প প্রচার হয়েছে। গল্পটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পবিত্র কুরআনের আলোকে প্রকৃত সত্য না জেনে ধারণা বা অনুমানের উপর নির্ভর করে কোনো কিছুর মতামত দেওয়ার বিষয়ে জানতে পারলাম। এরপর বাংলাদেশের একঝাঁক ছোট্টবন্ধুর কণ্ঠে উদ্দীপনামূলক গান এবং সবশেষে ঢাকার বন্ধু সাওদা নওয়ার আলিশার সাক্ষাতকারটি ছিল বেশ উপভোগ্য ও চমৎকার।"

আশরাফুর রহমান: রংধনু আসরটি উপভোগ করেছেন জেনে ভালো লাগল। তাৎক্ষণিক মতামতটির জন্য আব্দুস সালাম সিদ্দিক ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার জলিরপাড় দেবেন বারিকদার পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন,  "আমি রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের নতুন শ্রোতা। আমাদের গোপালগঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল রেডিও ক্লাবের সভাপতি বিধান চন্দ্র টিকাদার রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান সম্পর্কে ক্লাব সদস্যদের অবগত করেছেন। এখন আমরা অনেকেই রেডিও তেহরান অনুষ্ঠান শুনছি। অনেক ভালো লাগে খবরসহ সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানগুলো। "

গাজী আব্দুর রশীদ: একজন নতুন শ্রোতা ও পত্রলেখক হিসেবে শ্রোতাবন্ধু দেবেন বারিকদারসহ গোপালগঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল রেডিও ক্লাবের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আশা করি নিয়মিত আপনাদের চিঠি পাব। 

গাজী আব্দুর রশীদ: বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার খাদিমপুর বাজার থেকে মোখলেছুর রহমা পাঠিয়েছেন আসরের এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, "বেতার শোনা যার নেশা, সে কি বেতারের অনুষ্ঠান না শুনে থাকতে পারে? তাইতো প্রতি দিনের ন্যায় আজকেও আমার প্রাণের বেতার রেডিও তেহরানের সম্প্রচারিত গোটা অনুষ্ঠান অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেছি।" এরপর তিনি সবগুলো অনুষ্ঠানের বিবরণ তুলে ধরেছেন এই চিঠিতে।

নাসির মাহমুদ: মোখলেছুর রহমান ভাইকে ধন্যবাদ অনুষ্ঠান শোনার পাশাপাশি মতামত জানানোর জন্য।

আসরের পরের মেইলটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে। আর পাঠিয়েছেন বিধান চন্দ্র সান্যাল।

এ চিঠিতে তিনি রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা, কলাকুশলী এবং শ্রোতা বন্ধুদেরকে ফার্সি নববর্ষ ১৪০১ বা নওরোজের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, "নতুন বছরের প্রতিটি মাস, প্রতিটি দিন, প্রতিটি ঘণ্টা- মিনিট -সেকেন্ড যেন সকলের মনে সঞ্চারিত করে খুশির জোয়ার। শুধু প্রথম দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিন যেন সকলের সুখে কাটে। সকলের মন থেকে হিংসা-বিদ্বেষ পালিয়ে যাক বহুদূরে। তার জায়গায় আসুক সততা, বিশ্বাস আর ভালোবাসা।"

আশরাফুর রহমান: নওরোজ সম্পর্কে পরের লেখাটি পাঠিয়েছেন মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে। তিনি লিখেছেন, "নওরোজ উপলক্ষে সার্চ ইঞ্জিন গুগল সেজেছে রকমারি ফুলে। রয়েছে রঙ-বেরঙের ফুল, রয়েছে গিটার ও মৌমাছি। গুগলের এই চমক মন কেড়েছে সকলের। আর সেই ফুলে ক্লিক করলেই মিলছে নববর্ষের শুভেচ্ছা। রঙিন ফুলেভরা। সবুজ পল্লব, গুঞ্জনরত মোমাছি। এই নিয়েই গুগল আঁকল তার আজকের ডুডল। কেন আঁকল? আঁকল নওরোজ উৎসবকে মনে রেখে। সেই উৎসবকে শ্রদ্ধা জানাল তারা।"

গাজী আব্দুর রশীদ: নওরোজ উপলক্ষে আরও অনেক শ্রোতা আমাদেরকে ইমেইল করেছেন। কেউ কেউ আবার সুন্দর সুন্দর লেখাও পাঠিয়েছেন। আমি তাদের কয়েকজনের নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি।  

  • ভারতের আসামের বড়পেটা জেলার কান্দুলিয়া থেকে আব্দুস সালাম সিদ্দিক
  • নয়াদিল্লি থেকে জয়ন্ত চক্রবর্তী
  • পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থেকে রাজিব দত্ত।

নাসির মাহমুদ: বাংলাদেশ থেকেও বহু শ্রোতা নওরোজের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের কয়েকজনের নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি।

  • ফরিদপুরের ভালবাসি রেডিও শ্রোতা ক্লাবের সভাপতি জামাল আহমেদ সুবর্ণ
  • নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদি থেকে এইচ এম তারেক
  • খোন্দকার রফিকুল ইসলাম নওগাঁ জেলার সান্তাহার থেকে
  • রংপুর থেকে এটিএম আতাউর রহমান রঞ্জু
  • মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ইমামপুর থেকে আনিকা আন্নি
  • কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে আব্দুল কুদ্দুস
  • রাজবাড়ী জেলার খোশবাড়ী থেকে শাওন হোসাইন
  • চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার কালীপুর বাজার থেকে থেকে তণিমা তন্বী ও প্রথমা প্রমি
  • গোপালগঞ্জের জলিরপাড় থেকে বিধান চন্দ্র টিকাদার
  • ঢাকা সেনানিবাস থেকে সোহেল রানা হৃদয়
  • এবং টাঙ্গাইলের সাগরদীঘি থেকে মোবারক হোসেন ফনি

আশরাফুর রহমান: ফার্সি নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে মতামত ও শুভেচ্ছা জানানোয় আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেখলিগঞ্জ থেকে মনীষা রায় পাঠিয়েছেন আসরের পরের মেইলটি।

তিনি লিখেছেন, "রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠান শুনতে শুনতে ইরান সম্পর্কে আমার হৃদয়ে অসম্ভব ভালোলাগা, অনুরাগ প্রীতি অনুভব হচ্ছে। অনুষ্ঠান শুনে ইরান দেশটি বিষয়ে যতটা জানছি তার থেকেও বেশি জানতে ইচ্ছে করে। এই যেমন সেদেশের ধর্মীয়, সামাজিক জীবন, ভূ-প্রকৃতি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, জলবায়ু-আবহাওয়া, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবস্থা, পড়াশোনা আরো অনেক কিছু। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, যদি কোনো বই-পুস্তক আমার ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতেন- তবে তা পড়ে সমৃদ্ধ হতাম।"

গাজী আব্দুর রশীদ: বোন মনীষা রায়, ইরানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপনার মনে জানার যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে তা জেনে আমাদের ভীষণ ভালো লাগল। তবে এসব বিষয়ে কোনো বই আমাদের কাছে এ মুহূর্তে নেই। ভবিষ্যতে ছাপা হলে নিশ্চয়ই পাবেন। যতদিন বই না পাচ্ছেন ততদিন আমাদের 'ইরান ভ্রমণ' অনুষ্ঠানটি শুনতে থাকুন। আশা করি আপনার জ্ঞানপিপাসা কিছুটা হলেও মিটবে। চিঠি লিখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

নাসির মাহমুদ: বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবো বাংলাদেশের এক সিনিয়র শ্রোতা বিধান চন্দ্র টিকাদারকে।  

আশরাফুর রহমান: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে এস এম নাজিম উদ্দিন পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। এই মেইলে তিনি 'বিশ্ব কুদস দিবস ও ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় ইরান' শীর্ষক একটি লেখা পাঠিয়েছেন। নাজিম ভাই লিখেছেন, "ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিজয় ছিল ইহুদিবাদী ইসরাইলের জন্য একটা চপেটাঘাত। কেননা ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (রহ) কেবল ইরানের জনগণকেই নয় বরং বিশ্বের সকল মুসলমান ও স্বাধীনচেতা মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন,  ফিলিস্তিনিদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য। ইমামের ওই ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হয়। ইমাম খোমেনী ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে বিষাক্ত টিউমার বা ক্যান্সার বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব ইমামের এই আহ্বানে ব্যাপক সাড়া দেয় এবং এই দিনকে কুদস দিবস হিসেবে পালন করতে থাকে। এই দিনে বিশ্বজুড়ে জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল যে,  ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত রাখা।"

গাজী আব্দুর রশীদ: নাজিম ভাইয়ের লেখাটির কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত জানানোয় আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ফরিদপুরের মধুখালী থানার জগন্নাথদী গ্রাম থেকে এম, এম, গোলাম সারওয়ার পাঠিয়েছেন আসরের শেষ মেইলটি।

রেডিও তেহরানকে 'মজলুম জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র' আখ্যায়িত করে তিনি লিখেছেন, "রেডিও তেহরান সার্বজনীন, এটি কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর প্রচার মাধ্যম নয়। এটি গোটা দুনিয়ার মজলুম জনগোষ্ঠীর পক্ষে এবং জালিমের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এই প্রচার মাধ্যমটি সবসময়ই ইহুদিবাদী ইসরাইল ও সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার আতঙ্ক। রেডিও তেহরান কোনো দাম্ভিক শক্তির চোখ রাঙানিকে ভয় করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। আমি এই প্রচার মাধ্যমটির দীর্ঘ যাত্রার সহযাত্রী। এর প্রতিটি অনুষ্ঠান আমাকে বিমোহিত করে।"  

নাসির মাহমুদ: দীর্ঘদিন ধরে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শোনার পাশাপাশি মতামত জানিয়ে ইমেইল করায় গোলাম সারোয়ার ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

শ্রোতাবন্ধুরা, অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নেওয়ার আগে আপনাদের জন্য রয়েছে একটি বিখ্যাত দেশের গান। এটির কথা ও সুর আবু জাফরের। আর গেয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী আমিরুল মোমেনীন মানিক, ওবায়দুল্লাহ তারেক, তাওহিদুল ইসলাম, মিরাদুল মুনিম ও আল-আমিন সা'দ।

আশরাফুর রহমান: তো বন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই চিঠিপত্রের আজকের আসর থেকে।  

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৯

 

ট্যাগ