এপ্রিল ২০, ২০২২ ২০:০২ Asia/Dhaka

গত কয়েকটি আসরে আমরা অন্যের সঙ্গে তুলনা করার নানা ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকের আসরে নিজেকে চেনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করব।

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে তার নিজের সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা হাশরের ১৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন, তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহও তাদেরকে করেছেন আত্মবিস্মৃত। এরা পাপাচারী লোক। আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (আ.) বলেছেন, যারা নিজেকে চিনতে পারলো তারা সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করলো।

নিজেকে চেনার সঙ্গে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে চেনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিজেকে চেনা বা জানার মধ্যদিয়ে মানুষ তার সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জানতে পারে। কেউ যদি তার সৃষ্টিকর্তা বা পালনকর্তা সম্পর্কে জানতে চায় তাহলে তার জন্য সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে নিজেকে চেনা বা জানা। 

প্রিয় বন্ধুরা, সুন্দর ও কাঙিক্ষত জীবনের অধিকারী হতে এবং সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেগুলোর একটি হলো নিজেকে ভালোভাবে চেনা এবং নিজের সম্পর্কে ভালোভাবে জানা। যে নিজেকে চিনতে পারে সে তার নিজের গুণগুলো সম্পর্কে অবহিত হয়। সে বুঝতে পারে তার কী ধরণের কাজ করার ক্ষমতা আছে। আসলে আপনি নিজে আপনার যোগ্যতা ও গুণাবলী সম্পর্কে যতটুকু অবহিত, অন্যরা কখনোই ততটুকু জানতে পারবে না। আপনি নিজেকে চিনতে পারলে আপনার নিজের কাজের ক্ষমতা বুঝতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবেন। অনেকেই মনে করেন, তিনি নিজেকে পুরোপুরি চিনতে পেরেছেন। কিন্তু যখন তাদেরকে জীবনের লক্ষ্য-আদর্শ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় তখন তারা যথোপযুক্ত উত্তর দিতে পারে না। এর অর্থ হলো তারা সঠিকভাবে নিজেকে চিনতে পারেননি।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজেকে চেনা-জানার ওপর মানুষের ব্যর্থতা ও সাফল্য নির্ভর করে। নিজেকে যোগ্যতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত না হয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এ কারণে নিজেকে চিনতে পারার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত রয়েছে। নিজেকে চেনা, আল্লাহকে চেনারই সূচনা। যে নিজেকে জানলো সে তার খোদাকে জানতে পারবে। আর নিজেকে চিনে আল্লাহকে চেনার মধ্যে রয়েছে মানুষে প্রভূত সাফল্য ও পরম শিক্ষা। নিজেকে যদি চেনা না যায় তাহলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিচয় ও শিক্ষা আমরা উপলব্ধি করতে পারবো না। একইসঙ্গে সেসব জ্ঞানের ভালো-মন্দ দিক কিংবা ক্ষতি ও উপকারের দিকগুলো মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হবো। এ কারণে পবিত্র কোরআন মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে নিজেকে নিয়ে এবং এই বিশ্ব চরাচর নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার মধ্য দিয়ে সৌভাগ্য ও সাফল্যের পথ খুঁজে নিতে। 

কোরআন একইভাবে গভীর চিন্তা-ভাবনাকে ইবাদত বলে উল্লেখ করেছে। চিন্তার জন্য চিন্তাশীলদের আহ্বান জানিয়ে কোরআন বলেছে, বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তির সাহায্যে চিন্তা-ভাবনা ব্যতীত কোনো নীতি সঠিক নয়। 

এ কারণেই মানুষের চিন্তা-চেতনাগত ভ্রান্তি ও অবক্ষয়ের পেছনে রয়েছে নিজেকে না চেনা এবং এই বিশ্ব প্রকৃতি সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকা। এই দুইয়ের জ্ঞানহীনতাই মূলত সব ধরনের ভুলভ্রান্তি ও গোমরাহির মূল উৎস। ভুল স্বীকার করে সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার ফলে সমালোচনা গ্রহণ করার মন-মানসিকতা বৃদ্ধি পায়। সেইসঙ্গে নিজের ব্যক্তিসত্ত্বা ও ব্যক্তিত্ব আরও বেশি শক্তিশালী হয়। নিজেকে চিনতে পারার সঙ্গে সমালোচনা গ্রহণের সক্ষমতারও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কারণ সমালোচনা গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা বাড়ে। সুতরাং মানুষ যদি চায় সুস্থ জীবনযাপনের পথে পা বাড়িয়ে সৌভাগ্য, কল্যাণ ও সাফল্যের পথে অগ্রসর হতে তাহলে তাদের উচিত আত্মসচেতন হওয়া এবং নিজেকে চেনা।  পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে আত্মপরিচিতি সরাসরি মানুষের বোধ, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুদ্ধি, বিবেক এবং মেধার সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজের সম্পর্কে মানুষ যত বেশি জানবে, মানুষের চিন্তার গভীরতা তত বাড়বে। আর এটাই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ও সাফল্য। 

যে নিজেকে চেনে না সে নিজেকে বদলাতে পারে না। পৃথিবী বদলানোর মতো শক্তিও তার থাকে না। নিজেকে চেনা ও জানার অংশ হিসেবে আপনাকে নিজের কাছে নিজে প্রশ্ন করতে হবে—আপনি কী চান? কীভাবে বাঁচতে চান? কীভাবে সুখী হন? আপনি কোথায় যেতে চান? কীভাবে যেতে চান?

সৃষ্টিকর্তাকে চেনার পর, সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর আপনি খুব সহজেই এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। #  

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/আবুসাঈদ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ