মে ০৫, ২০২২ ২০:৪১ Asia/Dhaka

সব সুন্দর নাম কেবলই মহান আল্লাহর। তাঁর এমনই এক নাম হল আলবাররু। এর অর্থ দয়া ও পরোপকারের ক্ষেত্রে যিনি অত্যন্ত উদার। অন্যদের জন্য কল্যাণকর বা মঙ্গলজনক কাজে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি দয়াশীল এবং এক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে উদার আর কেউ নেই।

তিনি সৎকর্মশীল ও নেককারদের খুব ভালোবাসেন এবং তাঁদের ব্যাপক সাওয়াব বা পুরস্কার বা নানা ধরনের অনুগ্রহও দান করে থাকেন।

মহান আল্লাহর অশেষ দয়া ও করুণার  কথা  স্মরণ করতে গেলে প্রথমেই বলা যায় যে আমরা সবাই ছিলাম অস্তিত্বহীন, আর মহান আল্লাহই আমাদেরকে অস্তিত্ব দান করেছেন এবং মহাঅনুগ্রহ করেছেন মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত মহান আল্লাহ তাঁর সব বান্দাহ'র কল্যাণকামী এবং তাদের সবার সুখ কামনা করেন বলে তিনি বান্দাহর বহু গোনাহ উপেক্ষা করেন। মহান আল্লাহ অত্যন্ত উদার দাতা বলেই মানুষকে তিনি ইহকালে ও পরকালে অনেক কল্যাণ দান করেন। পাপ করার কারণে তিনি মানুষের রিজিকসহ নানা অনুগ্রহ প্রদান বন্ধ করে দেন না।  অন্যদিকে মানুষকে তিনি সৎ কাজের জন্য দশগুণ সাওয়াব বা পুরস্কার দান করেন।

মহান আল্লাহ মানুষের এত বেশি কল্যাণকামী যে মানুষ যদি সৎ কাজ করার নিয়ত করে বাস্তবে তা করতে সফল না-ও হয় বা পরে  ইচ্ছাকৃতভাবে তা না করলেও তাকে ওই সৎ কাজ সম্পন্ন করার সাওয়াব দান করেন। কিন্তু কেউ যদি মন্দ কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে তা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তা রেকর্ডই করা হয় না। মহান আল্লাহ বেহেশতবাসীদের প্রশান্তি ও আরাম-আয়েশ এবং বিনোদনের জন্য অনেক ধরনের সুখময় নেয়ামতের ব্যবস্থা করেছেন। সুরা তুরে এসব নেয়ামতের কয়েকটির কথা মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন।  বেহেশতে যে কোনো নিরাপত্তাহীনতা ও শাস্তির ব্যবস্থা নেই তথা মানুষ যে সেখানে নির্ভাবনায় মহাসুখে বসবাস করবে সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বেহেশতবাসীরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অতীতের পার্থিব জীবনের সঙ্গে বেহেশতি জীবনের তুলনা করবেন। তারা বলবেন পার্থিব জীবনের নানা ভয় ও দুশ্চিন্তার কথা। পরিবারের সঙ্গে বসবাস করা সত্ত্বেও আমরা নানা ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থার ভয় করতাম। ভয় করতাম খোদায়ি শাস্তির যা যে কোনো সময় নেমে আসতে পারে! ভয় করতাম পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের বিপথগামিতার! ভয় করতাম পাষাণ-হৃদয় শত্রুর কঠোর অনিষ্টতার ও তাদের আকস্মিক হামলার! কিন্তু দয়াময় প্রতিপালক আমাদেরকে দুনিয়া ও এর সব আতঙ্ক থেকে আমাদের দিয়েছেন মুক্তি এবং অশেষ নেয়ামতের কেন্দ্র তথা বেহেশতে আশ্রয় দিয়েছেন!

মহান আল্লাহ যে কত বেশি দয়ালু সেদিন বেহেশতিরা তা উপলব্ধি করে বলবে:

আমরা পূর্বেও আল্লাহকে ডাকতাম। তিনি অত্যন্ত মঙ্গলকামী, পরম দয়ালু।  

আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন: কিয়ামত ও বেহেশতি নেয়ামত মহান আল্লাহর নাম ও গুণগুলোর আলোকোজ্জ্বল প্রকাশস্থল। মুমিনরা এইসব দেখে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় মহান আল্লাহর নাম ও গুণগুলোর বাস্তবতা বেশি মাত্রায় উপলব্ধি করবে।

মহান আল্লাহর অশেষ নেয়ামতের মধ্যে আরেকটি বড় নেয়ামত হল মানুষকে বুদ্ধি-বিবেক প্রদান এবং তাদের সুপথ দেখানোর জন্য নবী-রাসুল পাঠানো। মহান আল্লাহর অশেষ নেয়ামতের অন্যতম হল তাঁর ক্ষমাশীলতা। এ ধরনের বহু করুণা ও কল্যাণকামিতার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর দয়াকে পরিপূর্ণ করেন।

মহান আল্লাহ নিজে কল্যাণকামী তাই তিনি পরোপকারকারীদেরও খুব ভালবাসেন। তাই দেখা যায় মুসলমানদের সামাজিক সম্পর্ক ও নৈতিকতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল অন্যদের জন্য কল্যাণকর কাজ করা ও সদাচরণ বা সদব্যবহার করা। নবী-রাসুল ও পবিত্র ইমামরাও ছিলেন মানুষের কল্যাণকামী ও তাদের উপকারের জন্য নিবেদিত-প্রাণ।

মহান আল্লাহর বার্‌রু নামের প্রভাব যাদের ওপর পড়েছে তাদের সম্পর্কে সুরা বাকারার ১৭৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: 

সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, নামাজের সময় পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্মীয়-স্বজন, এতীম-মিসকিন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহিযগার। -

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় দানশীল-পরোপকারী ও মঙ্গলকামী বা নেককার হওয়া খুব একটা সহজ নয়। সুরা আলে ইমরানের ৯২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন,

কখনও প্রকৃত কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যদি তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে তোমরা ব্যয় না কর। 

সুরা মায়েদার দুই নম্বর আয়াতের একাংশে মহান আল্লাহ বলেছেন: সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা।-

ইমাম মুসা কাযিম (আ) থেকে একটি ঘটনার কথা জানা যায় যে ঘটনায় এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখেন যে তাকে জীবনের সম্পদপূর্ণ ও অভাবের অংশের মধ্যে যে কোনো একটিকে আগে বেছে নিতে বলা হয়েছে। ওই ব্যক্তি স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর অনুমতি চায়। তাকে সেই অনুমতি দেয়া হলে স্ত্রী তাকে আগে সম্পদপূর্ণ জীবনই নিতে বলে। এ অবস্থায় সে ব্যাপক প্রাচুর্যের মধ্যে সুখে বসবাস করে। কিন্তু তার স্ত্রী তাকে ব্যাপক দান খয়রাতও করতে বলে মহান আল্লাহর দয়ার জবাবে কৃতজ্ঞতা হিসেবে যাতে বাকি অর্ধেক জীবনেও সম্পদের প্রাচুর্য অব্যাহত থাকে। দেখা গেল –তা-ই হল। পরে স্বপ্নে তাকে জানিয়ে দেয়া হয় যে অন্যদের কল্যাণ এবং দান-খয়রাতের কারণে তার বাকি অর্ধেক জীবনেও সম্পদের প্রাচুর্য অব্যাহত রেখেছেন মহান আল্লাহ। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে দানশীল, সৎ ও পরোপকারী হওয়ার তৌফিক দান করুন।#

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/ মো: আবু সাঈদ/ ০৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ