মে ২১, ২০২২ ১৮:৩৪ Asia/Dhaka

বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: প্রত্যেক আসরের মতো আজও অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি একটি হাদিস শোনাতে চাই। ইমাম হাসান আসকারি (আ.) বলেছেন, 'অন্যের অপছন্দনীয় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা আত্মশুদ্ধির জন্য যথেষ্ট।'

আকতার জাহান: খুবই মূল্যবান একটি বাণী শোনালেন আশরাফ ভাই। বাণীটির শিক্ষা হচ্ছে- আমরা এমন কোনো কাজ করব না যা অন্যরা অপছন্দ করেন। তো আর কথা না বাড়িয়ে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে।

বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার উত্তর ধলডাঙ্গার শাপলা শর্টওয়েভ রেডিও লিসেনার্স ক্লাব থেকে এসেছে আসরের প্রথম মেইলটি। আর পাঠিয়েছেন ক্লাব সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস।

২৪ ফেব্রুয়ারির প্রচারিত রংধনু অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, "আমরা জানি, অহংকার পতনের মূল এবং আল্লাহপাক অহংকারীকে ভালোবাসেন না। অনুষ্ঠানে অহংকারের পরিণতি সম্পর্কে দাম্ভিক ইঁদুর ও দয়ালু উটের শিক্ষামূলক গল্প এবং সেইসাথে পবিত্র কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি শুধু শিশু-কিশোরদের জন্যই নয় বরং আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে সচেতন করতে বরাবরের মতোই চমৎকার একটি দৃষ্টান্ত। এদিকে তৃষাগ্নি মণ্ডলের উচ্চারণে অহংকারী ব্যাঙকে নিয়ে কবি সুকুমার রায়ের 'বড়াই' কবিতার আবৃত্তি এবং বাংলাদেশি একঝাঁক ছোট্ট বন্ধুর কণ্ঠে গর্ব ও অহংকার নিয়ে সত্য সাহা'র লেখা গানটি ছিল অপূর্ব যা আমার মতে এ সপ্তাহের 'রংধনু' আসরের মানকে বহুলাংশেই বাড়িয়ে দিয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষাংশে সোনামনি সোহেল মুরাদ স্নিগ্ধ'র সাক্ষাৎকার আমাকে যারপরনাই মুগ্ধ করেছে।"

নাসির মাহমুদ: একই অনুষ্ঠান সম্পর্কে ভালোলাগার অনুভূতি জানিয়ে পরের মেইলটি এসেছে কিশোরগঞ্জের খড়মপট্টি থেকে। আর পাঠিয়েছেন শরিফা আক্তার পান্না। তিনি লিখেছেন, "রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে রংধনু আসর ছিল অতুলনীয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন গাজী আব্দুর রশিদ ও আকতার জাহান। তাঁদের চমৎকার উপস্থাপনায় আজকের অনুষ্ঠান আমাদের খুব ভালো লেগেছে। রংধনু আসরটি তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। এমন সুন্দর একটি অনুষ্ঠান তৈরি করার জন্য আশরাফুর রহমান ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।"

আশরাফুর রহমান: 'অহংকারী ইঁদুর ও দয়ালু উটের গল্প' শীর্ষক অনুষ্ঠানটি আপনাদের ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। তো চিঠি লিখার জন্য আব্দুল কুদ্দুস ভাই ও বোন শরিফা আক্তার পান্না আপনাদের দুজনকেই অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আসরের এ পর্যায়ে সরাসরি তেহরানের ঠিকানায় ডাকযোগে আসা একটি চিঠি হাতে তুলে নিচ্ছি। এটি এসেছে ভারতের ছত্তিশপড়ের ভিলাই থেকে। আর পাঠিয়েছেন পরিবারবন্ধু শর্টওয়েভ ক্লাবের সভাপতি আনন্দ মোহন বাইন। তিনি অবশ্য অনেক আগে চিঠিটি লিখেছেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ডাক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় আমরা কিছুদিন আগে চিঠিটি পেয়েছি।

প্রিয়জন অনুষ্ঠান সম্পর্কে আনন্দমোহন বাইন লিখেছেন, চিঠিপত্রের আসরে নতুন-পুরাতন সবার কাছ থেকে মতামত নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া, প্রত্যেক আসরের শুরুতে হাদিস পাঠ- একটি ভালো উদ্যোগ। প্রিয়জনের একটি পর্বে হরিদাস রায়ের সাক্ষাৎকার ভালো লেগেছে বলে এ শ্রোতাবন্ধু উল্লেখ করেছেন।

আকতার জাহান: ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে প্রিয়জন সম্পর্কে মতামত জানানোয় আনন্দ মোহন বাইন আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।  

আকতার জাহান: কুষ্টিয়ার খাদিমপুর বাজার থেকে 'বাংলাদেশ ডিএক্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল'-এর মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন, "প্রতিদিন আপনাদের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানমালা আমি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেছি। সেই পার্সটুডের প্রতিটি ফিচার অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনাদের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান শোনা আর পার্সটুডের ফিচারগুলো পড়ার পাশাপাশি ভালোলাগার ফিচারগুলো বিভিন্ন গ্রুপে ও বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে রেডিও তেহরানের প্রচার পরিচিত বৃদ্ধি করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

চমৎকার সব অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সকল কর্মী ভাই ও বোনকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠিটি শেষ করেছেন এই শ্রোতাবন্ধু।

নাসির মাহমুদ: রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে চমৎকার মূল্যায়ন করায়    মোখলেছুর রহমান ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার ছোট জামবাড়িয়া থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি।

তিনি লিখেছেন, প্রিয়জন অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রচার করে রেডিও তেহরান অনেক শ্রোতাকে আরও আকৃষ্ট করতে সক্ষম হচ্ছে। এছাড়াও রেডিও তেহরান থেকে অনেক শ্রোতার চিঠি প্রিয়জনে প্রচার করা হয় কিন্তু অনলাইন সংস্করণ পার্সটুডেতে দেখা যায় কিছু নিয়মিত শ্রোতার চিঠিই বেশি বেশি প্রকাশ করা হয়।

আশরাফুর রহমান:  ভাই আব্দুল হাকিম মিঞা, আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন পার্সটুডের মতামত বিভাগে কেবল গুরুত্বপূর্ণ ও মানসম্মত লেখাগুলোই প্রকাশ করা হয়। কিন্তু প্রিয়জনে এই নিয়ম মানা হয় না। এখানে আমরা বেশি বেশি চিঠির জবাব দেওয়া চেষ্টা করি।

নাসির মাহমুদ: এ শ্রোতাবন্ধুর চিঠি কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। তিনি দুটি প্রশ্ন করেছেন। একটি প্রশ্নে জানতে চেয়েছেন- করোনা ভাইরাসের কারণে ইরানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি বন্ধ থাকে?

আকতার জাহান: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ইরানেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। মাঝখানে একাধিকবার খোলার চেষ্টা হলেও শেষপর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে করোনার শুরু থেকেই ইরানের অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় তেমন ব্যাঘাত ঘটেনি।

আশরাফুর রহমান:  আব্দুল হাকিম ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো। আশা করি তার কৌতুহল মিটেছে।

বন্ধুরা, অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে রয়েছে এক শ্রোতাবন্ধুর সাক্ষাৎকার। টেলিফোনের অপর প্রান্তে যিনি অপেক্ষা করছেন প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক।

আশরাফুর রহমান:  বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার খোশবাড়ী গ্রামের রংধনু বেতার শ্রোতা সংঘের সভাপতি শাওন হোসাইন পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “আমি বাংলাদেশ বেতারসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বেতার কেন্দ্রের একজন নিয়মিত শ্রোতা। পড়লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনা ও অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানানো আমার এক প্রকারের শখ বলা যায়। প্রতিটি মানুষের বিভিন্ন শখ থাকে বেতার শোনা আমার তেমনই এক প্রকারের শখ। আমি মনে করি- রেডিও তেহরান বর্তমানে একমাত্র গণমাধ্যম যারা শ্রোতাদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। রেডিও তেহরানের সাথে আমার পথচলা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে সেই প্রত্যাশা করি।” সত্য ও ন্যায়ের কন্ঠস্বর রেডিও তেহরান বিশ্বের নিপীড়িত ও মজলুম জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে টিকে থাকবে যুগের পর যুগ সেই প্রত্যাশায় লেখাটির ইতি টেনেছেন এ শ্রোতাবন্ধু।

নাসির মাহমুদ: আপনার মতো অগণিত শ্রোতা একই ধরনের প্রত্যাশা করে। তো চিঠি ও মতামতের জন্য শাওন হোসাইন ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভারতের আসামের বড়পেটা জেলার কান্দুলিয়া থেকে আমাদের নিয়মিত শ্রোতা ও পত্রলেখক আব্দুস সালাম সিদ্দিক পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি।

তিনি চিঠিপত্রর আসর প্রিয়জন সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন এভাবে- “প্রিয়জন শুনে যত আনন্দ, বিনোদন ও জ্ঞান লাভ করি তা অন্য বেতার শুনে সম্ভব হয় না। তাঁর একটি মাত্র কারণ হলো- রেডিও তেহরান শ্রোতাদের চিঠিপত্র ও মতামতের প্রতি যেভাবে গুরুত্ব প্রদান করে অন্য বেতার তেমন করা দেখা যায় না। রেডিও তেহরানের উপস্থাপন রীতিও একেবারে ভিন্ন ও বৈচিত্রপূর্ণ। অন্য বেতার যেখানে শুধু নাম বলেই দায় সারে সেখানে রেডিও তেহরান শ্রোতাদের দীর্ঘ বক্তব্য পাঠ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিঠির বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে। আরেকটি বিষয় হলো- রেডিও তেহরান শ্রোতাদের নির্বাচিত ও মানসম্মত লেখাগুলো নিয়মিত আইআরআইবি’র ওয়েবসাইট পার্সটুডে ডটকমে প্রকাশ করে শ্রোতাদেরকে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগায় যার জুড়ি মেলা ভার।

আকতার জাহান: চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন সম্পর্কে আরও অনেক মূল্যবান কথা লিখেছিলেন এ শ্রোতাবন্ধু। সময়ের স্বল্পতার কারণে সবকথা প্রিয়জনে তুলে ধরা সম্ভব হলো না বলে আমরা দুঃখিত। তো চমৎকার এই চিঠিটির জন্য আব্দুস সালাম সিদ্দিক ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভারতের পর আবারে বাংলাদেশ থেকে আসা একটি ইমেইল পড়তে চাচ্ছি। গোপালগঞ্জের জলিরপাড় থেকে এটি পাঠিয়েছেন কানন রানী টিকাদার

আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবার পর তিনি লিখেছেন, আমি রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের একজন ভক্ত হয়ে উঠেছি। আমার স্বামী বিধান চন্দ্র টিকাদার তিনিও রেডিও তেহরানের একজন অসম্ভব ভক্ত। আমার স্বামীর সাথে আমিও নিয়মিত অনুষ্ঠান শুনছি।  প্রথম দিকে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও এখন দেখছি বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন বিশ্ব সংবাদ, কথাবার্তা, গল্পের আসর, প্রিয়জন, স্বাস্থ্যকথা ইত্যাদিসহ অনেক অনুষ্ঠানই ভালো লাগছে।

আশরাফুর রহমান: অনুষ্ঠান শোনার পাশাপাশি ভালোলাগার অনুভূতি জানিয়ে ইমেইল করায় আপনাকে এবং বিধান চন্দ্র টিকাদার দাদাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

আসরের শেষ মেইলটি এসেছে নওগাঁ জেলার সান্তাহার থানার সাহাপুর কে পাড়া থেকে। আর পাঠিয়েছেন সোর্স অফ নলেজ ক্লাবের সভাপতি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।

তিনি লিখেছেন, “আপনাদের চিঠিপত্রের জবাব দানের অনুষ্ঠান ‘প্রিয়জন’ আমার অতি প্রিয় একটি অনুষ্ঠান। আমি প্রিয়জন অনুষ্ঠানে ইরানের "কুরানাবাদ" গ্রাম সম্পর্কে কিছুটা জানতে চাই।

নাসির মাহমুদ: কুরআনাবাদ গ্রামটি ইরানের শিরাজ শহর থেকে ১৭৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এটির পূর্বনাম মুহাম্মদাবাদ। পবিত্র কুরআনের হাফেজের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের প্রথম স্থানে রয়েছে এই গ্রামটিতে। ২০১৭ সালের হিসাব অনুযায়ী এই গ্রামে রয়েছে ৬৩ জন হাফেজ। একই গ্রামের সাহিবুজ্জামান (আ) নামক হুসাইনিয়ায়  প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষ বার কুরআন খতম  করা হয়।

আকতার জাহান: খোন্দকার রফিকুল ইসলাম ভাইয়ের প্রশ্নের জবাব দেওয়া হলো। আশা করি তার কৌতুহল মিটেছে।

তো শ্রোতাবন্ধুরা, অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নেওয়ার আগে আপনাদের জন্য রয়েছে একটি গান। 'আল্লাহ আল্লাহ বলো মুখে মুখে' শিরোনামের কবিতাটি লিখেছেন সাইফ সিরাজ, সুর করেছেন মুহাম্মদ বদরুজ্জামান আর গেয়েছেন সায়েদ আহমদ, আবু রায়হান, ইকবাল মাহমুদ, আহফুজুল আলম ও তাদের সঙ্গীরা।

আশরাফুর রহমান: শ্রোতাবন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/মো.আবুসাঈদ২১

ট্যাগ