জুন ১৮, ২০২২ ১৮:৩৯ Asia/Dhaka

আজকের আসরে আমরা শুনবো চমৎকার একটি প্রাচীন গল্প। গল্পটি এরকম: বিস্তীর্ণ এক প্রান্তরে একটি উট, একটি গরু এবং একটি মেষ একত্রে হাঁটছিলো।

তাদের মাঝে বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। হাঁটতে হাঁটতে তারা তাদের ফেলে আসা শৈশব কৈশোর এবং যৌবনকালের বিচিত্র স্মৃতিচারণ করছিলো। সেইসাথে নিজেদের জীবনের সুখকর এবং হাসির উদ্রেককারী বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছিলো।

সময়টা ছিল বেশ ভালো, বসন্তকাল। আবহাওয়াও ছিল উপভোগ্য। খোশ আলাপ করতে করতে তারা গিয়ে পৌঁছলো এমন এক জায়গায় যেখানে খুব মজার এবং সুস্বাদু বিরল প্রজাতির ঘাস ছিল। স্বাভাবিকভাবেই তিন বন্ধু খুশি হয়ে গেল ওই উদ্ভিদ দেখে। উট বললো: ‘আমরা এই উদ্ভিদগুলোকে সমান তিন ভাগে ভাগ করে নিয়ে যে যার অংশ খাবো’। মেষ একবার ভালো করে উদ্ভিদগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলো পরিমাণে খুবই কম। পা দিয়ে সেগুলোকে একবার নেড়েচেড়ে দেখে বললো: এই সামান্য ঘাস যদি ভাগ করতে যাই প্রত্যেকের ভাগেই খুব কম পরিমাণে পড়বে, কারও পেটই ভরবে না।

মেষের পর গরু বললো: ঠিকই বলেছো কিন্তু কী করা যাবে? এই সুস্বাদু ঘাস যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকতো তাহলে খুবই ভালো হতো। কিন্তু নাই যেহেতু, সেহেতু ভাগ না করে উপায় কী?

মেষ বললো: কেন, উপায় আছে। আমি একটা চিন্তা করেছি। উট এবং গরু অবাক হয়ে জানতে চাইলো: কী ভেবেছো?

মেষ একবার উদ্ভিদের দিকে আরেকবার তার বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বললো: উপায় হলো আমাদের তিনজনের যে কোনো একজন সবগুলো উদ্ভিদ খাবে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই একটা প্রবাদ সবাই শুনে এসেছি আমরা। সেটা হলো মুরব্বিদের সম্মান করা ওয়াযিব। যারা ছোটো তাদের উচিত বড়দের জন্য নিজেদের ছোটোখাটো অধিকার ত্যাগ করা।

উট এ কথা শুনে বললো: আইডিয়াটা মন্দ না। কিন্তু আমরা কী করে জানবো যে আমাদের তিনজনের মাঝে কে বেশি বয়স্ক?

মেষ বললো: প্রথম প্রস্তাব যদি সবাই মেনে নিই তাহলে আমরা সবাই নিজ নিজ জন্মতারিখ ঘোষণা করতে পারি। তাহলেই বোঝা যাবে বয়সে কে বেশি বড়ো। যে-ই বয়োবৃদ্ধ হিসেবে সাব্যস্ত হবে সেই খাবে এই ঘাসগুলো। উট এবং গরু মেষের কথা মেনে নিয়ে বললো: চিন্তাটা বেশ ভালো। এবার আমরা আমাদের নিজ নিজ বয়স নিয়ে কথা বলতে পারি। তারা প্রথমেই মেষকে বললো তার বয়স নিয়ে কথা বলতে। মেষ একটু ভারিক্কি ভাব দেখিয়ে গোঁ গোঁ করে কিছুটা অহংকারের স্বরে বললো: আমার বয়স হযরত ইসমায়িল (আ) এর কুরবানির সময় থেকে হিসেব করো।

উট আর গরু অবাক দৃষ্টিতে মেষের দিকে তাকালো। গরু বললো: তার মানে তোমার বয়স এতো বেশি?

মেষের বয়স শুনে গরু এবং উট যখন অবাক তখন মেষ গর্বের সাথে বলে উঠলো: হ্যাঁ, যে কোনো মেষকে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবে। আমি আমার ছোটোবেলায় যে চারণভূমিতে ঘুরে বেড়াতাম সেই চারণভূমিতে ইসমায়িল (আ) এর পরিবর্তে কুরবানী করা মেষটিও আমার সাথে চরে বেড়াতো। ও আমার বন্ধু ছিল, খুব ভালো বন্ধু। সেই মেষটি আমাদের গোত্রেরই ছিল।

উট এবং গরু মেষের কথা শুনে ঢোক গিললো। গরু বললো: আমি এখন বলছি আমার বয়সের কথা। দেখি কার বয়স বেশি-তোমার বয়স না আমার বয়স? মেষ গরুর দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ পর বললো: বেশ ভালো কথা। ঠিক আছে বলো দেখি, তোমার বয়স কতো? কবে জন্ম হয়েছে তোমার?

গরু বললো: আমি মেষের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক। মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ) এর দুটি গরু ছিল। ওই দুটি গরু দিয়ে তিনি জমি চাষ করতেন। তাদেরই একটি হলাম আমি।

মেষ এবার বুঝতে পারলো গরু তো তার চেয়েও বেশি চালাক। মনে মনে বললো: ভুল হয়ে গেছে। আমি যদি সবার আগে বয়স বলতে রাজি না হতাম তাহলেই ভালো ছিল। ফাঁদে ফেঁসে গেলাম। এখন তো কোনোরকম প্রতিবাদও করা যাবে না। এখন যদি বলি যে গরু মিথ্যা বলছে, তাহলে তো আমার মিথ্যাচারও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

গরু দেখলো উট এবং মেষ অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। গবগব করে বললো: হ্যাঁ! বয়সটা আমার বেশীই। এতোই বেশি যে তোমরা গুণেও শেষ করতে পারবে না। বলতেও পারবে না কতো বয়স আমার।

উট এবার মনে মনে বললো: হায় রে দুষ্টু গরু! হায় রে মেষ! তোমরা আমার সামনে তোমাদের বয়সের কথা বলছো? এমন কাজ করবো যে সারাজীবন মনে থাকবে আমাদের তিনজনের মাঝে কার বয়স বেশি?

বয়স বলার আগে উট একটা মজার হাসি দিলো এবং ঘাসগুলো খতে শুরু করে দিলো। বিরল এই উদ্ভিদগুলো খুবই সুস্বাদু ছিল। উদ্ভিদগুলো সব খেয়ে উট গরু এবং মেষের দিকে তাকিয়ে বললো: আমি তোমাদেরকে বলতে চাই না যে আমার বয়স কতো কিংবা তোমাদের চেয়ে আমার বয়স কতো বেশি। আমার শরীরের দিকে কিংবা আমার ঘাড়ের দিকে যদি কেউ ভালোভাবে একটু দৃষ্টি দেয় তাহলেই সে বুঝতে পারবে আমি বয়সে তোমাদের চেয়ে কতো বড়ো। আমার জন্ম কবে কোথায় হয়েছে সে কথা বলার অপেক্ষাই রাখে না। আমাকে যে-ই দেখবে সে-ই বুঝতে পারবে যে আমি অন্তত তোমাদের চেয়ে ছোটো নই-কী বলো!

গরু আর মেষ বিস্ময়ের সাথে উটের দিকে তাকিয়ে অনুতাপ বোধ করলো। অনুতাপ এইজন্য যে তারা দুজনই নিজেদের বয়স সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা দিয়েছিল। সেই মিথ্যাচারের জন্যই তারা এখন অনুতপ্ত।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/মো.আবুসাঈদ/ ১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ