আগস্ট ২০, ২০২২ ২০:৪৭ Asia/Dhaka
  • ইরানে রুশদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
    ইরানে রুশদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

সালমান রুশদি একজন ইসলাম বিদ্বেষী কুখ্যাত ব্রিটিশ লেখকের নাম। ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিতর্কিত স্যাটানিক ভার্সেস অর্থাৎ 'শয়তানের পদাবলী' বইটি বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল। তার এ লেখার প্রতিবাদে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শয়তানি চক্রের অর্থ সহায়তা ও তাদের উস্কানিতে এ বইটি লেখা হয়েছিল।

সম্প্রতি রুশদির ওপর হামলার ঘটনা আবারো সবাইকে মুসলিম বিদ্বেষী এ লেখকের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এ সম্পর্কিত আলোচনার আজ রয়েছে প্রথম পর্ব।

বিশ্বের ওপর বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের জন্য পাশ্চাত্যের নতুন কৌশল হিসেবে 'স্যাটানিক ভার্সেস' বইটি লেখা হয়েছিল। এ বইটি লেখার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের সুমহান মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা। ইউরোপসহ সমগ্র পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো একযোগে এ বইটির পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকে এবং এটাকে তারা ব্রিটেনে ওই বছরের সেরা বই হিসেবে নির্বাচন করে। ফলে অস্বাভাবিকভাবে এবং খুব দ্রুত সারা বিশ্বে এ বইটির খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। বইটিতে বিশ্বনবীর অবমাননা করার ধৃষ্টতা দেখানোয় ব্রিটেনের মুসলমানরা ছাড়াও সারা বিশ্বের মুসলমানরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিশেষ করে ইরান, পাকিস্তান, ভারত, সুদান, আফগানিস্তান, লেবানন, কেনিয়া, থাইল্যান্ড, তানজানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভেনিজুয়েলা থেকে সবচেয়ে বেশী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের জনগণও প্রতিক্রিয়া জানায় এবং এ বইটি নিষিদ্ধের দাবি জানায়। সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল ইরানের পক্ষ থেকে। ইরানের লাখ লাখ মানুষ ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।  

সালমান রুশদি তার স্যাটানিক ভার্সেস অর্থাৎ 'শয়তানের পদাবলী' বইটিতে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে মস্করা করে এবং বিশ্বনবীকে অবমাননার ধৃষ্টতা দেখায়। এ কারণে ১৯৮৮ সালে ইসলামি ইরানের স্থপতি মরহুম ইমাম খোমেনি সালমান রুশদির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ফতোয়া জারি করেছিলেন। ইমাম খোমেনি তার ওই ফতোয়ার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ও পাশ্চাত্যের গভীর ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দেন এবং মুসলিম সরকার ও জনগণকে এসব ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। ইমাম খোমেনির এ ফতোয়া জারির পর ব্রিটেন সরকার দ্রুত সালমান রুশদির জন্য কঠোর পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফতোয়া জারির পর রুশদি নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য প্রথম ছয় মাসে অন্তত ৫৬ বার নিজের বাসভবন ও ঠিকানা পরিবর্তন করে এবং ২০০২ সাল অর্থাৎ ১৩ বছর পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরারে গা ঢাকা দিয়ে ছিল।

কুখ্যাত ইসলাম বিদ্বেষী ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদি

ইমাম খোমেনি (র.)এর ফতোয়া জারির ছয় মাসের মধ্যে লেবাননি বংশোদ্ভূত ফরাসি যুবক মোস্তফা মাহমুদ মাজাহ প্রথমবার ১৯৮৯ সালের ৫ আগস্ট একটি হোটেলে সালমান রুশদির আত্মগোপনের স্থান শনাক্ত করেন।

তিনি ওই একই হোটেলে চারদিনের জন্য রুম ভাড়া নেন। তৃতীয় দিনের মাথায় হোটেলের এক নারী কর্মচারীকে রুশদির আসা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর সন্দেহের তালিকায় পড়েন এবং দ্রুত ব্রিটিশ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী তাকে ধরার জন্য হোটেলে প্রবেশ করে। এ অবস্থায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তিনি গ্রেফতার হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করেন।

এরপর ২০১৮ সালের দিকে সালমান রুশদি ফ্রান্স সফরে গিয়ে বলেছিল ৩০ বছর হলো এখন তিনি ভালো আছেন। রুশদি আরো বলেছিল, ইমাম খোমেনি যখন ফতোয়া দিয়েছিলেন তখন আমার বয়স ছিল ৪১ এবং এখন আমার বয়স ৭১ বছর। আমরা এখন এমন এক যুগে বাস করছি যখন উদ্বেগের কারণ বা বিষয়বস্তুর দ্রুত পরিবর্তন হয় এবং আমাদের উদ্বেগ ও ভয়ের পেছনে ভিন্ন কারণ রয়েছে।

রুশদির এ বক্তব্যের পর চার বছর পার না হতেই চলতি বছর ১২ আগস্ট ২৪ বছর বয়সী হাদি মাতার নামে এক যুবক তার ওপর হামলা চালায়। আমেরিকার নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের এই যুবক ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়ে রুশদিকে মারাত্মকভাবে আহত করে এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আটক হাদি মাতার

এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, মুসলিম বিশ্ব আজো সজাগ ও সরব রয়েছে এবং নিজেদের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি অটল রয়েছে। 

ইসলাম বিদ্বেষী কুখ্যাত লেখক সালমান রুশদি বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)এর মতো এমন এক ব্যক্তিকে অবমাননা করেছে যার কারণে অসংখ্য মানুষ হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছিল এবং শত শত বছর ধরে এ ঐশী বাণী আজো মানুষ বহন করে চলেছে। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর পতাকা আজো বিশ্বের বুকে পত পত করে উড়ছে। বিশ্বনবী গোটা মানব সমাজকে যে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন এবং যে সেবা করে গেছেন তার কারণেই তিনি মহামানব হিসেবে সবার হৃদয়ে স্থান করে আছেন। ইসলামের মহান নবী সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময় ও শক্তিমান আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরে মানবজাতিকে শিরক, নাস্তিকতা, মূর্তিপূজা, কুসংস্কার ও মিথ্যা যাদুবিদ্যার শৃঙ্খল থেকে রক্ষা করেছিলেন। বিশ্বনবী মানুষের জীবনের অন্ধকার স্তর ভেদ করে আলোর জানালা খুলে দিয়েছিলেন। 

বহু বছর ধরে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)এর মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এ অন্যায় অপকর্মের পেছনে পাশ্চাত্য সরকারগুলোরও সমর্থন রয়েছে। মুসলিম বিদ্বেষী প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র জগতে মুসলমানদেরকে সহিংসকামী ও উগ্র চরমপন্থী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলে আসছে। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষী প্রচার প্রপাগাণ্ডা সত্বেও মানুষের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে আরো জানার এবং বিশ্বনবীর জীবন ও তাঁর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গবেষণা করার আকাঙ্ক্ষা বহুগুণে বেড়েছে। ব্রিটেনের এক অমুসলিম গবেষক মিসেস কার্ন আর্মস্ট্রং হচ্ছেন এমনই একজন ব্যক্তিত্ব। সালমান রুশদি বিশ্বনবীকে অবমাননা করার পর তিনি ইসলামের ওপর ব্যাপক গবেষণা চালান। পাশ্চাত্যের একজন মুক্তচিন্তাবিদ হিসেবে এই ব্রিটিশ লেখিকা 'মোহাম্মদ' নামে তার এক বইয়ে মানবজাতির ইতিহাসে বিশ্বনবীর ব্যক্তিত্বের ব্যাপক প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন।

ইসলামকে বিকৃতভাবে তুলে ধরার জন্য পাশ্চাত্যের প্রচারমাধ্যমগুলো ব্যাপক চেষ্টা চালালেও ব্রিটিশ অমুসলিম গবেষক ও লেখক মিসেস কার্ন আর্মস্ট্রং লেখা মোহাম্মদ বইটি তাদের জন্য উপযুক্ত জবাব।

ইসলামের সত্যতা তুলে ধরা এবং ইসলামের নবীর ব্যাপারে পাশ্চাত্যের খ্রিস্টানদের মনে স্পষ্ট ধারণা দেয়াই 'মোহাম্মদ' নামে বইটি লেখার মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করে এই ব্রিটিশ লেখক বলেছেন, বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বের মানুষের উচিত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করে এই রঙিন পৃথিবীতে নিজেকে পরিচালনা করা।  #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ