২০১৯-১১-০৪ ১৮:৫৬ বাংলাদেশ সময়

রংধনু আসরের কাছের ও দূরের শিশু-কিশোর বন্ধুরা,  তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, ১ রবিউল আউয়াল হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক দিন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নব্যুয়ত লাভের ১৩তম বছরের এই দিনে মহান আল্লাহর নির্দেশে মদীনায় হিজরত করেন।

'হিজরত' শব্দের সাধারণ অর্থ হচ্ছে পরিত্যাগ কিংবা পরিবর্জন। কিন্তু ইসলামী পরিভাষায় হিজরত বলতে বুঝায়, দ্বীন ইসলামের খাতিরে নিজের দেশ ছেড়ে এমন স্থানে গমন করা যেখানে গেলে উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে। আমরা যদি ইসলামের ইতিহাসের দিকে নজর দেই তাহলে দেখতে পাব যে, মদীনায় হিজরতের মাধ্যমেই রাসূলেখোদার উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছিল। ওই শহরে হিজরত করার কারণেই শহরটির নাম হয়েছে মদিনাতুন্নাবী বা নবীর শহর; বর্তমানে যা মদীনা নামেই পরিচিত।

মদীনায় হিজরত দিবস উপলক্ষে আজকের আসরে রয়েছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে অনুষ্ঠানটি শোনা যাক। 

মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত

বিশ্বনবী (সা.)-এর নব্যুয়তের প্রথম দিকে যেসব মুসলমান মক্কায় কাফিরদের হাতে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল, নবীজি তাদেরকে মদিনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন। এটা টের পেয়ে কাফিররা মুসলমানদের ওপর জুলুমের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয় এবং তারা যাতে মক্কা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে জন্যে সব ধরনের  চেষ্টা চালায়। কিন্তু মুসলমানেরা তাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততির জীবন বিপন্ন করেও নিছক দ্বীনের খাতিরে দেশ ত্যাগ করাকেই পছন্দ করে। কোনো ভয়-ভীতিই তাদেরকে এই সংকল্প থেকে বিরত রাখতে পারেনি। এভাবে নবুয়্যতের ত্রয়োদশ বছরের শুরু পর্যন্ত বহু সাহাবী মদীনায় হিজরত করেন।

কুরাইশরা যখন দেখতে পেল যে, মুসলমানরা একে একে মদীনায় গিয়ে শক্তি সঞ্চয় করছে এবং সেখানে ইসলাম ক্রমশ প্রসার লাভ করছে তখন তারা ইসলামকে চিরতরে খতম করে ফেলার উপায় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে লাগল।

একদিন দারুন-নাদওয়ায় কুরাইশ প্রধানদের পরামর্শ সভা বসল। সভার উদ্যোক্তারা মদীনায় মুসলমানদের সমবেত হওয়া এবং আওস ও খাজরাজ গোত্রের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদনের বিপদ ও এর ভয়াবহতা তুলে ধরে আলোচনা শুরু করল।

তারা বলল, “আমরা পবিত্র হারাম-এর অধিবাসীরা সকল গোত্রের কাছে সম্মানিত ছিলাম কিন্তু মুহাম্মদ আমাদের মাঝে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করে বিপদ সৃষ্টি করেছে। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আমাদের এখন মুক্তির পথ খুঁজতে হবে। আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে, আমাদের মধ্য হতে সাহসী কেউ গোপনে মুহাম্মদকে হত্যা করবে। যদি এতে বনি হাশিম রক্তপণ চায় তাহলে আমরা সকলে তা পরিশোধ করব।”

এরপর অন্যরাও করণীয় সম্পর্কে কিছু বক্তব্য রাখল। সবার বক্তব্য শেষ হলে কাফেরদের দলনেতা আবু জাহল বলল, “একমাত্র নির্ভুল পথ হলো আমরা প্রতিটি গোত্র থেকে এক ব্যক্তিকে মনোনীত করব। তারা সম্মিলিতভাবে রাত্রিতে মুহাম্মদের গৃহে আক্রমণ করবে এবং তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলবে। এতে করে মুহাম্মদের খুনের দায়দায়িত্ব সকল গোত্রের ওপরই বর্তাবে এবং বনি হাশিম সকলের সঙ্গে যুদ্ধে সক্ষম হবে না।”

এ মতটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো। তখন প্রতিটি গোত্র হতে একেক ব্যক্তিকে মনোনীত করা হলো। তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হলো পরের রাতে সম্মিলিতভাবে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য।

এ হঠকারী ও অবিবেচক গোত্রপ্রধানরা ভেবেছিল যে, তাদের এ পরিকল্পনার মাধ্যমে আল্লাহ্পাকের মদদপুষ্ট নবী (সা.)-এর নবুওয়াতের মিশনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে। কিন্তু তারা এ চিন্তা করে নি যে, মহানবীও পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীর ন্যায় ঐশী সাহায্যপ্রাপ্ত। যাইহোক,  মহান আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে রাসূলকে মুশরিকদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিশ্বনবীকে জানিয়ে দেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:  "এবং যখন কাফিররা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তোমাকে বন্দী করবে অথবা হত্যা করবে অথবা তোমাকে নির্বাসিত করবে। তারা যেমন ষড়যন্ত্র করে মহান আল্লাহ্ও তেমনি পরিকল্পনা ও কৌশল অবলম্বন করেন এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী।”

এই আয়াত নাজিলের মাধ্যমে মহানবী (সা.) আল্লাহ পক্ষ থেকে মদীনার উদ্দেশে যাত্রার জন্য নির্দেশ পান। প্রথম রবিউল আউয়ালের রাতে বিশ্বনবী (সা.) তাঁর আপন চাচাতো ভাই হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-কে নিজের বিছানায় শুয়ে থাকতে বলেন যাতে কাফিররা এটা মনে করে যে, মুহাম্মদ এখনও নিজ ঘরেই আছে। আর এই সুযোগে রাসূলেখোদা মক্কা ত্যাগ করতে সক্ষম হবেন। 

হযরত আলীকে নবীজি বললেন, “আজ রাতে তুমি আমার বিছানায় ঘুমাবে এবং যে সবুজ রঙের চাদরটি দিয়ে আমি নিজেকে ঢেকে রাখি তা দিয়ে তুমি নিজের গায়ে দেবে। শত্রুরা আমাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছে। তাই আমি মদীনায় হিজরত করছি।”

নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও যুবক আলী (আ.) অত্যন্ত আনন্দচিত্তে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বনবী (সা.) বিছানায় শুয়ে থাকার জন্য হযরত আলীর প্রশংসায় নাজিল হয় সুরা বাকারার এই আয়াত:

"আর মানুষের মাঝে একজন রয়েছে যে আল্লাহর সন্তুষ্টিকল্পে নিজের জীবনবাজি রাখে। আল্লাহ হলেন তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান।" (বাকারা: ২০৭) 

নবীজির নির্দেশে হযরত আলী (আ.) ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুটা রাত্রি হয়ে আসলে চল্লিশ জন ঘাতক নবীর গৃহকে ঘিরে ফেলল। তারা দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে ঘরের ভেতর সব কিছু স্বাভাবিকভাবে লক্ষ্য করে ভাবল- শয্যায় যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে রয়েছেন তিনিই স্বয়ং নবী। এই ফাঁকে কাফিরদের চোখে ধূলো দিয়ে মহানবী (সা.) ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।  

ভোর হওয়ার পর  অবরোধকারী মুশরিকরা  উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে রাসূলের কক্ষে প্রবেশ করল। তখন হযরত আলী (আ.) গা থেকে চাদর সরিয়ে তাদের প্রশ্ন করলেন, “তোমরা কি চাও?” তারা বলল, “মুহাম্মদকে চাই। তিনি কোথায়?”

আলী (আ.) বললেন, “তোমরা কি তাঁকে আমার কাছে আমানত রেখে গিয়েছিলে যে, আমার কাছে তাঁর অবস্থান জিজ্ঞাসা করছ? তিনি এখন ঘরে নেই।”

এ কথা শুনে তাদের চেহারা ক্ষোভে লাল হয়ে গেল এবং ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করায় চরমভাবে অনুতপ্ত হলো। পূর্ব পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে তারা রাসূলকে ধরতে নতুন পরিকল্পনা নিল। তারা মদীনা যাওয়ার সকল পথ বন্ধ করে দিল এবং এসব পথে প্রহরী নিয়োগ করল। পায়ের চি‎‎হ্ন দেখে অবস্থান শনাক্ত করতে পারদর্শী ব্যক্তিদের ডেকে আনা হলো। যে ব্যক্তি মহানবীর অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারবে তার জন্য একশ’ উট পুরস্কার ঘোষণা করা হলো। কুরাইশদের একদল মক্কার উত্তর দিকে মদীনার পথে এ কাজে নিয়োজিত হলো। অথচ নবী (সা.) তাদের বিভ্রান্ত করতে মদীনার পথের ঠিক বিপরীতে মক্কার দক্ষিণের সওর পর্বতের গুহায় আত্মগোপন করেছিলেন।

মক্কার প্রসিদ্ধ পদচি‎হ্ন ও চেহারা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আবু কারাস রাসূলেখোদার পায়ের চিহ্নের সঙ্গে পরিচিত ছিল। সে ওই পদচি‎‎হ্ন লক্ষ্য করে এগিয়ে যেতে যেত সওর পর্বত পর্যন্ত পৌঁছল এবং কুরাইশদের উদ্দেশ্যে বলল, “মুহাম্মদ সম্ভবত এ পর্বতের গুহায় আত্মগোপন করেছে।” এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দেয়া হলো গুহার ভেতরে লক্ষ্য করার। সে গুহার মুখে এসে দেখতে পেল গুহার মুখ মাকড়সার ঘন জালে আবৃত এবং এক বুনো কবুতর সেখানে বসে ডিমে তা দিচ্ছে।

সে গুহায় প্রবেশ না করেই ফিরে এসে বলল, “গুহার মুখে মাকড়সার ঘন জাল রয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে কেউ নেই।” তিনদিন ধরে মহানবীকে ধরার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হলো। অতঃপর তারা হতাশ হয়ে এ কাজ হতে বিরত হলো। কাফেররা মক্কায় ফিরে গেলে নবীজির মদীনার পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ল। এরপর তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে প্রায় চারশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১২ রবিউল আউয়াল মদীনার কুবায় পৌঁছেন। সেখানে অবস্থানকালে নবীজি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। কয়েকদিন অবস্থান করে তিনি মদীনা শহরের দিকে রওয়ানা করলেন।

রাসূল (সা.) মদীনার নিকটবর্তী ‘সানিয়াতুল বিদা’ নামক স্থানে পৌঁছলে শিশু-কিশোর ও  যুবকরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে এগিয়ে এল। শিশুরা নবীজির উদ্দেশে গান গেয়ে মদীনার আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুলল। তারা যে গানটি গেয়েছিল তা ছিল এ রকম-

তালা'আল বাদরু 'আলাইনা, মিন সানিয়াতিল-ওয়াদা'

ওয়াযাশ শুকরু 'আলাইনা, মা দা'আ লিল্লাহি দা'

বন্ধুরা, এ গানটি থেকেই তোমরা বোঝা যায় যে, মদীনার শিশুরা নবীজিকে কাছে পেয়ে কতটা খুশি হয়েছিল! অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে আমরা বিশ্বনবীর সাহাবী আবু নায়ীমের জীবন থেকে নেয়া একটি ঘটনা শোনাব যে যে স্মৃতিতে অম্লান হয়ে জড়িয়ে আছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)!

বিশ্বনবী যেদিন হিজরত করে মদীনায় যান সেদিন শহরের অলি গলি শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য ও কোলাহলে মুখরিত ছিল। রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে তারা ছুটোছুটি করছিল। কচি কাঁচা শিশুদের হাসির কলোরোল যেন গোটা মদীনা শহরেই ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।

সাহাবী আবু নায়ীম বলেন, মহানবী (সা) ও তাঁর কাফেলা শহরের দিকে আসছে এটা দেখতে পেয়ে আমরা আমাদের খেলাধুলা বন্ধ করলাম এবং আল্লাহর প্রিয় নবীর আগমনের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলাম। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, কোনো কিছুই আমাদেরকে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখতে পারত না। কিন্তু সব সময় মুখে হাসি লেগে থাকা প্রিয় নবীজীকে দেখলেই আমরা খেলা ভুলে যেতাম। রাসূলের কাফেলা যখন শহরে ঢুকে পড়ল তখন আমরা শিশুরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত অবস্থায় তাঁর দিকে ছুটে গেলাম। ভ্রমণের কারণে শ্রান্ত ও ক্লান্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি আমাদের জন্যে থামলেন এবং আমাদেরকে তাঁর দিকে আসার জন্যে সাহাবীদেরকে পথ ছেড়ে দিতে বললেন।

আবু নায়ীম বললেন, আমার ছোট্র বন্ধুদের অনেকেই রাসূল (সা.)কে জড়িয়ে ধরল এবং কেউ কেউ খুশীতে মত্ত হয়ে তাঁর চারদিকে পাখীর মতো ঘুরতে লাগল। রাসূলের সাহাবীরা আমাদের বাধা দিতে চাইলেন, কিন্তু রাসূল তাঁদেরকে তা করতে দিলেন না, বরং তিনি অত্যন্ত দয়ার দৃষ্টিতে আমার বন্ধুদের বুকে জড়িয়ে নিলেন। আমিও প্রিয় নবীর কাছে আসার জন্যে অপেক্ষা করছিলাম কিন্তু লাজুক হওয়ায় আমি এক কোণে সরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং আনন্দের এ দৃশ্যগুলো দেখছিলাম।

এমন সময় রাসূল মিষ্টি হাসি হেসে আমার দিকে তাকালেন। তিনি আমার দিকে এগিয়ে এলেন এবং এগিয়ে আসতে আসতে তিনি আমার দিকে তাঁর দু'হাত বাড়িয়ে দিলেন। আর আমিও প্রবল ইচ্ছা নিয়ে রাসূল (সা.)কে আলিঙ্গন করতে এগিয়ে গেলাম। রাসূলখোদা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন,  আমার কপালে চুমু দিলেন এবং আমার পিঠ চাপড়িয়ে দিলেন। এটা ছিল আমার জন্যে অবর্ণনীয় মুহূর্ত যা আমি কখনো ভুলব না। মহানবীর সান্নিধ্যের সেই স্মৃতি কতো মধুর! ইস! সেই দিনগুলো যদি আর একবার ফিরে আসত!

মসজিদে নববী

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই জানে যে, মদীনায় আগমনের পর রাসূল (সা.) সবচেয়ে প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল একটি মসজিদ নির্মাণ করা। তিনি যেখানে অবস্থান করছিলেন, তার কাছেই দুই ইয়াতিমের কিছু অনাবাদী জমি ছিল। নগদ মূল্যে তাদের কাছ থেকে ওই জমিটি কিনে তার ওপর মসজিদ নির্মাণ করেন যা মসজিদে নববী নামে পরিচিত।  

মসজিদে নববীর নির্মাণ কাজ শেষ হলে একদিন হযরত (সা.) আনসারদের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তি এবং মুহাজিরদের ভেতর থেকে এক ব্যক্তিকে ডেকে বললেন, ‘আজ থেকে তোমরা পরস্পর ভাই।’

এভাবে ৭৪০ জন সাহাবিকে জোড়ায় জোড়ায় ভ্রাতৃত্ব-বন্ধনে চুক্তিবদ্ধ করেন। এই জোড়াগুলো বেছে নেয়া হয়েছিল স্বভাবগত মিল, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের পারস্পরিক বন্ধুত্বের মাত্রা বা ঘনিষ্ঠতার প্রবণতা অনুযায়ী।  

তবে সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় বিষয় হল- বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) নিজের অতি উচ্চ মর্যাদা ও যোগ্যতার আলোকে মু'মিন ভাই হিসেবে কোনো আনসার বা মুহাজিরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হয়ে হযরত আলী (আ.)'র সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি আলী (আ.)-কে এই দুনিয়াতে ও আখিরাতের চিরন্তন জীবনের জন্য নিজের ভাই বলে ঘোষণা করেন। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য