ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ ১৭:২১ Asia/Dhaka
  • মাস্তানি, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না’

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৭ ডিসেম্বর বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • বায়ুদূষণে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যানসার-দৈনিক প্রথম আলো
  • মাস্তানি, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না’- দৈনিক কালেরকণ্ঠ
  • একই পত্রিকার আরেকটি খবর- নাটক বাদ দিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন দিন : ফখরুল' 
  • বাংলায়ও রায় লেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক যুগান্তর
  • রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-দৈনিক ইত্তেফাক
  • রোহিঙ্গাদের অধিকার বিষয়ক অফিস বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশের-দৈনিক মানব জমিন
  • শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা জাতিসঙ্ঘপ্রধানের-দৈনিক নয়াদিগন্ত

ভারতের শিরোনাম: 

  • উন্নাও গেলেন প্রিয়ঙ্কা, ধর্নায় অখিলেশ, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের ঘোষণা যোগীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা 
  • কেন্দ্রের টাকা না পেলে ভারত থেকে অবিলম্বে ব্যবসা গোটানোর বার্তা ভোডাফোনের -দৈনিক আজকাল
  • পর্নসাইটের জন্যই বাড়ছে ধর্ষণ! নীতীশ কুমারের মন্তব্যে জোর বিতর্ক -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

কথাবার্তার প্রশ্ন ১. মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা চায় আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটি। তাদের এ দাবির যৌক্তিক ভিত্তি কি? বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

২. পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ইহুদিবাদী ইসরাইল। আপনার পর্যবেক্ষণ কি?

জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে আবারো ধন্যবাদ

বায়ুদূষণে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যানসার-দৈনিক প্রথম আলো

৫৫ বছর বয়সী দিনমজুর আলমগীর হোসেনের শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছয়-সাত বছর ধরে। এক মাস ধরে সমস্যা বেড়েছে। থাকেন রাজধানীর মিরপুরে। গত বুধবার তিনি এসেছিলেন মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে। তাঁর ধারণা, শীত শুরু হয়েছে এবং মিরপুর এলাকায় প্রচুর ধুলাবালুর কারণে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এখন রোগীর সংখ্যা দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে রোগীর চাপ বাড়ে। এর একটি বড় কারণ বায়ুদূষণ বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বায়ুদূষণজনিত রোগে দেশে কত সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, তার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, বায়ুদূষণজনিত রোগ বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকির শিকার গর্ভবতী মা ও শিশুরা। অটিস্টিক শিশুর জন্ম হওয়ার একটি কারণ দূষিত বায়ু। বাচ্চাদের জন্মকালীন ওজন কম হওয়ার একটি কারণও বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের কারণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। হাঁচি-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে হতে পারে ফুসফুসের ক্যানসার। এই ক্যানসারের বড় কারণ দূষিত বায়ু। এ ছাড়া কিডনি ও হৃদ্রোগের কারণও হতে পারে বায়ুদূষণ।পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়, গত চার বছর ধারাবাহিকভাবে দূষণের সময় বা দিন বাড়ছে। সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।

সবচেয়ে বেশি দূষণ থাকে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দুই বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, মার্চ ও এপ্রিলের বাতাসও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মতো খারাপ থাকছে।তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাবছরের এই শুষ্ক মৌসুমে বক্ষব্যাধিও বাড়ে। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক শাহেদুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, শীতের সময় ছাড়া অন্য সময়েও রোগী বাড়ছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার রোগী আসছে বহির্বিভাগে। পাঁচ বছর আগে গড়ে প্রতিদিন ২০০-৩০০ জন রোগী আসত। তিনি বলেন, বায়ুদূষণের কারণে নানা ধরনের রোগব্যাধি হয়। প্রাথমিকভাবে হাঁচি, কাশি, নাক-চোখ জ্বালা হতে পারে। বক্ষব্যাধির অনেক রোগ বায়ুর সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বোঝা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে রোগী বেড়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ বায়ুদূষণ। এ সময়টাতে বিশেষ করে শহরে ধুলাবালু বেড়ে যায়, বায়ুদূষণ বাড়ে।বায়ুদূষণ অকালমৃত্যু ডেকে আনার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বছরে বিশ্বব্যাপী ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয় বায়ুদূষণজনিত রোগে। এসব রোগের মধ্যে আছে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট (সিওপিডি), ফুসফুসে ক্যানসার এবং বাচ্চাদের তীব্র শ্বাসকষ্ট।দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মির্জা মোহাম্মদ হিরন প্রথম আলোকে বলেন, অ্যাজমার রোগী ক্রমে বাড়ছে। এখন দেশে প্রায় ৭০ লাখ অ্যাজমা রোগী আছে। তিনি বলেন, বায়ুদূষণের কারণেই অ্যাজমা হয় এমন নয়, তবে বায়ুদূষণ অ্যাজমা সমস্যা প্রকট করে।বৈশ্বিক বায়ুদূষণের ঝুঁকিবিষয়ক ‘দ্য স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে, তার একটি বাংলাদেশ।

বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পঞ্চম। এ কারণে ২০১৭ সালে দেশে মারা গেছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ।ঢাকা শিশু হাসপাতালের অ্যাজমা সেন্টারে প্রতিদিন বাড়ছে রোগী। শিশু হাসপাতালের পরিচালক সৈয়দ সফি আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুদূষণের কারণে বাচ্চাদের স্বল্প ও দীর্ঘস্থায়ী রোগব্যাধি হয়। সর্দি, কাশি, জ্বর, ব্রঙ্কাইটিস এগুলো স্বল্পস্থায়ী রোগ। যাদের অ্যাজমা আছে, এ সমস্যাটা বাড়ে। বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যানসার, হৃদ্রোগ, লিভার ও কিডনিতে জটিলতা বাড়তে পারে। গর্ভবতী মা বায়ুদূষণের শিকার হলে গর্ভের সন্তানের ওপর তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এর ফলে বাচ্চা আকারে ছোট হতে পারে, ওজন কম হতে পারে, মানসিক ও স্নায়ুগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। অটিস্টিক বাচ্চা জন্ম হওয়ার একটি কারণ বায়ুদূষণ।#

মাস্তানি, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না’- দৈনিক কালেরকণ্ঠ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমাদের বহু কর্মী আছে। খারাপ লোকের কোনো প্রয়োজন নেই। বুয়েটে আবরারকে যারা হত্যা করে- এই কর্মীর আমাদের প্রয়োজন নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কথায় কথায় যারা কলহ করে, মারামারি করে এই কর্মীর আমাদের প্রয়োজন নেই। যারা রাজশাহীতে অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দেয় এই কর্মীর আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। মাস্তানি করে, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না।’

আজ শনিবার চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘি ময়দানে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের

দ্বিতীয় পর্বে বিকেল ৩টায় নগরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে কাউন্সিলর অধিবেশন। এতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। কেন্দ্রীয় নেতারা নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করবেন। অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, আমরা সুশৃঙ্খল আওয়ামী লীগ চাই, সুসংগঠিত আওয়ামী লীগ চাই। বিশৃঙ্খলা চাই না। সুবিধাবাদীদের দলে চাই না। অতিথি পাখিদের স্থান হবে না আওয়ামী লীগে। ত্যাগী কর্মীদের নেতা বানানো হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরে যাদের নামে বেশি স্লোগান, যাদের নামে বেশি বিলবোর্ড, যাদের নামে বেশি পোস্টার তারা কেউ সভাপতি-সম্পাদক হতে পারেনি। কারো স্লোগানে আমরা নেতা বানাবো না।

এর আগে সম্মেলন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, আওযামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

একই পত্রিকার আরেকটি খবর- নাটক বাদ দিয়ে খালেদা জিয়ার জামিন দিন: ফখরুল' 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে বলেছেন, ‘নাটক বাদ দিয়ে দেশনেত্রীকে জামিন দিয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করুন।’

আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে দেশের চারটি বাদে সকল গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল। আজকেও তারা ভিন্ন লেবাসে বাকশাল কায়েম করেছে।

ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করে দেশ শাসন করছে। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আবারও আগের অবস্থা ফিরে এসেছে। পুলিশ নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।

খালেদার জামিন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে জঘন্য নাটক করছে সরকার। আমি বলব, দয়া করে নাটক বাদ দিয়ে দেশনেত্রীকে জামিন দিয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করুন। না হলে দেশের মানুষ কখনই আপনাদের ক্ষমা করবে না। দেয়ালের লিখনের ভাষা পড়ুন। মানুষের মুখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন। তিনি বলেন, আজকে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রত্যেকটি সূচক কমেছে।

সংবাদ সম্মেলনের আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আব্দুল আউয়াল খান, কাজী আবুল বাশার, আকম মোজাম্মেল হক, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, যুবদলের মামুন হাসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, জাসাসের হেলাল খান সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ওই সভায়।

বাংলায়ও রায় লেখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক যুগান্তর

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি বিচারের রায় দ্রুততম সময়ে দেয়ায় বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বহুগুণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও রায় লেখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সবারই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সকল নাগরিক যাতে আইগত সহায়তা পায় সেজন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা- ন্যাশনাল লিগাল এইড সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরষ্কৃত করা হয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করা হয়েছিল। হত্যাকারীদের নানাভাবে মদদ দেয়া হয়েছিল। হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি বিল জারি করা হয়। আমরা যারা ভুক্তভোগী ছিলাম আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ ছিল না।

সেই সময় দেশে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে এমন অবস্থা ছিল। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আর কেউ বছরের পর বছর অতিবাহিত করুক আমরা তা চাই না।

রুম্পা হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-দৈনিক ইত্তেফাক

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ও সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ১৯ থেকে ১৫ নম্বর পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাতটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত যারা আছেন তাদেরকে যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মাছুম বলেন, ‘শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ড অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনাও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল। অন্য কোনো ইস্যুতে যেন রুম্পা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে। চারদিকে এত হত্যা, খুন-ধর্ষণের ভিড়ে আমরা শুধু স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, আর কিছু নয়।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে ওই ছাত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে জায়গায় এ ঘটনা, তার আশপাশে বেশকিছু ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার বিষয়ক অফিস বন্ধের নির্দেশ বাংলাদেশের-দৈনিক মানব জমিন

রোহিঙ্গাদের অধিকার বিষয়ক ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের’ (এআরএসপিএইচ) প্রধান কার্যালয় বন্ধ করার নির্দেশে দিয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এর অফিস তালাবদ্ধ করে রাখার কথা বলা হয়েছে তাতে। আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এই সংগঠনের নেতাদের প্রতি এমন নির্দেশ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। রোহিঙ্গাদের এক মুখপাত্র এমনটা দাবি করলেও তাদের অফিস বন্ধ করে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশে শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার। তিনি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ নির্মিত বহুমুখী কাজে ব্যবহারের উপযোগী কমিউনিটি সেন্টারে মিটিং করতে বলা হয়েছে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নেতাদের। আমরা কোনো অফিস বন্ধ করিনি। তাই বলে আমরা এমন কোনো কিছু অনুমোদন করব না, যা শরণার্থী শিবিরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এএফপি।এতে আরো বলা হয়, কক্সবাজারে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের কথা বলার মূল কণ্ঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল এআরএসপিএইচ। দুই বছরেরও বেশি সময় আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে বাঁচতে, পালিয়ে ঢলের মতো বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদেরকে আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ।

কিন্তু তাদের বিষয়ে অধৈর্য্য ক্রমশ বাড়ছে বাংলাদেশে। এমনই এক প্রেক্ষাপটের মধ্যে ওই নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।এআরএসপিএইচের মুখপাত্র সায়েদ উল্লাহ শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, ক্যাম্প ইনচার্জ আমাদের অফিস তালাবদ্ধ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সমবেত হওয়ার আগে অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ কারণে তাদের গ্রুপের সবরকম কর্মকাণ্ড স্থগিত রয়েছে। উল্লেখ্য, শিক্ষক থেকে অধিকারকর্মী হয়ে উঠা মোহিব উল্লাহ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এআরএসপিএইচের। শরণার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মিটিংগুলোতে তিনি হয়ে উঠেছেন মুখপাত্র। বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির কুতুপালংয়ে বাঁশ ও তারপুলিন দিয়ে গড়ে তোলা তাদের অফিসে মাঝে মধ্যেই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে নিয়ে মিটিং হয়।কিন্তু এ বছর আগস্ট মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে স্মরণ করে রাখার জন্য প্রায় দুই লাখ শরণার্থীকে নিয়ে র‌্যালির নেতৃত্ব দেন মোহিব উল্লাহ। তারপর থেকেই তিনি কড়াকড়ির আওতায় পড়েন। ওই বিশাল র‌্যালি আশ্রয়দাতা বাংলাদেশী স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বাংলাদেশী স্থানীয় এসব সম্প্রদায় দুটি পাহাড়ি শহরে রোহিঙ্গাদের তুলনায় সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন। ওই শহর দুটিতে গাদাগাদি করে তিন ডজন শিবিরে বসবাস করছেন রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের ওই বিশাল র‌্যালি এবং একই মাসে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ওই অঞ্চলে উচ্চ মাত্রার ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়। বড় বড় বসতির চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে নির্দেশ দেয়া হয় সেনাবাহিনীকে।উল্লেখ্য, রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, গণহত্যার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ২০১৭ সালের শেষের দিকে গঠন করা হয় এআরপিএসএইচ। ওদিকে ‘লাকডাউন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের এক নেতা। তিনি বলেন, এই অফিস হলো আমাদের সম্প্রদায়ের আশা ও আকাঙ্খার একটি প্রতীক। এটা বন্ধ করে দেয়া হবে আমাদের অধিকারের পক্ষে লড়াইয়ের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা জাতিসঙ্ঘপ্রধানের-দৈনিক নয়াদিগন্ত

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি শান্তিরক্ষা অভিযানে শান্তিরক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশী সেনাদের সুনাম ও পেশাদারিত্বের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

শুক্রবার জাতিসঙ্ঘ সদরদপ্তরে জাতিসঙ্ঘ নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতেমা তার পরিচয়পত্র জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে পেশ করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তোনিও গুতেরেস গত সপ্তাহে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠেয় ‘রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের ২৫তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন’ (কপ২৫) চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। শনিবার বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালে জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ লাভের পর রাবাব ফাতেমা হলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের ১৫তম স্থায়ী প্রতিনিধি। এর আগে তিনি জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উপস্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম ও মন্ত্রী মনোয়ার হোসেন অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

উন্নাও গেলেন প্রিয়ঙ্কা, ধর্নায় অখিলেশ, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের ঘোষণা যোগীর-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা 

তেলঙ্গানার পর এ বার উন্নাও ৯০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে গণধর্ষিতার মৃত্যুর পর ক্ষোভে, প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে উন্নাও।

বিধান ভবনের সামনে শনিবার সকাল থেকেই ধর্নায় বসেছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমাজবাদী পার্টি (সপা) নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব। ধর্না শুরুর আগে ধর্ষিতার জন্য দু’মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উন্নাওয়ে সকালেই ধর্ষিতার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। ও দিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এ দিন জানিয়েছেন, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উন্নাওয়ের গণধর্ষণ মামলাটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এ বার ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে। আশ্বাস দিয়েছেন, “অপরাধীরা চরমতম শাস্তি পাবে।’’

কিন্তু গণধর্ষিতার জন্য কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হল না, সেই প্রশ্নটা উঠতে শুরু করে দিয়েছে। এ দিন উন্নাওয়ে পৌঁছেই এই প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়ঙ্কা। বলেছেন, “যাঁরা প্রথমে এফআইআর নিতে অস্বীকার করেছিলেন সেই পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যোগী আদিত্যনাথের সরকার কেন এখনও কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি?’’

লখনউয়ে বিধান ভবনের সামনে ধর্নায় সপা নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব। ছবি- টুইটারের সৌজন্যে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এ দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমি মর্মাহত।’’ বিচার মন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক বলেছেন, “মামলাটিকে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আজ আদালতে আর্জি জানাব। আমরা আদালতে মামলার রোজ শুনানিরও আর্জি জানাব। যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় মামলার। অপরাধীরা দ্রুত শাস্তি পায়।’’

ধর্নামঞ্চ থেকেই সপা নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব জানিয়েছেন, দু’-এক দিনের মধ্যেই তিনি যাবেন ধর্ষিতার বাড়িতে। তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন। সঙ্গে তাঁর দলের অন্য নেতারাও যাবেন বলে জানিয়েছেন অখিলেশ। ধর্নামঞ্চে অখিলেশষের সঙ্গী হয়েছেন প্রবীণ সপা নেতা রাজেন্দ্র চৌধরী ও দলের রাজ্য শাখার প্রধান নরেশ উত্তম পটেল।

উন্নাওয়ে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রিয়ঙ্কা। তাঁর প্রশ্ন, “উন্নাওয়ে এর আগেও এমন ঘটনা (ধর্ষণ) ঘটেছে। তার পরেও কেন এ বার রাজ্য সরকার সতর্ক হল না। কেন এ বারের গণধর্ষিতার জন্য নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি? আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে কেন প্রাণ হারাতে হল গণধর্ষিতাকে?’’

গত জুলাইয়ে উন্নাওয়েই এক মহিলা যে বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনেগারের বিরুদ্ধে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন, এ দিন সে কথাও মনে করিয়ে দেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক।

কেন্দ্রের টাকা না পেলে ভারত থেকে অবিলম্বে ব্যবসা গোটানোর বার্তা ভোডাফোনের-দৈনিক আজকাল

অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে আর্থিক সাহায্য না পেলে ভারত থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে হবে। একথাই জানিয়েছেন ভোডাফোন–আইডিয়ার চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা। এজিআর ইস্যুতে কেন্দ্রকে ৯২০০০ কোটি টাকা বকেয়া মেটাতে ভোডাফোন–আইডিয়াকে আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিড়লা বললেন, ‘‌আমরা যদি একান্তই কিছু না পাই তাহলে ভেবে নিতে হবে ভোডাভোন–আইডিয়ার গল্প এখানেই শেষ। ওরা বুঝতে পেরেছে এটা খুবই বিপজ্জনক সেক্টর। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইন্ডিয়া সেক্টরটাই এর উপর নির্ভর করছে।

ওরা জনসমক্ষে বলেছে যে ওদের বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে তিনজন এবং সরকারি ক্ষেত্র থেকে একজনকে চাই। তাই এই ক্ষেত্রটা বাঁচাতে আমরা সরকারের থেকে আরও একটু বেশি সাহায্য আশা করতেই পারি।’প্রসঙ্গত, সারা দেশেই বর্তমানে টেলিকম ক্ষেত্র বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২০২০–র ২৪ জানুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রকে ৪০০০০ কোটি টাকা মেটাতেই হবে ভোডাফোনকে।

স্পেকট্রামের টাকা মেটানো, লাইসেন্স ফি কমানো এবং কর মেটানোর জন্য কোম্পানি আরও দুবছর সময় দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। কোম্পানি সুপ্রিম কোর্টে বলেছে তাদের স্পেকট্রামের টাকা মেটানোর কার্যকাল ১০ বছর পর্যন্ত বাড়াতে। সুদ এবং জরিমানা মকুবেরও আবেদন শীর্ষ আদালতে করেছে ভোডাফোন–আইডিয়া। দিন কয়েক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ায় যে ভোডাফোন ভারত থেকে তাদের ব্যবসা তুলে নিচ্ছে। প্রতিক্রিয়ায় গত ৩০ অক্টোবর ইংল্যান্ডে ভোডাফোনের মূল কোম্পানি থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয় ওটা নেহাতই গুজব। তবে ভারতে তাদের ব্যবসা কিছুটা আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি বলেও বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়।

পর্নসাইটের জন্যই বাড়ছে ধর্ষণ! নীতীশ কুমারের মন্তব্যে জোর বিতর্ক -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

দেশব্যাপী ধর্ষণ, যৌন হেনস্তা, যৌন নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। অথচ, কোনও পদক্ষেপ না করে বয়ানবাজিতে ব্যস্ত নেতামন্ত্রীরা। কেউ বলছেন, টেলিভিশনের জন্য ধর্ষণ হচ্ছে। আবার, কেউ বলছেন মোবাইলের জন্য ধর্ষণ হচ্ছেন। অথচ, ধর্ষণ রুখতে পোক্ত পদক্ষেপ কেউই করছেন না। এবার এই তালিকায় নাম লেখালেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তাঁর দাবি, পর্ন সাইটের বাড়বাড়ন্তের জন্যই বাড়ছে যৌনতা সংক্রান্ত অপরাধ এবং ধর্ষণ।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণের বাড়বাড়ন্ত প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মহিলাদের উপর যে যৌন হেনস্তা বা অত্যাচার করা হচ্ছে, তার মূল কারণ হল পর্ন সাইটের সহজলভ্যতা। পর্ন সাইটগুলিতে ধর্ষণের ভিডিও-ও থাকে। ধর্ষকরা হয়তো নিজেই সেই ভিডিও তুলে পোস্ট করে। আমি কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করব এমন সমস্ত ওয়েব সাইট নিষিদ্ধ করতে, যাতে যৌন উত্তেজনামূলক ভিডিও দেখানো হয়।” পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করা নিয়ে ভারতে বিতর্ক বহুদিনের। এর আগে ভারতে অধিকাংশ পর্ন সাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র সরকারও। কিন্তু, ঘুরপথে এখনও সমস্ত প্রথম সারির পর্ন সাইটই খোলা যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

যদিও পর্ন সাইটের জন্যই ধর্ষণ হচ্ছে, নীতীশের এই যুক্তি মানতে নারাজ নেটিজেনরা। তাঁরা উলটে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকেই তোপ দাগছেন। নেটিজেনরা বলছেন, পর্ন সাইটের মতোই ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখানো হয় সি গ্রেডের ভোজপুরী ছবিতেও। নীতীশের উচিত, আগে ভোজপুরী ছবি তৈরি বন্ধ করা। তাছাড়া একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নীতীশ কী করে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করলেন, সে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য