ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯ ১৫:২৩ Asia/Dhaka

ক. বন্ধুরা, একরাশ প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিন। আশা করছি বাংলাদেশ ও ভারতসহ পৃথিবীর যে প্রান্তে বসেই আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন না কেন সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন।

শুরুতেই যথারীতি একটি হাদিস। ইমাম আলী ইবনে মুসা রেজা (আ.) বলেছেন: ঈমান বা প্রকৃত বিশ্বাস হচ্ছে মৌখিক স্বীকারোক্তি, অন্তরের মাধ্যমে ঈমান সংক্রান্ত জ্ঞান ও পরিচিতি অর্জন এবং দৈহিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে সৎকর্ম বা নেক আমল সম্পাদন।

খ. প্রয়োজনীয় কথা শুনলাম এবং ভুলে গেলাম তাতে কোনো লাভ হবে না। বরং যা শুনবো তাই আমল করার চেষ্টা করে ইহকাল ও পরকাল গড়ে তুলবো। হ্যা আসরের প্রথমেই হাতে তুলে নিচ্ছি বাংলাদেশ ও থেকে আসা একটি ইমেইল। রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে এ মেইলটি পাঠিয়েছেন রেডিও তেহরানের পুরনো শ্রোতা ভাই  মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তিনি নিজেকে রেডিও তেহরানের  নিয়মিত শ্রোতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এছাড়া ফেইসবুক পাতা এবং ওয়েবসাইটের পাঠক হিসেবে উল্লেখ করে ভাই জিল্লুর রহমান বাংলাদেশের একটি দুঃখজনক বিষয় নিয়ে লিখেছেন। তিনি লিখেছেন,  বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটে আবরার ফাহাদ নামের এক মেধাবী ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার প্রেক্ষাপটে বুয়েটে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংগঠন হিসাবে ছাত্রলীগ ঘটনার দায় দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ক. এরপর তিনি আরও লিখেছেন, আসলে, যখনই আমাদের দেশের কোথাও এ ধরণের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে, তখন সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে বহিষ্কার করে ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দল এর দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়। রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয়ে যখন এ ধরণের হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়, তখন এর দায় কোনক্রমেই সংশ্লিষ্ট সংগঠন এড়াতে পারে না। সংগঠন যদি ভাল কাজের অংশীদার হয়ে প্রশংসা, সুনাম বা বাহবা নিতে পারে, তাহলে খারাপ কাজ করলে এর ভার নেবে না কেন?

খ. ভাই জিল্লুর রহমান আরো লিখেছেন, এক্ষেত্রে আমি মনে করি, সংশ্লিষ্ট ঘটনার দায়ভার নিয়ে দোষীদের আইনের হাতে তুলে দিয়ে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা ঐ সংগঠনের জরুরি দায়িত্ব। দায় না নেয়ার অর্থই হচ্ছে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়া এবং পরবর্তীতে এ ধরণের অপকর্মে উৎসাহিত করা। অনেক দেশেই আমরা ভুল বা অপরাধের দায়-দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে দেখি কিন্তু আমাদের দেশে এ সংস্কৃতি কবে গড়ে উঠবে? এ প্রশ্ন উত্থাপন করে চিঠি শেষ করেছেন ভাই জিল্লুর রহমান। অবশ্য তিনি জানতে চেয়েছেন ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতি আছে কিনা?

বহলুল: না ভাই ইরানের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়েই বাংলাদেশের মতো ছাত্র রাজনীতি বলে কিছু নেই।

ক. মানে বড় রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে ক্ষমতার দাপট দেখানোর মতো রাজনীতি ইরানের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন ছাত্র যখন আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ পান তখন তিনি কোনোরকম ভয়-সংকোচ ছাড়া নির্বিঘ্নে হলে উঠে যেতে পারেন। তবে এখানে সরাসরি রাজনীতি না থাকলেও ছাত্রদের কল্যাণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য নানা ছাত্র সংগঠন সব সময়ই তৎপর রয়েছে।

বহলুল: সুন্দর একটি চিঠি লেখার জন্য আপনাকের অনেক ধন্যবাদ ভাই জিল্লুর রহমান।  এবারে শিক্ষক সুলতান মাহমুদ সরকারের সঙ্গে কথা বলি। কি বলেন?

খ. বাংলাদেশের নওগা জেলার মান্দা থানার পরানপুরের শিক্ষক সুলতান মাহমুদ সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন তাই তো?

বহলুল: জ্বি। শিক্ষক হিসেবে কিছু দুঃখের কথা তিনি বলবেন তিনি আমাদের। আমরা তার কাছে মজার ঘটনা শুনতে চেয়েছিলাম। জবাবে তিনি বলেন .....

ক. সত্যিই এটা দুঃখজনক। আসলে শিক্ষক না থাকলে বড় আসনে বসা হয়ত অনেকের পক্ষেই সম্ভব হতো না। এ কথা কিছু কিছু মানুষ একবারেই ভুলে যান। আসুন আমরা সবাই শিক্ষকদের সম্মান করে নিজেদের ভবিষ্যতকে সম্মানিত করি।

খ. এতোক্ষণ বাংলাদেশের নওগা জেলার মান্দা থানার পরানপুরের শিক্ষক সুলতান মাহমুদ সরকারের কথা শুনছিলাম। ভবিষ্যতে তার আরও কথা শুনবো বলে আশা রাখছি। ...

বহলুল: রেডিও তেহরানের ওয়েবপেইজ এবং অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে যে সব মন্তব্য হয়েছে এবারে যে দিকে নজর দেবো। আপনিই শুরু করুন,

ক. কিন্তু আমি যে তৈরি হয়ে বসে আছি!

বহলুল: ঠিক আছে তাহলে আপনিই শুরু করুন।

খ. হ্যাঁ আইএস প্রধান বাগদাদিকে হত্যার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেন ট্রাম্প শীর্ষক খবরটি প্রকাশিত হয়েছে ২৭ অক্টোবর। এ খবরে বলা হয়েছে, উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসর প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, বাগদাদি নিজের তিন সন্তানকে নিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। সিরিয়ায় শনিবার মার্কিন বাহিনীর অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ক. এ খবরে কড়া মন্তব্যগুলোর অন্যতম হলো, আমেরিকা আবারো প্রমাণ দিল; কুকুরের কাজ শেষ, মেরে ফেল! আবার আরেকটা লালন-পালন করে বড় কর!!!! .............. আর এ মন্তব্য করেছেন আবু জাফর সালেহ।

খ. ভাই আবু জাফর সালেহ একটি মহাসত্যের অবতারণা করেছেন। এর আগে আমরা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে একইভাবে আমেরিকার হাতে নিহত হতে দেখেছি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, লাদেনের কথিত মৃতদেহও সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আর এবারও বাগদাদির লাশ কেউ দেখল না। সেটিও সাগরে নিক্ষেপ করা হলো।

বহলুল: এদিকে আসরের সময় কিন্তু শেষ হয়ে এসেছে...

ক. হ্যা সত্যিই শ্রোতা বন্ধুরা এবারে আসর গুটিয়ে নেয়ার পালা। আপনারা সবাই ভালো ও সুস্থ থাকুন এ কামনা করে আজ এখানেই বিদায় চাইছি।#

ট্যাগ

মন্তব্য