জানুয়ারি ২২, ২০২০ ১৬:২৩ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২২ জানুয়ারি বুধবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • তাবিথের ওপর হামলার ঘটনা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত: কাদের -দৈনিক ইত্তেফাক
  • দেশে ৭৪ লাখ তরুণ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত নেই: সিপিডি-দৈনিক মানবজমিন
  • ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলোইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: আহত আরও কয়েকজন
  • মার্কিন সেনাকে চিকিৎসা-দৈনিক যুগান্তরসড়কে বেড়েছে মৃত্যু, দিনে ১৮ প্রাণহানি-দৈনিক সমকাল
  • এস কে সিনহাসহ ১১ জনকে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ-বাংলাদেশ প্রতিদিন

ভারতের শিরোনাম:    

  • বাতিল হচ্ছে বিভিন্ন বাহিনীর ১২২৬ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা সনদ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • এ বার রাতের অন্ধকারে মহিলাদের পেটাল যোগীর পুলিশ!-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • দেশের মানুষের কথা শোনার হিম্মত দেখানোর চ্যালেঞ্জ অমিত শাহকে ছুঁড়লেন কপিল সিবাল-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. ঢাবিতে ৪ শিক্ষার্থীকে রাতভর ছাত্রলীগের নির্যাতন। এ খবর দিয়েছে দৈনিক মানবজমিন। কী বলবেন খবরটি সম্পর্কে?

২. ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত আরো মার্কিন সেনার চিকিৎসা নেয়ার কথা স্বীকার করেছে আমেরিকা। প্রশ্ন হচ্ছে- তারা কেন বিষয়টি অস্বীকার করছিল?

বিশ্লেষণের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন তুলে ধরেছে দৈনিক মানবজমিন। শিরোনামটি এরকম,

'মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা-মিসাইলের ইতিহাসে নয়া অধ্যায়'

ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ( ফাইল ছবি)

দ্য ইকোনমিস্টের বরাত দিয়ে দৈনিকটি লিখেছে, ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাদ্দাম হোসেন ইসরাইল ও সৌদি আরবে অনেকগুলো স্কাড মিসাইল নিক্ষেপ করেছিলেন। দুই দেশের যেসব লক্ষ্যবস্তুকে তিনি টার্গেট করেছিলেন মিসাইলগুলোর একুরেসি খারাপ হওয়ার কারণে তার কোনোটিই টার্গেটে আঘাত হানতে পারেনি। টার্গেট থেকে মিসাইলগুলো গড়ে দুই কিলোমিটারেরও দূরে গিয়ে আঘাত হেনেছিলো। এটি ওই শহরের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। তবে শত্রুর স্বার্থে আঘাত হানতে এগুলো ছিল অকার্যকর। হাস্যকর হলেও সত্য যে, সে সময় ইসরাইলের যত মানুষ মিসাইলের আঘাতে মারা গিয়েছিলেন তার থেকেও বেশি মারা গিয়েছিলেন হার্ট অ্যাটাকে। যদিও ইসরাইল থেকে অপেক্ষাকৃত কাছে থাকা সৌদি আরবের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সাদ্দামের মিসাইল হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ সেনা নিহত হয়েছিল। তবে সেটিও সরাসরি মিসাইল হামলায় নয়।

আকাশে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ একটি ব্যারাকের ওপর পড়লে ওই নিহতের ঘটনা ঘটে। এ থেকে একটি জিনিস সপষ্ট হয়ে যায় যে, মিসাইল থাকা থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেটি কত নিখুঁতভাবে গিয়ে তার লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র এই নির্ভুল হামলার একচ্ছত্র অধিপতি ছিল। কিন্তু সমপ্রতি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলার পর নিশ্চিতভাবেই নির্ভুল হামলায় মার্কিন প্রযুক্তির সুনামে ভাগ বসিয়েছে ইরান।

ইরানের আল কুদ্‌স ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরাকের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আইন আল-আসাদকে লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালায় ইরান। গত ৮ই জানুয়ারি হামলার পর স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে ওই ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সপষ্ট হয়ে যায়। ইরানি ব্যালেস্টিক মিসাইলগুলো মার্কিন ঘাঁটির একদম কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। সেখানে ছিল যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও বেশ কয়েকটি ভবন। অন্তত ৬টি ইরানি মিসাইল সরাসরি ঘাঁটিতে আঘাত করে সেদিন। এটি কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার বদলা হিসেবে যথেষ্ট ছিল বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভিপিন নারাং এ নিয়ে বলেন, ওই ঘটনার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ইরান তাদের স্বল্পপাল্লার মিসাইলগুলোকে কতখানি নির্ভুলভাবে ব্যবহার করেছে। দেশটির এই নির্ভুল হামলার সক্ষমতা রীতিমতো বৈপ্লবিক এবং এটি আর যুক্তরাষ্ট্রের একার অধিকারে নেই। আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ব্যাপক।

মিসাইলের একুরেসি নির্ধারণ করা হয় এর সিইপি দিয়ে। সিইপি হচ্ছে টার্গেটকে কেন্দ্র করে তার থেকে কত দূরে মিসাইল আঘাত করে সেই মাত্রা। অর্থাৎ যে মিসাইলের সিইপি যত কম সেটি তত বেশি নির্ভুল। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি মিসাইলের সিইপি ছিল অসম্ভব রকমের কম। যদিও ইরান কোথায় টার্গেট করেছিল সেটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তারপরেও তাদের ধারণা টার্গেটের সর্বোচ্চ ১০০ মিটারের মধ্যেই মিসাইলগুলো হামলা চালাতে সক্ষম হয়। বেশ কয়েকটির সিইপি ছিল ৫ মিটারেরও কম। গত বছরের ১৪ই সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে যে মিসাইল হামলা হয়েছিল সেটিও ছিল উচ্চ পর্যায়ের নির্ভুল হামলা। মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার পর সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলায় নির্ভুলতার রহস্যও সপষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ইরান কী করে এমন একুরেসি অর্জন করেছে? গত বছরের নভেম্বরে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদনে ইরানের গাইডেন্স টেকনোলজি ও ম্যান্যুভ্রাবিলিটিতে অসামান্য উন্নয়নের কথা জানানো হয়। তবে মিসাইলকে নির্ভুলভাবে পরিচালনা করার অনেকগুলো পথ রয়েছে। ইরান তার সবগুলোতেই উন্নতি করেছে।

তবে ইরান শুধু নিজের কাছেই এসব প্রযুক্তি রেখে দেয়নি বরঞ্চ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দেশটির পরিচালনা করা সশস্ত্র দলগুলোকেও তা সরবরাহ করেছে। এটিই ইরানকে আঞ্চলিক সুপার পাওয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। লেবাননের ইসলামপন্থি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইরান গাইডেন্স সিস্টেম ও মিসাইল দুটোই সরবরাহ করে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহর কাছে হিসাব অনুযায়ী অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার রকেট রয়েছে। যা সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী  বিশ্বের অনেক দেশের থেকেও বেশি।

২০০১ সালে ইরান অবৈধভাবে অন্তত ৬টি রাশিয়ান কেএইচ-৫৫ মিসাইল কেনে। সেখান থেকে দেশটি এর নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে। পরবর্তীতে ভয়ানক সেই মিসাইল দেশটি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরবরাহ করে। এগুলোই সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের দেয়া মিসাইল ও রকেট প্রযুক্তি ইরানকে সত্যিকারের যুদ্ধ ক্ষেত্রে এসবের কার্যকারিতা নির্ণয়ে সাহায্য করে। ফলে দেশটি দ্রুত এই প্রযুক্তির উন্নয়ন সাধনে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: আহত আরও কয়েকজন মার্কিন সেনাকে চিকিৎসা-দৈনিক যুগান্তর

মার্কিন সেনা

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সম্ভাব্য মস্তিষ্কে ক্ষতের আশঙ্কায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনাকে ইরাকের সামরিকঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর আগে মানসিক চাপে মস্তিষ্কে ক্ষতির লক্ষণ দেখা দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১১ সেনাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, এ হামলায় কোনো সেনা আহত হয়নি। কিন্তু গত সপ্তাহে তাদের বেশ কয়েকজন সেনাকে চিকিৎসা দেয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তবে কতসংখ্যক সেনাকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা দেয়া হয়েছে, তা পরিষ্কার হওয়া সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, সংখ্যাটা খুব বেশি হবে না।

নতুন করে আরও মার্কিন সেনাকে চিকিৎসা দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক অভিযানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নেভি ক্যাপ্টেন বিল উরবান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, হামলার স্থলের ক্ষতির মূল্যায়ন ও হাসপাতালের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। আরও কয়েকজন সেনাকে সম্ভাব্য আহত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চিকিৎসার জন্য এসব সেনা সদস্যকে জার্মানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেউ আহত হননি বলে এর আগে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো

ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বহুল প্রতীক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পরিষেবা ও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার রাজধানীর শেরবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন উপলক্ষে ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি তুলে নিয়ে যান।ডিআইপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ সে সময় ইউএনবিকে জানান, প্রাথমিকভাবে উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও আগারগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট সেবা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিস এবং ৮০টি বিদেশি মিশনে চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, জার্মান সংস্থা ভেরিডোস জিএমবিএইচ দেশে ই-পাসপোর্ট ও ই-গেটে কাজ করছে।আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) মতে, বর্তমানে ই-পাসপোর্ট ইস্যুকারী ১০০টির বেশি দেশ, বেসরকারি সংস্থা রয়েছে। বিশ্বে ৪৯০ মিলিয়ন ই-পাসপোর্টধারী আছেন।

প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, ‘বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট এবং স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার’ প্রকল্পটি ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিআইপি পুরো প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে। ১০ বছরে মোট ৩০ মিলিয়ন পাসপোর্ট বিতরণ করা হবে। ই-পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে অভিবাসনের আনুষ্ঠানিকতারও পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে। জার্মানিতে দুই মিলিয়ন ই-পাসপোর্ট তৈরি করা হবে। যাঁরা প্রথমে আবেদন করবেন, তাঁদের পাসপোর্ট জার্মানি থেকে তৈরি করা হবে। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ ও১০ বছরের জন্য।

২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ডিআইপি এবং জার্মানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ সংস্থা ইলেকট্রনিক পাসপোর্টের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

তাবিথের ওপর হামলার ঘটনা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত: কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। পাশাপাশি এরকম হামলার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকেও নজর দিতে হবে।

আতিকুলের বক্তব্যে তাবিথের বিরক্তি প্রকাশ-দৈনিক প্রথম আলো

তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারাভিযান

গতকালের হামলার বিষয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলামের বক্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আওয়াল। তিনি বলেন, ‘জনসংযোগে গণজোয়ার দেখেই আমার প্রতিপক্ষ আতিকুল ইসলাম ভয় পেয়ে গেছেন। মানসিকভাবে অশান্তিতে আছেন। তাই তিনি সত্য ঘটনাকে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।’

দেশে ৭৪ লাখ তরুণ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত নেই: সিপিডি-দৈনিক মানবজমিন

দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুবক-যুবতীর সংখ্যা ২ কোটি। এর মধ্যে ৭৪ লাখ কোনো শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত নেই। ফলে আন্তর্জাতিক যুব সূচকে ২০১৬ এ ১৮৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১৪৬ তম। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে যুব নীতি গ্রহণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

গতকাল রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘প্রান্তিক যুবসমাজের কর্মসংস্থানে সরকারি পরিষেবার ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপে উত্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সিপিডি আয়োজিত সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরেন, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপের সহযোগিতা করেছে দ্যা এশিয়া ফাউন্ডেশন, এসডিজি বাস্তবায়নের নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ। সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, নাইম রাজ্জাক ও রুমিন ফারহান এমপি এবং সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং নির্বাহী পরিচালক ড.ফাহমিদা খাতুন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এখন ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী সুবিধাবঞ্চিত ২ কোটি যুবক রয়েছে। যা মোট শ্রম ও জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে নতুন করে ৩ কোটি যুব-জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। কিন্তু সরকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি প্রকৃতি যেভাবে চলছে তাতে, ঊর্ধ্বে ১ কোটি ৪৯ লাখ, অর্থাৎ অর্ধেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আর বেকার থাকবে অর্ধেক যুবক। কারণ যুব-জনগোষ্ঠীর এখন জীবন ও জীবিকা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান চ্যালেঞ্জে মোকাবিলা করছেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, আমাদের শিক্ষাপদ্ধতি সার্টিফিকেট কেন্দ্রিক। এ শিক্ষাপদ্ধতি বেকারত্ব তৈরি করছে। এর থেকে বের হতে বাস্তব ও জীবনমুখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তারা বলেন, কোন খাতে কত গ্র্যাজুয়েট দরকার, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। পরিকল্পনা ছাড়াই গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য বেকারত্ব কমছে না। পরিসংখ্যান থাকলে সেক্টর অনুযায়ী চাহিদা মোতাবেক গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা যেতো, ফলে বেকারত্ব ঘুচানো যেতো। তারা আরো বলেন, ত্রুটিপূর্ণ ও মান্ধাতা আমলের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি যথাযথ ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের অভাবে প্রতিনিয়তই যুবকরা বেকার হচ্ছেন। তার সঙ্গে স্থায়ী আবাসন, জীবন ও জীবিকার চ্যালেঞ্জের কারণেও কর্মসংস্থাহীন হয়ে পড়ছে চার শ্রেণির যুবগোষ্ঠি। এই যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এখনি প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। গ্রামে ও শহরের বৈষম্য দূর করতে হবে। তাহলেই দেশের উন্নতি হবে।

এ সময় মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দুর্নীতির দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ রয়েছে। ফলে এইচএসসি, অনার্স এবং মাস্টার্স পাসের পর বেকারের হার বাড়ছে। তারা কেউ কেরানির চাকরি করতে চায় না। সবাই অফিসার হতে চায়। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সময়ে উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে।

রুমিন ফারহানা এমপি বলেন, বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে অথচ সরকার বলছে প্রবৃদ্ধির কথা। প্রবৃদ্ধির হিসাব দেখানো হলেও প্রকৃত প্রবৃদ্ধি যে হচ্ছে না বেকারত্ব বৃদ্ধিই তার প্রমাণ। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় দুর্বলতা রয়েছে। সরকার ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দিতে গিয়ে শিক্ষার মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যুব সমাজের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মূলত জীবন চক্রের চ্যালেঞ্জ।

যুব সমাজের মধ্যে যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর, তাদের চ্যালেঞ্জ আরো বেশি। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে যে নতুন তিন কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়, এজন্য অবশ্যই উদ্ভাবনী চিন্তা প্রয়োজন।

মোয়াজ্জেম বলেন, গবেষণায় অংশ নেয়াদের ৬০ শতাংশ মনে করেন, গ্রামীণ প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো কেবল নামে মাত্র দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে ঠিক মতো প্রশিক্ষণের ক্লাস হয় না, ভালো প্রশিক্ষক নেই।

বস্তিবাসী ও আদিবাসীদের মধ্যে শতভাগ যুবগোষ্ঠী এবং মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮ শতাংশের কোনো বসতভিটা না থাকার তথ্য তুলে ধরে সিপিডির এই গবেষক বলেন, বাসস্থান ও জীবিকার ব্যবস্থা উভয়ই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে (বস্তি) অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

শিক্ষা নয়, বাণিজ্যই ঢাবির সান্ধ্য কোর্সের মূল উদ্দেশ্য-দৈনিক প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নয়টি বিভাগে নিয়মিত স্নাতকোত্তর পাস করতে বছরে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে। অথচ একই বিভাগগুলোতে থাকা সান্ধ্য কোর্স ও পেশাজীবী (প্রফেশনাল) কোর্স করতে লাগে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

এই অনুষদে শিক্ষা-বাণিজ্যের উৎসব এতটাই রমরমা যে সান্ধ্য কোর্স ও চারটি প্রফেশনাল কোর্সে বছরে তিন ভাগে নিয়মিত শিক্ষার্থীর প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। একই ধরনের কোর্স আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদেও।

আছে দেড় থেকে দুই বছর মেয়াদি বিভিন্ন কোর্স, আছে এক বছর মেয়াদি শর্ট কোর্সও। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাই নিজেদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য এসব কোর্সে ভর্তি হন। কোর্সগুলোর মধ্যে আছে স্পেশালাইজড মাস্টার্স, এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স, প্রফেশনাল কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স, শর্ট কোর্স ইত্যাদি।

সান্ধ্য কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এখানে শিক্ষার নামে বাণিজ্য চলতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানের চর্চা হবে, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হবে। রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক বক্তব্য, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে দাবির পর সান্ধ্য কোর্স থাকার আর সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। তবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কোর্স থাকতে পারে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

‘দাড়িওয়ালার সঙ্গে বিতর্কে বসুন’, CAA নিয়ে অমিত শাহকে আহ্বান ওয়েইসির-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ওয়াইসি প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিতর্কের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীকে আহ্বান জানিয়েছেন। এবার অমিত শাহকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বিতর্কে বসার জন্য আহ্বান দিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে বিতর্কের জন্য আহ্বান জানালেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেছেন, ‘ওঁদের সঙ্গে বিতর্কে কেন, আমার সঙ্গে বিতর্কে বসুন। দাড়িওয়ালা লোকের সঙ্গে বিতর্কে বসলে চ্যানেলের টিআরপিও বাড়বে।’মঙ্গলবার তেলেঙ্গানার করিমনগরের একটি জনসভা থেকে অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন ওয়েইসি।

দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, এখনই স্থগিতাদেশ নয়, CAA মামলায় কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্ট।

এ বার রাতের অন্ধকারে মহিলাদের পেটাল যোগীর পুলিশ!-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

বিক্ষোভকারীদের হঠাতে যোগীর পুলিশের বিরুদ্ধে দমননীতি প্রয়োগের অভিযোগ আগেও উঠেছে। রাতের অন্ধকারে লেপ-কম্বল কেড়ে নেওয়ার পর এ বার মহিলা বিক্ষোভকারীদের লাঠি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠল তাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে এটাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার সময়কার বেশ কিছু ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। তাতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের টেনে হিঁচড়ে হঠানোর চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে পুলিশকে। এমনকি বিক্ষোভস্থল থেকে মারতে মারতে তাঁদের বার করে দিতেও দেখা গিয়েছে ওই ভিডিয়োয়।

দেশের মানুষের কথা শোনার হিম্মত দেখানোর চ্যালেঞ্জ অমিত শাহকে ছুঁড়লেন কপিল সিবাল-দৈনিক আজকাল

সু্প্রিম কোর্ট চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের জবাব তলব করেছে। এটা হয়তো ভাবতে পারেননি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই গতকাল তিনি

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও আইনজীবী কপিল সিবাল


সদর্পে বলেছিলেন, যত খুশি বিরোধিতা করুন, সিএএ কার্যকর করবই। আর বুধবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা তথা আইনজীবী কপিল সিবাল তুলোধনা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। ইস্যু সেই নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন। কপিল সিবাল তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, বিজেপি নেতার হিম্মত থাকলে দেশের মানুষের কথা শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ দাম্ভিকতার ওপর ভিত্তি করে না হেঁটে বাস্তবের মাটিতে পা রাখতে বললেন তিনি।

এই বিষয়ে টুইট করে অমিত শাহকে তিনি লেখেন, ‘‌আপনি লখনৌ–তে দাঁড়িয়ে বলেছেন আপনারা প্রতিবাদকে ভয় পান না। ভয় পেতেও হবে না। হিম্মত থাকলে দেশের মানুষের কথা শুনুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। একজন জন প্রতিনিধি হিসাবে এটা আপনার কর্তব্য। আপনি এটাও জেনে রাখুন তাঁরাও আপনাকে ভয় পান না।’‌

এদিকে বিজেপি এই আইনের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছে। জন জাগরণ অভিযানের মধ্যে দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করা হচ্ছে এই আইন মানুষের জন্য ভাল। এই পরিস্থিতিতে কপিল সিবালের আক্রমণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২২


 

ট্যাগ

মন্তব্য