জানুয়ারি ২৪, ২০২০ ১৬:০৩ Asia/Dhaka
  • সোলাইমানি হত্যার নিন্দা, কসোভোয় এক নারীর কারাদণ্ড

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৪ জানুয়ারি শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

প্রথমে বাংলাদেশে:

  • ‘গেস্টরুম’ নির্যাতন চলছে, ঢাবি প্রশাসন নিষ্ক্রিয়-দৈনিক প্রথম আলোসরকার দেউলিয়া হয়ে বিএনপির বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে : কাদের- দৈনিক কালের কণ্ঠ
  • সোলাইমানি হত্যার নিন্দা, কসোভোয় এক নারীর কারাদণ্ড-দৈনিক যুগান্তর
  • রোহিঙ্গা ইস্যু: ইউএনএসসির ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব জাতিসংঘ দূতের- দৈনিক ইত্তেফাক
  • ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন -আইসিজের নির্দেশ সুচির জন্য তিরস্কার-দৈনিক  মানবজমিন

ভারতের খবর:

  • মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর শেষ দিন’, ভাইরাস আতঙ্কে চিন, সৌদিতে আক্রান্ত ভারতীয়-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • আরও একবার দেশভাগের দিকে এগোচ্ছি আমরা’‌, ক্ষোভ প্রকাশ বিজেপি নেতা চন্দ্র বসুর-দৈনিক আজকাল
  • মোদি হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির পথে হাঁটছেন, তোপ মার্কিন ধনকুবেরের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

গেস্টরুম নির্যাতন চলছে, ঢাবি প্রশাসন নিষ্ক্রিয়-দৈনিক প্রথম আলো

বিভিন্ন অজুহাতে নির্যাতন বা খবরদারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। সব সময় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়া। এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্রয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এ বক্তব্য পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেটা ধারাবাহিক পরিস্থিতির অংশ। ওই রাতে চার ছাত্রকে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে ব্যাপক মারধর করেন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা নির্যাতনের পর হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে তাঁদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়ে বিচারের দাবিতে বিকেল পাঁচটা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান শুরু করেন মারধরের শিকার ছাত্র মুকিমুল হক চৌধুরী। তিনি চিকিৎসার জন্য গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হামলার শিকার অন্য তিন ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের অন্যতম নেতা হাসান আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, মারধরে আহত মুকিমুলকে পরিবারের সদস্যরা একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। সুস্থ হলে আবার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নির্যাতনের চক্রপ্রতিবছর জানুয়ারির শুরুতে রাত ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটু পরপর তরুণদের ছোট-বড় দল চোখে পড়ে। ‘গেস্টরুম’ থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাইরে ঘুরতে পাঠানো এসব তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের দেখামাত্র সালাম দেওয়া, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য থাকা ইত্যাদি শর্ত সাপেক্ষে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর গণরুমে থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকটের ফলাফল গণরুমব্যবস্থা। এক কক্ষে গাদাগাদি করে থাকেন অনেক শিক্ষার্থী। হলে থাকতে হলে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নিয়ন্ত্রণে থাকা গণরুমগুলোতে উঠতেই হয়, বিনিময়ে যেতে হয় ওই সংগঠনের নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। এখন গণরুমের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক ছাত্রলীগ। ডাকসু নির্বাচনের সময় সব প্যানেলের ইশতেহারে গণরুমব্যবস্থার সমাধানের আশ্বাস থাকলেও এ ব্যবস্থা এখনো বহাল।

চার ছাত্রকে মারধর। বিক্ষোভে সরব ক্যাম্পাস। আহত মুকিমুল প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে হাসপাতালে।

মঙ্গলবার রাত দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কথা হলো প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তাঁরা বললেন, ‘বড় ভাইয়েরা’ গেস্টরুম থেকে তাঁদের ঘুরতে পাঠিয়েছেন। জানালেন ‘গেস্টরুম’-এর দুর্ব্যবহার ও পড়তে এসে হতাশ হওয়ার গল্প।

প্রথম বর্ষে যাঁরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, দ্বিতীয় বর্ষে তাঁদেরই অনেকে আবার অবতীর্ণ হন ‘বড় ভাই’য়ে। তাঁরা কাউকে শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পেটান, কাউকে পেটান কর্মসূচিতে না যাওয়ার অভিযোগে, কাউকে আবার পেটান অবাধ্যতার অজুহাতে। তাঁদের কোনো বিচার হয় না। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে নির্যাতনের এই চক্র চলে আসছে। এ ক্ষেত্রে অনেকটা নির্বিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী অবশ্য বললেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। তবে শুধু ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপাতে নারাজ তিনি। খারাপ সংস্কৃতির পরিবর্তনে মানসিকতার পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন তিনি।

পেটানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় নামঙ্গলবার রাতে শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে চার ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ। কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়। এমন ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটিই প্রথম নয়। মূলত ছাত্রলীগের ভিন্নমতাবলম্বী হলে, এমনকি কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকলেও তাঁকে ‘শিবির কর্মী’ আখ্যা দিয়ে মারধরের ঘটনার নজির রয়েছে।

২০১৫ সালের ২ আগস্ট রাতে বিজয় একাত্তর হলে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় (আইবি) বিভাগের শিক্ষার্থী হোসাইন মিয়াকে ছাত্রশিবিরের কর্মী আখ্যা দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। অথচ হোসাইন ছিলেন ছাত্রলীগেরই কর্মী। ওই ঘটনায় হলের তদন্ত কমিটি হল শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সাড়ে তিন বছর পার হলেও সেই সুপারিশের বাস্তবায়ন হয়নি।

২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট রাতে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের ছাত্র মনিরুল ইসলামকে একই অপবাদে পিটিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও রাতেই হলে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে জানা যায়, মনির ছাত্রশিবিরের কেউ নন, ছাত্রলীগের কর্মী। তাঁর পরিবারও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ওই ঘটনার চার দিন পর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের পাঁচ শিক্ষার্থীকে শিবির কর্মী সন্দেহে মারধর করে পুলিশে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। পরে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, শিবির-সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্যাতনের ঘটনা আরও আছেডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেলের বাইরে থেকে প্রার্থী হওয়ার জের ধরে গত বছরের ১ এপ্রিল রাতে এসএম হলে মাস্টার্সের ছাত্র ফরিদ হাসানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন হল শাখা ছাত্রলীগ ও হল সংসদের নেতারা। বিচার চেয়ে পরদিন প্রাধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক। লাঞ্ছনা ও মারধরের শিকার হন কয়েকজন নারীনেত্রীও।

ঘটনা তদন্ত করে হল প্রশাসন ৭ মে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দেয়। এরপর ২৮ মে শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার জন্য চারজন প্রাধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঘটনার এক বছর হতে চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব ও প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, প্রতিবেদনটি শৃঙ্খলা বোর্ডে পাস হয়েছে। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উঠবে।

সহপাঠীর কাছ থেকে ক্যালকুলেটর ধার নেওয়া নিয়ে ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে (এসএম হল) ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরের শিকার হন এহসান রফিক। তিনি দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁকে হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এতে এহসানের একটি চোখের কর্নিয়া গুরুতর জখম হয়। তাঁর কপাল ও নাক ফেটে যায়।

নির্যাতনের ঘটনায় এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ওমর ফারুককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া শাখা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক উপসম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে হিমেল, সহসম্পাদক রুহুল আমিন ব্যাপারী, সহসম্পাদক ফারদিন আহমেদ, কার্যকরী সদস্য আহসান উল্লাহ ও সামিউল হককে দুই বছর এবং সহসভাপতি আরিফুল ইসলামকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের ছয়জনেরই সাজার মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত ওমর ফারুকের সাজা কমে হয়েছে দুই বছর আর পাঁচজনের দুই বছরের বহিষ্কারাদেশ কমে হয়েছে এক বছর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেলে ছাত্রলীগ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তবু যদি কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, ভবিষ্যতে সেগুলো যাতে না হয়, সেই চেষ্টা থাকবে।’

প্রতিবাদ-বিক্ষোভমঙ্গলবারের ঘটনার প্রতিবাদে চার দফা দাবি এবং ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন ১২ ছাত্রসংগঠনের জোট সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্য গতকাল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশে ভিপি নুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের মুক্তভাবে মতপ্রকাশ ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পথে ছাত্রলীগ প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাবেশে ভিপি নুরুল চার দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীর পদত্যাগ, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে বৈধ সিট দেওয়া ও অছাত্র-বহিরাগত বিতাড়ন করে হলগুলোতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস-দখলদারি বন্ধ করা, ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে ছাত্রলীগ-মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের হামলা-ভাঙচুর ও জহুরুল হক হলে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণ।

পদত্যাগের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি নুরুলকে ‘দায়িত্বশীল আচরণ’ করার পরামর্শ দেন প্রক্টর গোলাম রব্বানী।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ৩৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় আয়োজিত ছাত্র সমাবেশেও চার ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। সেখানে আলোচনায় অংশ নিয়ে ডাকসু ভিপি অভিযোগ করেন, ভিন্নমত দমনের লক্ষ্যে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকার দেউলিয়া হয়ে বিএনপির বিজয়কে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে- দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

আওয়ামী লীগ রাজ‌নৈ‌তিকভা‌বে দেউ‌লিয়া হ‌য়ে নানাভা‌বে বিএন‌পির বিজয়‌কে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র কর‌ছে ব‌লে অভিযোগ ক‌রে‌ছেন দ‌লের মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার সোয়া ১০টায় বনানী কবরস্থানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বি‌এন‌পি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত শে‌ষে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। এরপ‌রে তা‌বিথ আউয়াল ও ইশরাক হো‌সেন ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র আনিসুল হকের কবর জিয়ারত ক‌রেন।

‌মির্জা ফখরুল ব‌লেন, সিটি নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দিতে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছ, নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে শূন্য হয়ে, দেউলিয়া হয়ে বিএনপির বিজয়কে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে।

মির্জা ফখরুল ব‌লেন, ধা‌নের শী‌ষের প‌ক্ষে যে গণ‌জোয়ার সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে। তা‌তে তা‌বিথ আউয়াল এবং ইশরা‌কের বিজয় কেউ ঠেকাতে পার‌বে না। ‌বিএন‌পি মহাস‌চিব ব‌লেন, রাজ‌নৈ‌তিক কার‌ণে আরাফাত রহমা‌নের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে। তি‌নি রাজনী‌তি কর‌তেন না। তারপ‌রেও প্র‌তি‌হিংসায় কো‌কোর উপরশারী‌রিক ও মান‌সিক অত্যাচার করা হ‌য়ে‌ছে। তার আত্মার মাগ‌ফিরাত কামনা কর‌ছি।

এসময় উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য সে‌লিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মো.শাহজাহান, চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা জয়নুল আ‌বদিন ফারুক, হা‌বিবুর রহমান হা‌বিব আবুল খায়ের ভূইয়া, বিএন‌পির যুগ্ম মহাস‌চিব খায়রুল ক‌বির খোকন, হা‌বিব উন নবী খান সো‌হেল, ‌বিএন‌পি চেয়ারপারস‌নের বি‌শেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক শহীদ উ‌দ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আ‌মিনুল হক, সহ-সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আউয়াল খান, নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস্য না‌জিম উ‌দ্দিন আলম, যুবদ‌লের সভাপ‌তি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উ‌দ্দিন টুকু, সি‌নিয়র সহ সভাপ‌তি মোরতাজুল ক‌রিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠ‌নিক সম্পাদক মামুন হাসান, ‌স্বেচ্ছা‌সেবক দ‌লের সভাপ‌তি শ‌ফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কা‌দের ভূইয়া জু‌য়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফি‌রোজ, জাসা‌সের সহ সভাপ‌তি জাহাঙ্গীর শিকদার, যুবদল উত্ত‌রের সভাপ‌তি এসএম জাহাঙ্গীর হো‌সেন,সাধারণ সম্পাদক স‌ফিকুল ইসলাম মিল্টন, ছাত্রদ‌লের সভাপ‌তি ফজলুর রহমান খোকন, লেবার পা‌র্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তা‌ফিজুর রহমান ইরান, এন‌পি‌পির চেয়ারম্যান ড.ফ‌রিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএন‌পি চেয়ারপারস‌নের মি‌ডিয়া উইং সদস্য শামসু‌দ্দিন দিদার, শায়রুল ক‌বির খান সহ বিএন‌পি ও অঙ্গ সহ‌যো‌গি সংগঠ‌নের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে : কাদের- দৈনিক কালের কণ্ঠ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে আওয়ামী লীগকে ‘সোনার মানুষ তৈরির কারখানা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর সেই সোনার বাংলা গড়তে আওয়ামী লীগকে নতুন মডেলে ঢেলে সাজানো হবে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ট্র্যাডিশনের সাথে টেকনোলজি, আইডিয়ালিজমের সাথে রিয়েলিজমের সুন্দর সমন্বয় করে সোনার বাংলা বিনির্মাণের চূড়ান্ত লক্ষ্য অভিমুখে আমরা উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যেতে চাই।’

শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গেবন্ধুর সমাধিতে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজনে অংশ নিতে ওবায়দুল কাদের অন্যদের সঙ্গে এসেছেন এখানে।

সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় সম্মেলনের পর আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ ও জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় এসেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সোনার মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে আওয়ামী লীগকে সময় ও যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন মডেলে আমরা ঢেলে সাজাব। সাংগঠনিক কাঠামোকেও শুদ্ধ করব, সুশৃঙ্খল করব। সারাবাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত এই লক্ষ্য ছড়িয়ে দেয়ার শপথ ও অঙ্গীকার নিতেই আমরা আজ এখানে এসেছি।

টানা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। তৃতীয় মেয়াদের সরকার একবছর পার করেছে। এ অবস্থায় সোনার বাংলা বিনির্মাণে কোনো ধরনের বাধা রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সোনার বাংলা বিনির্মাণ একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। আমাদের টার্গেট আছে, ভিশন আছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যে ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ ও ডেল্টা প্ল্যান রয়েছে, আমরা এই তিনটিকে সামনে রেখে আমাদের এজেন্ডা ঠিক করেছি। সময়ের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাধা ও চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। সময়ের পরিবর্তনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। নতুন নতুন বাধাও আসতে পারে। চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। আর তার জন্য সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের সুশৃঙ্খল সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। সাংগঠনিক শক্তি ও আদর্শের পতাকা হাতে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা পৌঁছালে তাদের নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানানো হবে জাতির পিতার সমাধিতে। এরপর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের পর সংক্ষিপ্ত আকারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

‘আমাদের সভাপতি সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় রাজনৈতিক, সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করব। যেহেতু সভা সংক্ষিপ্ত হবে, তাই সুদীর্ঘ আলাপের সুযোগ নেই।’

আনিসুল হকের কবরে তাবিথ ও ইশরাক’- দৈনিক কালের কণ্ঠ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত সাবেক মেয়র আনিসুল হকের কবর জিয়ারত করলেন এবারের সিটি নির্বাচনে বিএনপির দুই মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন।

আজ শনিবার সকালে বনানী কবরস্থানে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। পরে সেখানে আনিসুল হকের কবরও তারা জিয়ারত করেন।

অবিভক্ত ঢাকার শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক এবার দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে ধানের শীষের প্রার্থী। আর বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ নির্বাচন করছেন উত্তর সিটিতে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে তিনি ছিলেন আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী।আনিসুল হকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মোনাজাতেও অংশ নেন বিএনপির দুই প্রার্থী।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল খান, মোরতাজুল করীম বাদরু এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত শেষে বিএনপির দুই প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু করেন।

সোলাইমানি হত্যার নিন্দা, কসোভোয় এক নারীর কারাদণ্ড-দৈনিক যুগান্তর

বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নিন্দা জানিয়ে কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে হচ্ছে কসোভোর এক নারীকে।

দেশটির একটি আদালত ইকবালে বেরিশা হুদুতি নামের ওই নারীকে একমাসের কারাদণ্ড দেন।

তিন সন্তানের জননি হুদুতি কসোভোয় একটি ইসলামি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। দেশটির বিশেষ কৌঁসুলি ব্লেরিম ইসুফাজ দাবি করেছেন, প্রকাশ্যে সহিংসতা উসকে দেয়ার অপরাধে হুদুতিকে গত ৭ জানুয়ারি আটক করা হয়।-খবর পারস টুডের

তিনি বলেন, ওই নারী প্রতিশোধ নেয়ার ডাক দেয়ার পর তাকে আটক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ৩ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আল-কুদস ফোর্সের প্রধান সোলাইমানি। একদিন পর হুদুতি তার ফেসবুক পেজে লেখেন, সোলেইমানি কখনো মরবেন না।

তিনি আরও বলেন, ইরান ও ইরাকের দুজন শীর্ষস্থানীয় জেনারেলকে হত্যা করে মারাত্মক অন্যায় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আপনারা বাড়ির মালিককে হত্যা করে গোটা পরিবারকেই হত্যা করেছেন, কাজেই প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবী এবং এর কোনো সীমা থাকবে না।

ফেসবুক পোস্টে এই নারী আরও বলেন, সন্ত্রাসী আমেরিকা ইরাকে আমাদের শিয়া ভাই ও কমান্ডারকে হত্যা করেছে। যখনই আমরা আমেরিকার সন্ত্রাসী অপরাধীদের মুখোমুখি হবো, তখনই আমাদেরকে সক্রিয় হতে হবে।

পরবর্তীতে অবশ্য নিজের পোস্ট মুছে ফেলেন এই নারী। তিনি বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যম তার বক্তব্যকে বিকৃত করে তুলে ধরেছে।

এছাড়া, দ্বিতীয় পোস্টটি তার নয় বলেও দাবি করেন তিনি। হুদুতি বলেন, দ্বিতীয় ফেসবুক পোস্টটি এমন একটি একাউন্ট থেকে করা হয়েছে যেটি তিনি চালান না।

রোহিঙ্গা ইস্যু: ইউএনএসসির ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব জাতিসংঘ দূতের- দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা গণহত্যার হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার জন্য সংস্থার ওপর চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে ছয় দিনের বাংলাদেশ সফরের শেষভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আদালতে নিতে ব্যর্থ হয়েছে।'

ইয়াং হি বলেন, 'আমি মনে করি, ব্যর্থতার জন্য আমাদের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ওপর চাপ বাড়ানো অব্যাহত রাখতে হবে।' একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার জন্য তিনি খোলাখুলি চীন ও রাশিয়াকে দায়ী করে বলেন, 'এটি সত্যিই দুঃখজনক’, আমি অনেকবার বলেছি মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কিছু করতে না পারা এই দুই দেশের জন্য লজ্জাজনক।' এখন তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রিপোর্ট পেশ করবেন বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘ ২০১৪ সালে ইয়াং হি লিকে মিয়ানমারের পরিস্থিতির ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়। কিন্তু মিয়ানমার এখনো তাকে দেশটিতে ঢুকতে দেয়নি। ফলে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহে বাধ্য হয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি বলেন, 'আমি আশাহত, তবে আমাকে সত্য বলতে হবে।'

তিনি আরো বলেন, 'জাতিসংঘের অ্যাসাইনমেন্ট শেষ হওয়ার পরও তিনি এ পরিস্থিতি উন্নয়নে সাধ্যমত কাজ করবেন। কক্সবাজারে আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাদের মধ্যে নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার গভীর আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করেছেন।'

প্রতিবেদনে সিয়েরা লিওন, রোয়ান্ডা ও বসনিয়া-হার্জগোভিনার নৃশংসতার বিচারে গঠিত আদালতের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা করতে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি এডহক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব থাকবে বলে জানান তিনি। তিনি ট্রাইব্যুনালটি আইসিজে ও আইসিসির সম্পূরক করার প্রস্তাব করেছেন।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন -আইসিজের নির্দেশ সুচির জন্য তিরস্কার-দৈনিক  মানবজমিন

হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ২৩শে জানুয়ারি রায় দিয়েছে যে, মিয়ানমারকে নিপীড়িত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। গণহত্যা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। দেশটির বিরুদ্ধে কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের এটাই প্রথম রায়। একইসঙ্গে দেশটির বেসামরিক অংশের নেত্রি ও স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির প্রতি তীব্র নিন্দার প্রকাশ ছিল এই রায়। তিনি গত মাসে নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে,মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রোহিঙ্গাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, হাজারো রোহিঙ্গাকে হত্যা ও ধর্ষণ করা এবং আরো ৭ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।গত নভেম্বরে ৫৭ দেশের সম্মিলিত সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এর পক্ষে আইসিজেতে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। মামলায় তারা মিয়ানমারকে গণহত্যার আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। পাশাপাশি যুক্তি দেখায় যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা এখনো বিপদের ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে কিনা তা বিবেচনা করে দেখছে আদালত।তবে গাম্বিয়া আরো ক্ষতি এড়াতে ‘অন্তর্বর্তী নির্দেশ’ নামে পরিচিত অস্থায়ী কিছু আদেশ জারির আবেদন জানায়। তারা আইসিজের কাছে রোহিঙ্গাদের সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে মিয়ানমারকে তাদের সামরিক বাহিনীকে নিপীড়ন বন্ধের নির্দেশ দিতে আহ্বান জানায়। পাশাপাশি গণহত্যার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণ ও আদেশ জারির চার মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলে মিয়ানমারকে।মিয়ানমারের নিয়োগ দেয়া জার্মান বিচারক ক্লস ক্রেস ও চীনা আইনজিবী শু হানকিন সহ আইসিজের ১৭ বিচারকের সকলে সর্বসম্মতভাবে গাম্বিয়ার অনুরোধে সায় দিয়েছে। উল্লেখ্য, হানকিন গত মাসের শুনানিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার মামলা করার অধিকার রয়েছে কিনা সে বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

বিচারকদের সম্মতি নিয়ে আইসিজের সাবেক সহযোগী আইনি কর্মকর্তা মাইক্যাল বেকার বলেন, এমন পর্যায়ের সম্মতি সচরাচর দেখা যায় না।এছাড়া বিচারকরা আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, চার মাসের মাঝে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর থেকে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর একটি করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে মিয়ানমারকে। মানবাধিকার সংগঠনের জোট এশিয়া জাস্টিস কোয়ালিশনের পরিচালক প্রিয়া পিলাই বলেন, গাম্বিয়া কিন্তু এ অনুরোধ করেনি।গাম্বিয়ার জন্য রায়টি পুরোপুরি জয়ের ছিল না। আদালত মিয়ানমারকে দেশটিতে জাতিসংঘ তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দেয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেয়নি। সেখানে প্রবেশের অধিকার নেই জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশনের। এতে দেশটিতে ২০১৭ সালে চালানো ‘নিধন অভিযান’ সম্পর্কে প্রমাণ সংগ্রহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। আদালত গাম্বিয়ার এ অনুরোধ কেন ফিরিয়ে দিয়েছে তা ব্যাখ্যা করেনি। বেকার জানান, তিনি এ সিদ্ধান্তে চমকে যাননি। তিনি বলেন, এটি একটি কলহপ্রিয় প্রশ্ন, বা তর্কযোগ্য যে, জাতিসংঘের তদন্তকারীদের দেশে ঢুকতে দেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কিনা।তবে আদালতের অনুমোদন দেয়া সকল নির্দেশকেই স্বাগত জানিয়েছে গাম্বিয়া ও রোহিঙ্গা অ্যাডভোকেসি সংগঠনগুলো। দ্য বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে রায়টিকে ‘জবাবদিহিতার ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্তর্বর্তী আদেশগুলো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

এছাড়া, গত নভেম্বরে মিয়ানমার প্রকাশ্যে আইসিজের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে। পিলাই বলেন, সার্বিকভাবে অন্তর্বর্তী আদেশগুলো মানতে হবে। আইসিজের কর্তৃত্ব বিশাল।গাম্বিয়ার যদি মনে হয় যে, মিয়ানমার আদালতের নির্দেশগুলো মানছে না, তাহলে তারা নতুন করে আদেশ জারির আবেদন করতে পারে বা পর্যায়ক্রমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সাহায্য চাইতে পারে। প্রাক্তন আইসিজে কর্মকর্তা বেকার অবশ্য মনে করেন, চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদ তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা কম। পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ায় চীন যেকোনো প্রস্তাবনায় ভেটো দেয়ার ক্ষমতা রাখে। ইতোপূর্বে  রোহিঙ্গা নির্যাতনের অভিযোগে মিয়ানমারের জন্য শাস্তিমূলক একাধিক চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে তারা।আইসিজের প্রেসিডেন্ট আব্দুলকাওয়ি ইউসুফ ব্যথিতভাবে জানিয়েছেন যে, এই রায়ের সঙ্গে মামলার যোগ্যতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। মামলাটি এখনো চলছে।

অন্তর্বর্তী আদেশের প্রয়োজনীয়তা পূরণে গাম্বিয়ার আদালতকে বোঝাতে হয়েছে যে, মিয়ানমারের গণহত্যা হয়ে থাকতে পারে ও ভবিষ্যতে তা ফের ঘটতে পারে। তবে গণহত্যা হয়েছে তা প্রমাণ করতে পারেনি তারা। ধারণা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক বছর লাগবে।আদালতের রায়ের দিন মিয়ানমারের শতাধিক নাগরিক-সমাজ সংগঠন আইসিজেকে সমর্থন জানিয়ে এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে। তারা লিখেছে, আমরা স্পষ্টভাবে বুঝি যে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজের রায় এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়, যারা রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে।দুঃখজনক হলেও অল্পসংখ্যক ভিন্নমতও আছে। ডিসেম্বর সুচি যখন হেগে যান, তখন তার হাজারো সমর্থকরা মিয়ানমারজুড়ে রাস্তায় নেমে তাদের আনুগত্য প্রকাশ করে। আইসিজের রায় বিদেশে সুচির জন্য লজ্জাজনক হলেও, নিজদেশে এই রায় জাতির অভিভাবক হিসেবে তার ভাবমূর্তি আরো জোরদার করবে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধেও দেশটিতে পূর্বধারণা জোরদার করার আশঙ্কা রয়েছে। তারা কেবল মিয়ানমারে অবাঞ্ছিতই নয়, আন্তর্জাতিক লজ্জ্বাও।

এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি

মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর শেষ দিন’, ভাইরাস আতঙ্কে চিন, সৌদিতে আক্রান্ত ভারতীয়-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

রহস্যময় করোনাভাইরাসের ভয়ে কাঁপছে চিন। ১৮ জনের মৃত্যুর পরে দেশের পাঁচ শহরকে কার্যত ‘বন্দি’ করল চিন সরকার। 

সৌদি আরবে কর্মরত এক ভারতীয় নার্সের দেহেও করোনাভাইরাস মিলেছে। ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরন খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, আক্রান্ত নার্স জেড্ডার আসির ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের যেন দ্রুত চিকিৎসা হয় তা নিশ্চিত করার জন্য বিদেশমন্ত্রীকে এস জয়শঙ্করকে চিঠি লিখেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। 

সতর্কতা হিসেবে বেজিংয়ের নির্দেশ, ওই পাঁচ শহরে কোনও বিমান ওঠানামা করবে না। ট্রেন ছাড়বে না। বাসিন্দাদের বলা হয়েছে, খুব প্রয়োজন ছাড়া শহরের বাইরে না বেরোতে। 

বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ, উহান শহরের সি-ফুড ও মাছ-মাংসের বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। এই বাজারে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীর মাংস বেআইনি ভাবে বিক্রি হত। দেশজুড়ে সাড়ে ছ’শোরও বেশি লোক এখন আক্রান্ত। দেখা গিয়েছে, বিদেশে আক্রান্তদের বেশির ভাগ চিন-ফেরত। সর্বশেষ খবরটি এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। এর পরেই ভাইরাসের ‘উৎস’ উহান, হুয়াংগ্যাং ও ইঝৌ শহরকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। 

হুবেই প্রদেশের বন্দর-শহর উহানে ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষের বাস। অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেন চলাচল, বিমান পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবন্দি লোকেদের মধ্যে। গত কাল উহানে এ নিয়ে সরকারি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরে একই নির্দেশ আসে হুয়াংগ্যাংয়ের বাসিন্দাদের কাছেও। ৭৫ লক্ষ মানুষের বাস এই শহরে। গত কাল মধ্যরাতে ট্রেন-সহ সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ সিনেমা হল, সাইবার কাফে, বাজার-দোকানও। ইঝৌ শহরও একই পথে হেঁটেছে। রাতের দিকে আরও দু’টি শহরকে ‘বন্দি’ ঘোষণা করা হয়। ট্রেন-বিমানের পাশাপাশি ফেরি, বাস চলাচলও বন্ধ। এই সব শহরের স্টেশনগুলিতে নামানো হয়েছে সেনা-পুলিশ। স্টেশনের প্রবেশ পথে গার্ডরেল বসানো হয়েছে। 

চিনা সোশ্যাল মিডিয়া ‘উইবো’তে ‘শহরবন্দি’দের এক জন লিখেছেন, ‘‘মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর শেষ দিন।’’ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকে। শনিবার, ২৫ জানুয়ারি চিনা নববর্ষ। প্রবাসীরা দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, উৎসবে মেতে ওঠেন। উহানের স্টেশন, বিমানবন্দর উপচে পড়ে ভিড়ে। সেই ছবিটাই এ বার নেই। 

শ্বাস-প্রশ্বাসে ছড়ায় ভাইরাসটি। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধরা পড়ে। তার পর থেকে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত ৫৭০ জন। জাপান, হংকং, ম্যাকাউ, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তাইল্যান্ড, আমেরিকা, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর থেকে খবর মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তারা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে ‘বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সঙ্কট’ ঘোষণা করা হবে কি না। সংস্থার প্রধান বলেন, ‘‘চিন যে কঠিন পদক্ষেপ করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’’

আরও একবার দেশভাগের দিকে এগোচ্ছি আমরা’‌, ক্ষোভ প্রকাশ বিজেপি নেতা চন্দ্র বসুরদৈনিক আজকাল

আরও একবার দেশভাগ হতে চলেছে। কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ফের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন বিজেপি নেতা চন্দ্রকুমার বসু। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জন্মজয়ন্তী পালনের দিনে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চন্দ্র বসুর বক্তব্য, ‘‌গোটা দেশটাই যেন ধসে যাচ্ছে। আমি বিশদে যেতে চাই না। তবে বলতে চাই, দেশে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও একতা নেই। মনে হচ্ছে যেন, আরও একবার দেশভাগ হবে।’‌ বেশ কয়েকদিন ধরেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য বিজেপির সহসভাপতি চন্দ্রকুমার বসু। বৃহস্পতিবার নেতাজির জন্মজয়ন্তী পালনের দিনে তাঁর মূর্তির হাতে বিজেপির পতাকা দেখে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন চন্দ্র বসু।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি সিএএ ইস্যুতেও নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইঙ্গিত দিলেন দল ছাড়ারও। বিষয়টি জানতে পেরে অসন্তুষ্ট হন চন্দ্র বসু। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘নেতাজি সুভাষচ্ন্দ্র বসু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও তিনি রাজনীতির অনেক ঊর্দ্ধে। আমি মনে করি আজকের কোনও রাজনৈতিক দলই নেতাজিকে নিজেদের বলে দাবি করতে পারে না। কেউই তাঁর মূর্তির হাতে একটি দলের পতাকা ধরিয়ে দিয়ে তাঁর ওপর অধিকার দেখাতে পারে না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা করি। আমার মনে হয় রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের খুব তাড়াতাড়ি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

মোদি হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির পথে হাঁটছেন’, তোপ মার্কিন ধনকুবেরের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

এবার প্রধানমনরী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তোপ দগলেন মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরস। সুইত্‍‌জারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকনমিক সামিটে তিনি দাবি করেছেন, ভারতে উগ্র রাষ্ট্রবাদ বাড়ছে।

সম্মেলনে বক্তৃতায় সোরস বলেন, ‘ক্রমশ উগ্র রাষ্ট্রবাদ বাড়ছে। এর সবচেয়ে বেশি কুপ্রভাব পড়েছে ভারতে। ওই দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত নরেন্দ্র মোদির সরকার হিন্দুরাষ্ট্র গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, কাশ্মীরে দমননীতি চালিয়ে লক্ষ লক্ষ মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরস

মার্কিন ধনকুবেরের এহেন মন্তব্যে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে সমালোচনা। অনেকেই তাঁকে সমর্থন করলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলায় তাঁর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে সোরসের বক্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদি নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘আত্মকেন্দ্রিক ও জালিয়াত’ বলেছেন তিনি। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একনায়ক বলেও সমালোচনা করেছেন সোরস।

উল্লেখ্য, সদ্য দাভোসের এই সম্মেলনেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের পর  কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার সাফ জানালেন, কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় কোনও ব্যাক্তি বা পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না ভারত। ইমরানের উদ্দেশে রবীশ বলেন, “আগে পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করুক।” সব মিলিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই মেনে নেবে না নয়াদিল্লি।     

 

ট্যাগ

মন্তব্য