ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০ ১৬:০৪ Asia/Dhaka

আজকের আসরে আমরা আলোচনা করবো নতুন একটি শিল্প নিয়ে। এটি হলো টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প।

এই শিল্পটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে বেশ প্রাচীন। পুরাতন প্রস্তরযুগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের প্রচলন গড়ে ওঠে। খাদ্য ও বাসস্থানের পর মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অন্যতম এই টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প।  টেক্সটাইল শিল্পে ন্যানো বিজ্ঞান উৎপাদনে বিশ্বে শতকরা প্রায় তিন ভাগের অধিকারী ইরান। জ্ঞান-বিজ্ঞান উৎপাদনে ইরানের শতকরা এই হার ফ্রান্সের সম পর্যায়ের এবং স্পেন ও জাপানের মতো দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে।

সূতা বানানো থেকে শুরু করে সূতা দিয়ে কাপড় বোণা সবই টেক্সটাইল শিল্পের কাজ। কাপড় তৈরির পর সেই কাপড়ে রঙ করার কাজটিও টেক্সটাইল শিল্পের মধ্যে পড়ে। অবশ্য টেক্সটাইল শিল্পটি এখন বিভিন্ন ছোট ছোট শিল্পে ভাগ হয়ে গেছে। কাপড়ের ওপর প্রিন্টিংয়ের কাজ এবং রঙ করার কাজ এখন ডাইং-য়ের মতো ভিন্ন ভিন্ন কারখানায়ও হয়ে থাকে। টেক্সটাইল শিল্পের ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে শিল্পটির প্রসঙ্গ উঠ আসবে তা হলো সূতা কাটা শিল্প। তুলা বা আঁশ দিয়ে সূতা তৈরি করা এবং মাকুর সাহায্যে তাঁতের কাজ করা টেক্সটাইল শিল্পের প্রাথমিক পর্যায় বলা যেতে পারে। টেক্সটাইল শিল্পের উন্নয়নে এই মাকু ও চরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সূতা কাটার যে চরকার কথা আমরা জানি এই চরকার অস্তিত্ব সৃষ্টিতে তাঁত শিল্পের নেপথ্য প্রেরণা রয়েছে।

সেলাই মেশিন এরপরের আবিষ্কার। সেলাই মেশিন আবিষ্কারের সঠিক দিন-তারিখ বলা মুশকিল। তবে খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের শুরুর দিকে আবিষ্কার হয়েছে বলে মনে করা হয়। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই সেলাই মেশিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্ভাবনী। ইরানি, চীনা, সিরিয় এবং মিশরীয় সভ্যতাগুলো এই আবিষ্কারকে পরিপূর্ণতা দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিচিত্র গোত্র ও গোষ্ঠির মাঝে সেলাই এবং বুণনের বিভিন্নরকম ধারা প্রচলিত ছিল। বুণন বৈচিত্র্যের কারণে কাপড়ের ক্ষেত্রে এসেছে নকশা ও ডিজাইনগত নানা বৈচিত্র্য। কালের পরিক্রমায় এবং নতুন নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে তাই টেক্সটাইল শিল্পেও এসেছে পরিবর্তন ও নতুনত্ব। বলাবাহুল্য,শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে টেক্সটাইল শিল্প চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন ঘটিয়েছে। নি:সন্দেহে বলা যায় আজকের বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর অগ্রগতির পেছনে রয়েছে এই টেক্সটাইল শিল্পের উন্নয়ন।

আগেকার দিনে টেক্সটাইল শিল্প সূতা এবং কাপড় তৈরির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে টেক্সটাইল শিল্প ব্যাপক জটিল এবং বিস্তৃত একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। পোশাক তৈরি থেকে শুরু করে কার্পেট তৈরি, ম্যাট তৈরি এবং এ ধরনের আরও বিচিত্র জিনিস এখন টেক্সটাইল শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। গাড়ির ব্রেক কভার তৈরি, কৃত্রিম আর্টারি ও শিরা চেপে ধরার জন্য বিভিন্ন ধরনের বেল্ট তৈরি, সড়ক-মহাসড়ক, উড়োজাহাজ ইত্যাদিতেও টেক্সটাইল সামগ্রী ব্যবহার হয়। শুনে আশ্চর্য হবেন যে কৃত্রিম হার্ট তৈরির ক্ষেত্রেও এখন টেক্সটাইল সামগ্রি তথা এক ধরনের সূতোর মতো কৃত্রিম তুলা ব্যবহার করা হয়।

গাড়ির টায়ারকে মজবুত ও শক্তিশালী করতে প্রচুর পরিমাণ টেক্সটাইল পণ্য ব্যবহার করা হয়। বলা যায় গাড়ির চাকার প্রায় পঁচাত্তর ভাগই টেক্সটাইল পণ্য। সড়ক মহাসড়ক তৈরিতে পিচ ঢালার আগেও রাস্তার ওপর টেক্সটাইল পণ্য বিশেষ করে পাট বা পাটজাতীয় অন্যান্য বস্তার কাপড় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ ধরনের এই কাপড় ব্যবহার করলে রাস্তার আয়ু বেড়ে যায়। একটি দেশের উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে এই টেক্সটাইল শিল্পের উন্নয়নের মাত্রাকে ধরা হয়ে থাকে। সুতরাং যেসব দেশ টেক্সটাইল সামগ্রী বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে তারা উন্নতি ও অগ্রগতি লাভ করেছে বলে ধরে নেয়া যায়। ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল আশি হাজার কোটি ডলারের মতো।

বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল শিল্প পণ্যের রপ্তানির পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা। ইরানেও টেক্সটাইল শিল্প একটি খৌশলগত শিল্পের মর্যাদায় অভিষিক্ত। ইরান বিষয়ক গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের লেখাজোখা অনুযায়ী এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে ইরানে টেক্সটাইল শিল্প তথা বুণণ ও সূতা কাটা শিল্পের সূত্রপাত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব দশ হাজার বছর আগে। কাশানের সিয়ালক এলাকায় বুণন শিল্প ও সূতাকাটা শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রাচীন যেসব নিদর্শন পাওয়া গেছে সেসব থেকে বিশেষজ্ঞরা এই মত দিয়েছেন। মাদরাই সর্বপ্রথম এই শিল্পে অবদান রেখেছে। তারা স্থানীয় প্রাকৃতিক উপাদাস ব্যবহার করে বিশেষ করে পশম, কটনসহ আরও অন্যান্য ধরনের তুলাজাতীয় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে চমৎকার সব কাপড় তৈরি করেছেন। কেবল কাপড়ই নয় শতরঞ্জিসহ ম্যাট এবং এ জাতীয় আরও বহু শিল্প তৈরি করেছে তারা। শিরাজের তাখতে জামশিদ বা পার্সপোলিসের প্রাচীন নকশায় সেসব শিল্পের নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/ মো:আবু সাঈদ/ ০৯

ট্যাগ

মন্তব্য