মে ১৬, ২০২০ ২০:৩৮ Asia/Dhaka

করোনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এরইমধ্যে 'মন্দা' প্রবেশে করেছে। নানা বিবেচনায় এটি অনিবার্য হয়ে গেছে। রেডিও তেহরানকে দেয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে পড়েছে। তাঁদের এখন 'দিন আনে দিন খাওয়ার মতো' অবস্থা নেই। আমেরিকায় মানুষ অবিশ্বাস্যরকমের বেকারত্বের মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষের সাপ্লাই চেইনের ওপর প্রভাব পড়েছে। 

বিশিষ্ট এ সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও সমাজ চিন্তক আরো বলেন, বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমে যাবে, জিডিপি কমে যাবে। ফলে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের খুব ধীরগতিতে উন্নতি হচ্ছে। অনেক অঙ্গরাজ্যে লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। এর প্রধান কারণ রাজনৈতিক।

পুরো সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

রেডিও তেহরান: জনাব অধ্যাপক আলী রিয়াজ, বিশ্ব থমকে গেছে করোনার মহামারিতে। কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য অনেকটা সামাজিক সর্তকতা হিসেবে লকডাউন দেয়া হয়েছে দেশে দেশে। এতে সারাবিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা জোরদার হয়েছে। আপনার পর্যবেক্ষণ কি?

আলী রিয়াজ: দেখুন, করোনার যে পরিস্থিতি গোটা বিশ্বজুড়ে তার একটা বড় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। জনস্বাস্থ্যের যে পরিস্থিতি, দুর্ভোগ মোকাবেলা এবং ব্যাপক আকারে মৃত্যুর ঘটনার বিষয়টি তো আছেই। আর এ প্রভাব অনেক দিন ধরে চলবে। কিন্তু অর্থনীতির প্রভাবটা থাকবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা (ফাইল ফটো)

সামগ্রিকভাবে এরইমধ্যে দেখতে পাচ্ছি- বিশ্ব অর্থনীতিতে একটা মন্দার আশঙ্কার কথা শুধু বলব না, মোটামুটি নিশ্চিত করেই একথা বলতে পারি একধরনের মন্দা দেখা দেবে। কারণ সারা পৃথিবীর অর্থনীতির সঙ্কোচন ঘটবে। এরইমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের হিসাব যদি আপনারা দেখেন সেখানে বলা হয়েছে প্রায় তিন দশমিক দুই শতাংশ কনট্রাকশন হবে। আইএমএফ বলছে এটা প্রায় তিন শতাংশে নেমে আসবে। গত চার বছরে বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির যতটা লাভ হয়েছিল তার সবটাই প্রায় উধাও হয়ে যাবে। আর এই যে সংকোচনটা ঘটবে তার একটা বড় চাপ পড়বে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। সেক্ষেত্রে আমরা ধরেই নিতে পারি অর্থনীতির প্রায় পাঁচ শতাংশ কনট্রাকশান হবে। জাতিসংঘের হিসেবে সেটা হবে প্রায় নয় ট্রিলিয়ন ডলারের মতো। এগুলো সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যে চাপটা তৈরি করবে সেরকম চাপ আমরা গত ত্রিশের দশকের পর আর দেখি নি। 

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের রেমিটেন্স কমে যাবে

বাংলাদেশের কনটেক্সেটে বা বাংলাদেশের কনটেক্সটের বাইরেও যদি আপনারা তাকান তখন দেখবেন রেমিটেন্স কমবে। বিশ্বে হত দরিদ্র্যের সংখ্যা বাড়বে। যারা দৈনিক দুই ডলারের কম আয় করেন তাদের মধ্যে নতুন করে প্রায় সাড়ে তিন কোটির মতো মানুষ যুক্ত হবে। ফলে যেটি দাঁড়াচ্ছে তাতে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এটা মোকাবেলা করার প্রস্তুতি দরকার। এটাকে কোনোভাবেই পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না। তবে আমি মনে করি এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং অনিবার্যভাবেই ধরে নিতে হবে যে করোনার প্রভাবে মন্দার মধ্যে এরইমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি প্রবেশ করেছে।

রেডিও তেহরান: জ্বি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, আপনি বললেন বিশ্ব এরইমধ্যে অর্থনৈমিক মন্দার মধ্যে পড়ে গেছে এবং প্রস্তুতি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে  আর্থিক মন্দা মোকাবেলার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কি ধরনের প্রস্তুতি আপনি দেখছেন?

আলী রীয়াজ: দেখুন, আসলে করোনার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে এ বিষয়ে ওই অর্থে বিশ্বে প্রস্তুতি ছিল না। সাধারণ যেকোনো অর্থনৈতিক মন্দা খানিকটা ধীর গতিতে শুরু হয়। আগে থেকে বোঝা যায় যে এটা আসছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে এটি হয়েছে হঠাৎ করে এবং ভেঙে পড়ার লক্ষণগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

যেমন আগে যেসব অর্থনৈতিক মন্দা হয়েছে বিশ্বে সেক্ষেত্রে ধরুন এশিয়াতে একটা অর্থনৈতিক সংকট হয়েছে, ই্‌উরোপ তখন প্রস্তুতির সময় পেয়েছে। আবার ঠিক উল্টোটায় ইউরোপে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে তখন এশিয়া সতর্ক হয়েছে। এক্ষেত্রেও জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় তিন মাসেরও বেশি সময় সতর্ক হওয়ার বা প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ ছিল কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে তার মাত্রা কি হবে সেটা অনুমান করা অসম্ভব ছিল। 

আইএমএফ

সত্যিকথা বলতে কি, ধরুন এ ব্যাপারে আপনাকে কিছু তথ্য এবং পরিসংখ্যান দিলাম সেগুলো কিন্তু আজ পর্যন্ত। কারণ হচ্ছে আমরা এখন পর্যন্ত এর মাত্রাটা বুঝতে পারছি না। একারণে আসলে প্রস্তুতি ছিল না। তবে সবাই খুবই দ্রুত রিঅ্যাক্ট করেছে। উদাহরণ হিসেবে জাপান ও ভারতের কথা বলা যায়। তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছ। এর বাইরে বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছে। আইএমএফ বলছে প্রায় একশ বিলিয়ন ডলারের মতো ঋণ দেবে। বিশ্ব ব্যাংক বলছে প্রায় একশ পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারের মতো ঋণ দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় পাঁচশ পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলারের মতো ঋণের অর্থ নির্ধারণ করেছে। এগুলোর অর্থ হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকটে পড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যাতে এসব ঋণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। প্রতিটি দেশ কিভাবে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে পারবে তার জন্য নিজেদের মধ্যে একটা রূপরেখা তৈরি করেছে। 

তবে, একটা বিষয় খুবই সাধারণ সেটি বাংলাদেশ কিংবা ইউরোপের ক্ষেত্রে। বিষয়টি হচ্ছে, দরিদ্র ও নিম্নবিত্তমানুষ সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে পড়েছে। তাদের এখন দিন এনে দিন খাওয়ার মতো অবস্থা নেই। ফলে এখন প্রথম কাজটি হচ্ছে এই মানুষগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছানো। 

যদি আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কথা ধরেন, সেখানে অকল্পনীয় হারে বেকারত্ব তৈরি হয়েছে। কিংবা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেখানকার অর্থনীতির চাকা সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়ার কারণে নতুন করে দারিদ্রের পরিমাণ যেভাবে বাড়ছে তার জন্য কোনো প্রস্তুতি ছিল না সেখানে। 

ফলে এখনকার উদ্যোগের মধ্যে প্রথমে করণীয় হচ্ছে, অবিলম্বে দরিদ্র্, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের রক্ষা করা। তাঁদেরকে খাবার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা। এরপর অর্থনৈতিক অন্য চাকাগুলোকে সাপোর্ট দিয়ে সচল করার চেষ্টা করা। এভাবেই অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর চেষ্টা হচ্ছে। যদিও তারমধ্যে ক্রটি আছে, কাজ হচ্ছে কি হচ্ছে না সেসব সমালোচনা আছে। তবে এগুলোই হচ্ছে পদক্ষেপ।

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক আলী রিয়াজ, আপনার আলোচনায় মন্দা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রস্তুতি এবং করণীয় সম্পর্কে বলছিলেন। বাংলাদেশ যেহেতু আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাইরের কোনো দেশ নয়। সে কারণে বাংলাদেশেও আর্থিক মন্দা দেখা দিতে পারে এমনটি আপনার আলোচনায় তেমনটি ফুটে উঠেছে। সম্ভাব্য মন্দা মোকাবেলার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাত থেকে এখনই কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

করোনার প্রভাবে ্ বাংলাদেশের জিডিপি কমে যাবে

আলী রিয়াজ: এটা নিশ্চিত যে, করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে খুব একটা বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে। বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি গ্রোথ) কমবে। জিডিপি'র ওপর অনেক বেশি নির্ভর করা হয়েছে, আশা করা হয়েছে বা কথা বলা হয়েছে সেটা কমে দুই বা তিন শতাংশে এসে দাঁড়াবে। দারিদ্র বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ একটা সাপ্লাই চেইনের মধ্যে আছে। সারা পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ সাপ্লাই চেইনের মধ্যে আছে। এই সাপ্লাই চেন কিভাবে রেস্টর বা পুনঃস্থাপন করা হবে? এই সাপ্লাই চেইন রেস্টর করতে গিয়ে জনস্বাস্থ্যকে বিপন্ন করা যাবে না। জনস্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে যদি সাপ্লাই রেস্টর করা হয় তাহলে বলা যায় এরমাধ্যমে কোনোরকম সাফল্য আশা করা যায় না।

করোনার বিশ্বজুড়ে প্রভাব

মানুষ বেঁচে না থাকলে অর্থনীতি টিকবে না। তাহলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে করণীয় কী? করণীয় হচ্ছে- তাৎক্ষণিকভাবে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যেমন ধরুন সেখানে ক্যাশ ট্রান্সফারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং কাজটি শুরু হয়েছে। এ বিষয়টির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সবাই যেন টাকাটা পায়। কারণ আমরা এর আগে দেখেছি যে, খাদ্য ত্রাণের ক্ষেত্রে বড় রকমের ব্যত্যয় ঘটেছে। এরপর করণীয় হচ্ছে –সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করতে হবে। চুরি বন্ধ ও অপচয় বন্ধ করতে হবে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে দীর্ঘ মেয়াদে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেটি করতে হলে কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে সেটা এখনই ভাবতে হবে। 

তাছাড়া সামনে বাংলাদেশের যে বাজেট আসছে সেখানে স্বাস্থ্য খাতের ওপর জোর দিতে হবে। সামগ্রিকভাবে সেখানে স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা খুবই খারাপ। আমি স্বাস্থ্য কাঠামোর কথা বলতে চাইছি। আমি চিকিৎসকদের দোষী করছি না। আর এসব কিছুর পেছনে দরকার হচ্ছে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আমি এখানে একটা বিষয়ের ওপর জোর দিতে চাই। সেটি হচ্ছে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। তারসঙ্গে যোগ করতে হবে অগ্রাধিকার। 

জনস্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং সমাজের সবচেয়ে কম সুবিধাভোগী মানুষের সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক আলী রিয়াজ, করোনাভাইরাসের এই মহামারির ভেতরেও মার্কিন সরকার ইরানসহ বিভিন্ন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছে এবং চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার হুমকি দিয়েছে। যেখানে এই সংকট মুহূর্তে পারস্পারিক সহযোগিতা জোরদার করার দরকার ছিল সেখানে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া বা হুমকি দেয়া কতটা সংগত বলে আপনি মনে করেন?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আলী রিয়াজ: আমি এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সাথে একমত নই। বিষয়টি আমি আগেও একাধিকবার বলেছি আবারও স্পষ্ট করে বলছি- যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে এবং যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে সেগুলোতে বড়রকমের ক্রুটি আছে। এখন এই যে ইরান বা চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া বা হুমকি দেয়ার বিষয়টির অন্যকিছু দিকও বিবেচনা করতে হবে। তবে এই মুহূর্তে যেসব নিষেধাজ্ঞা আছে আমি সেগুলো বাড়ানোর পক্ষে না বা নতুন করে দেয়ার পক্ষেও না।

চীনের ব্যাপারে যে প্রশ্ন উঠেছে সেটা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হবে না। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ব্যবস্থা নিলেও হবে না। চীনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ প্রশ্ন এড়ানো যাবে না। কিন্তু মি. ট্রাম্প তার সব ব্যর্থতা ঢাকার জন্য চীনের ওপর সবকিছুর দায়-দায়িত্ব চাপানোর চেষ্টা করছে। মি. ট্রাম্প নিজেও একসময় চীনের প্রশংসা করেছেন, তাদের স্বচ্ছতারও প্রশংসা করেছে। এখন তিনি বলছেন তারা স্বচ্ছ ছিল না। আসলেও স্বচ্ছ ছিল না চীন। এটা করোনাভাইরাস মোকাবেলার পর বৈশ্বিকভাবে চীনের সাথে বোঝাপড়া করতে হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন যে ধরনের রেটরিক বা যে ধরনের কথাবার্তা বলছেন সেগুলো আসলে তার নির্বাচনে বিজয়ের চেষ্টামাত্র। তার সমর্থকদের তৈরি করার চেষ্টা। এসবের ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া আছে আর তা খুবই বিপজ্জনক।

ইরান প্রসঙ্গে বলব, যেসব কারণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার অনেকগুলো নিয়ে প্রশ্ন আছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে নেই। কিন্তু এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হচ্ছে জনস্বার্থ এবং জনস্বাস্থ্যকে বিবেচনায় রেখে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা যাতে মানুষকে বাঁচানো যায়। অথচ সেই জায়গাটায় এসে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ খুবই আপত্তিকর। আর এটি শুধু যে ইরানের ক্ষেত্রে করছে তা নয় অন্যদের ক্ষেত্রেও করছে। এটি খুবই আপত্তিকর। এটি খুব বিপজ্জনক।

রেডিও তেহরান: জ্বি অধ্যাপক আলী রিয়াজ, সবশেষে আপনার কাছে জানতে চাইব- যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি কী?

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে

আলী রীয়াজ: আমেরিকার করোনা পরিস্থিতির এখন খানিকটা উন্নতি হচ্ছে। দুসপ্তাহ আগে যতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল তার চেয়ে বর্তমানে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নতিটা হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। তারসঙ্গে অনেক অঙ্গরাজ্যে লকডাউন তুলে নিয়ে খুলে দেয়া হচ্ছে। এর কিছু কারণ রাজনৈতিক, কিছু কারণ অর্থনৈতিক তবে লকডাউন তুলে নেয়ার প্রধান কারণ রাজনৈতিক বলে আমি মনে করি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অ্যান্থনি ফাউসি

আর এখনই লকডাউন খুলে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হোয়াউট হাউজের করোনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য ডক্টর অ্যান্থনি ফাউসি যেকথা বলেছেন সে প্রসঙ্গে বলব, তার বক্তব্যের গুরুত্ব আছে। কারণ লকডাউন তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করা হলে আরেক দফায় করোনাভাইরাসের যে ধাক্কাটা পড়বে সেটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। সেটা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে এই বিবেচনা অনেকে করছেন না। এখন এসব নিয়ে সমালোচনা আছে, রাজনীতি আছে। এটা নির্বাচনের বছর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গৃহীত অর্থনীতি সচল আছে- এটা দেখিয়ে নির্বাচনে যেতে চান। আর সেজন্য তিনি বিপদও তৈরি করছেন। তবে সবশেষে বলব যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত ধীরগতিতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

রেডিও তেহরান: অধ্যাপক আলী রিয়াজ আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আলী রীয়াজ: আপনাকেও ধন্যবাদ।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৬

ট্যাগ

মন্তব্য