আগস্ট ০১, ২০২০ ১৭:২৫ Asia/Dhaka
  • প্রখ্যাত ইরানি লেখক তাকিউদ্দিন আওহাদির অবদান

গত পর্বের ধারাবাহিকতায় আজও আমরা হিজরি দশম-একাদশ শতকের তথা খ্রিস্টীয় ষোড়শ-সপ্তদশ শতকের প্রখ্যাত ইরানি কবি ও লেখক তাকিউদ্দিন আওহাদি বালিয়ানির জীবন ও অবদান সম্পর্কে আলোচনা করব।

গত পর্বের আলোচনায় আমরা হিজরি দশম-একাদশ শতকের তথা খ্রিস্টীয় ষোড়শ-সপ্তদশ শতকের প্রখ্যাত ইরানি কবি ও লেখক তাকিউদ্দিন আওহাদি বালিয়ানির কয়েকটি বই সম্পর্কে আলোচনা করেছি। তার বইগুলোর মধ্যে 'আরাফাতুল আশেকিন ওয়া ওরাসাতুল আরেফিন',  কা'বেইয়ে এরফান বা এরফানের কাবা, ফেরদৌসে খিয়াল বা কল্পনার স্বর্গ, সুরমেইয়ে সোলায়মানি বা সোলায়মানি সুরমা এবং কুল্লিয়াতে আশয়ার বা কবিতা-সমগ্র নামক তার কাব্য-গ্রন্থ  উল্লেখযোগ্য। এসব বইয়ের কোনো কোনোটির হাতে-লেখা কপি বিশ্বের নানা জাদুঘরে শোভা পাচ্ছে। আজ আমরা তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই 'আরাফাতুল আশেকিন ওয়া ওরাসাতুল আরেফিন' সম্পর্কে আরও কিছু কথা বলব।

'আরাফাতুল আশেকিন ওয়া ওরাসাতুল আরেফিন' শীর্ষক বইটি আওহাদির সবচেয়ে বিখ্যাত বই। কবিদের জীবনী সংক্রান্ত এ বইটি এ পর্যন্ত ইরানে সম্পাদনাসহ দুই বার প্রকাশ করা হয়েছে। এ বইয়ের হাতে-লেখা একটি কপি ব্রিটেনের রাজকীয় জাদুঘরে শোভা পাচ্ছে।  ফার্সি ভাষার কবিদের জীবনী সংক্রান্ত  আট খণ্ডের এ বই ফার্সি ভাষায় জীবনী সংক্রান্ত বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ। হিজরি ১০২২ থেকে ১০২৪ সনে এ বইটি লিখেছিলেন আওহাদি। 

আরাফাতুল আশেকিন বইটিতে রয়েছে তিন হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফার্সি কবির জীবনী এবং তাদের কিছু কবিতা বা নির্বাচিত কবিতার নমুনা। ফার্সি সাহিত্যের প্রাথমিক যুগ থেকে আওহাদির সময়কার কবিদের পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে এ বইয়ে।

ইরানি কবি ও লেখক তাকিউদ্দিন আওহাদির আরাফাতুল আশেকিন শীর্ষক বইয়ে ফার্সি বর্ণমালার ধারাক্রম অনুযায়ী ২৮টি অধ্যায় রয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক অধ্যায়ে রয়েছে এমন সব ফার্সি কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী বা পরিচিতি যাদের নামের আদ্যাক্ষর শুরু হয়েছে ফার্সি বর্ণমালার ২৮টি বর্ণের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী। প্রত্যেক বর্ণের রয়েছে তিন উপ-অধ্যায় যাতে পর্যায়ক্রমে ফার্সি বর্ণের ওই আদ্যাক্ষরের আওতাধীন কবিদের জীবনীসংক্রান্ত আলোচনাকে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর কবি শীর্ষক শিরোনামের আওতায় ফেলে সাজানো হয়েছে। বইয়ের শুরুতে পুরো বইয়ের আলোচনা সম্পর্কে একটি বড় ভূমিকাও রয়েছে। 

'আরাফাতুল আশেকিন ওয়া ওরাসাতুল আরেফিন' শীর্ষক বইটি লেখার আগে আওহাদি ফেরদৌসে খিয়ালে আওহাদি বা আওহাদির কল্পনার স্বর্গ নামের একটি বই লিখেছিলেন। এটা ছিল ফার্সি ভাষার বিখ্যাত কবিদের নির্বাচিত কিছু কবিতার এক চমৎকার সংকলন। বইটিতে তিনি কবিদের পরিচিতি বা জীবনী সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি। হিজরি ১০২২ সনে ভারতের আগ্রায় থাকার সময় সেখানকার একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি আওহাদিকে বলেন বইটিকে উন্নত করতে কবিদের জীবনীও যুক্ত করলে ভাল হয়। তার এ পরামর্শের ভিত্তিতেই আওহাদি 'আরাফাতুল আশেকিন ওয়া ওরাসাতুল আরেফিন' শীর্ষক বইটি লেখেন।

আওহাদি 'আরাফাতুল আশেকিন ওয়া ওরাসাতুল আরেফিন' শীর্ষক বইটি কারো নামে উৎসর্গ করেননি যা ছিল প্রচলিত প্রথার ব্যতিক্রম। তিনি এ ব্যাপারে কারণ দর্শান যে যেহেতু তার উদ্দেশ্য ছিল কেবল কবিদের নাম ও তাদের কবিতাকেই চির-স্মরণীয় করে রাখা তাই তিনি এ বইটি কারো নামে উৎসর্গ করেননি। বইটি লিখতে আওহাদি সময় নিয়েছেন দুই বছর। কিন্তু বাস্তবতা হল ১০২৪ হিজরিতেই এ বইটির মূল কাঠামো রচনা শেষ হয়েছিল। এরপরে যতই সময় গেছে ততই কবিদের জীবনী সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন তথ্য ও বক্তব্য যুক্ত হয়েছে। কবিদের জীবনী সংক্রান্ত আওহাদির এ বইয়ে হিজরি ১০৪১ ও ১০৪২ সনের তথ্যও দেখা যায়। আওহাদি যেসব নতুন তথ্য ও বক্তব্য যুক্ত করতেন এ বইয়ে সেসবের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারিখ ও স্থানের নামও যুক্ত করতেন। যেমন ভারতের কোন‌্ কোন্ শহরে তিনি এসব নতুন তথ্য ও মন্তব্য পেয়েছেন তা তিনি সাধারণত উল্লেখ করতে ভুলতেন না। 

আওহাদির 'আরাফাতুল আশেকিন ওয়া ওরাসাতুল আরেফিন' শীর্ষক বইটিতে প্রথম শ্রেণীর ফার্সি কবিদের জীবনী বা পরিচিতি তুলে ধরা শুরু হয়েছে কবি রুদাকির জীবনী বর্ণনার মধ্য দিয়ে। কারণ তিনিই হলেন ফার্সিভাষী প্রথম বিখ্যাত কবি। সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি ফার্সিভাষী কবির জীবনী স্থান পেয়েছে ৮ খণ্ডের এই অনন্য বইয়ে। বইটির তথ্য-সূত্র হিসেব যেসব বই আওহাদি ব্যবহার করেছেন সেসবের মধ্যে অউফির লুবাবুল আলবাব, আমির আলীশির নাওয়ায়ির মাজালিসুন্‌নাফিস, দৌলত শাহ সমরকন্দির তাজকিরাতুশ শোয়ারা, জামির নাফাহাতুল উন্‌স, তারিখে হুমাউনি ও নিযামির চাহার মাকালেহ উল্লেখযোগ্য। আওহাদি তার বইয়ে বারবার অউফি’র নাম নিয়েছেন। সামানিয়ানদের সম্পর্কে তিনি তারিখে হুমাউনি শীর্ষক ইতিহাস বই থেকে বর্ণনার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। শামসুদ্দিন জুইয়িনি সম্পর্কে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তারিখে আলফি শীর্ষক বই থেকে। তবে পরবর্তীকালের কবি ও সমসাময়িক যুগের কবিদের সম্পর্কে আওহাদি নিজের ব্যক্তিগত তথ্য-ভাণ্ডার থেকেই বেশি তথ্য দিয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই লিখিত তথ্য-সূত্রের কথা উল্লেখ করেননি।

আওহাদি সমসাময়িক যুগের অনেক ফার্সি কবির সঙ্গে নিজেই সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের উন্নত কবিতাগুলো বাছাই করেছেন। তিনি এইসব কবির কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা-সমালোচনার আসরে যোগ দিতেন। মুহাম্মাদ আইয়ানির পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে আওহাদি লিখেছেন, তার গদ্য ও  কবিতার কয়েকটি পুস্তিকা আমার কাছে রয়েছে।#

পার্সটুডে/মু.আমির হুসাইন/ মো: আবু সাঈদ/০১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ

মন্তব্য