আগস্ট ১৫, ২০২০ ১৭:৪৪ Asia/Dhaka

শ্রোতা ভাই ও বোনেরা, আশা করি এ মুহূর্তে যারা রেডিও, ফেসবুক, ওয়েবসাইট কিংবা মোবাইল অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে আমাদের অনুষ্ঠান শুনছেন সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। প্রত্যেক আসরের মতো আজও প্রিয়জন উপস্থাপনায় রয়েছি আমরা তিনজন। আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: আসরের শুরুতেই আমি একটি বাণী শোনাতে চাই। আমিরুল মোমেনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, “ধৈর্য যাকে পরিত্রাণ দিল না, অধৈর্য ও অস্থিরতা তাকে ধ্বংস করে দিল।”

আকতার জাহান: ছোট্ট অথচ মহামূল্যবান একটা বাণী শোনালেন আশরাফ ভাই। আমরা সবাই যেন ধৈর্যশীল হতে পারি- এ কামনা করে নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে। আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় থেকে। আর লিখেছেন সেখানকার বেতারবন্ধু শ্রোতা সংঘের সভাপতি মো. জুয়েল আহম্মেদ মল্লিক।

শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানানোর পর তিনি লিখেছেন, আমি রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের একজন পুরাতন শ্রোতা। কর্মজীবনের ব্যস্ততার কারণে বেশ কয়েক বছর চিঠি লেখা এবং অনুষ্ঠান শোনা থেকে বিরত ছিলাম। বেশ কিছু দিন হলো আবার আপনাদের প্রচারিত অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনছি। আপনাদের প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বসংবাদ, পারস্যের প্রতিভা বিশ্বের গর্ব, স্বাস্থ্যকথা, ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস, ইরানি পণ্য-সামগ্রী, জীবনশৈলী, আলাপন, শিশু-কিশোরদের জন্য অনুষ্ঠান রংধনু এবং শ্রোতাদের পাঠানো চিঠি-পত্রের আসর প্রিয়জন আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।

নাসির মাহমুদ: নিরবতা ভেঙে আবারো অনুষ্ঠানে শোনা শুরু করেছেন জেনে ভালো লাগছে। আশা করি চিঠি লেখাও অব্যাহত রাখবেন।

কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন পাঠিয়েছেন বেশকিছু মেইল। এগুলোর মধ্য থেকে ১১ জুলাই তারিখে আসা মেইলটির কিছু অংশ পড়ে শোনাচ্ছি। তিনি লিখেছেন,

“রেডিও তেহরানের একজন নিয়মিত শ্রোতা হিসেবে আপনাদের সবগুলো অনুষ্ঠানই আমরা খুব উপভোগ করি। তারপরেও কিছু অনুষ্ঠান আমাদের হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। প্রতি শনিবারে প্রচারিত ‘ইরান ভ্রমণ’ তেমনই একটি অনুষ্ঠান।”

আশরাফুর রহমান: ‘ইরান ভ্রমণ’ অনুষ্ঠানে ইয়াজদ শহরের বাজার নিয়ে আলোচনাটির প্রশংসা করে শাহাদত ভাই লিখেছেন- “অনুষ্ঠান শুনে ভাবছি, ইরানের একটি বাজার যদি এমন পরিকল্পিত ও উন্নত হতে পারে, তাহলে পর্যটন এলাকাগুলো না জানি কতটা উন্নত ও সুন্দর! আমার মনে হয়, যথাযথ প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ নিলে ইরান পর্যটন শিল্পে আরো উন্নতি করতে পারবে। আর এ কাজে রেডিও তেহরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”

আকতার জাহান: ইরানের পর্যটন খাত কিন্তু যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। ইউরোপ-আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি পর্যটক ইরান ভ্রমণ করেন। ২০১৮ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুত বর্ধনশীল পর্যটন গন্তব্য হিসেবে ইরানকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন (ইউএনডব্লিউটিও)। এছাড়া, গত ফার্সি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৮০ লাখ বিদেশি পর্যটক ইরান ভ্রমণ করেছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইরান আরও বেশি সংখ্যক পর্যটককে আকৃষ্ট করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ইরানের পর্যটন মন্ত্রণালয়।

নাসির মাহমুদ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মিতালি লিসেনার্স ক্লাব থেকে শিবেন্দু পাল পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। তিনি লিখেছেন- “বর্তমানে নতুন আঙ্গিকে প্রিয়জন অনুষ্ঠান, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ই-কিউএসএল প্রদান ও শ্রোতাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের ফলে শ্রোতাদের কাছে রেডিও তেহরানের আকর্ষণ অনেক বেড়েছে। এর জন্য বাংলা বিভাগের কর্তৃপক্ষ ও বিশেষভাবে আশরাফ ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।”

আশরাফুর রহমান: ভাই শিবেন্দু পাল, আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই। কারণ আপনাদের সহযোগিতার ফলেই প্রিয়জন অনুষ্ঠান মনের মতো করে সাজানো সম্ভব হচ্ছে।

নাসির মাহমুদ: এ শ্রোতাবন্ধুর চিঠি এখনো শেষ হয়নি। তিনি করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে দুটো প্রশ্ন করেছেন। তার একটি প্রশ্ন এরকম- ভারত/বাংলাদেশের জনগণ কোভিড-১৯ এর সময় নিয়মকানুন ঠিকভাবে মানছেন না। ইরানের জনগণ এগুলো কতটা মানছেন?

আকতার জাহান: গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নটির উত্তর দিচ্ছেন রেডিও তেহরানের সিনিয়র সাংবাদিক ড. সোহেল আহম্মেদ ভাই।

আশরাফুর রহমান: শ্রোতাবন্ধু শিবেন্দু পালের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সোহেল ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ শহরের খড়ম পট্টি থেকে শরিফা আক্তার পান্না লিখেছেন এবারের চিঠিটি। তিনি লিখেছেন- ১২ জুলাই কথাবার্তা অনুষ্ঠানে প্রচারিত আব্দুল গাফফার চৌধুরীর নিবন্ধটি নিয়ে বিশ্লেষণ খুব ভালো লেগেছে। ইত্তেফাকের নিবন্ধটি থেকে জানতে পারলাম যে, যথাসময়ে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার বা আইনের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারাটা আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। আর এ কারণেই দেশে সাহেদ, পাপুলের মতো দুর্নীতিবাজদের বিকাশ ঘটেছে। জনাব চৌধুরী হয়ত ঠিকই বলেছেন। দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তি হলে নতুন করে কেউ দুর্নীতি করতে সাহস পেত না। 

নাসির মাহমুদ: বেশ কয়েকজন শ্রোতার চিঠিতো পড়া হলো। এবার নাহয় একজন শ্রোতার সঙ্গে কথা বলা যাক! এখন কি কেউ লাইনে আছেন?

আকতার জাহান: হ্যাঁ, টেলিফোনের অপর প্রান্তে অপেক্ষা করছেন এক বাংলাদেশি শ্রোতা। তার পরিচয়টা তা সরাসরি তার কাছেই শোনা যাক।

আশরাফুর রহমান: সাক্ষাৎকারের পর আবারো চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে মো. সাইফুল ইসলাম পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন- “১৬ জুলাইয়ের ‘রংধনু’ আসরে শুনলাম 'সন্তানের প্রতি এক হরিণের ভালোবাসা'র গল্প। অসাধারণ এ ট্রাজেডি গল্পটি ভীষণ ভালো লেগেছে। হ্নদয়ে নাড়া দেয়ার মতো এমন গল্প আগামীতেও শুনতে চাই। এ আসরে আরো শুনলাম ঢাকা সারেগামা একাডেমির সদস্য পূর্ণতা'র চমৎকার কবিতা পাঠ। খিদে নামক কবিতার পর তাইফা'র কণ্ঠে 'একটা শেয়াল উঠলো ডেকে' বেশ ভালো লেগেছে। সত্যি, তাইফা'র কণ্ঠ ভারী মিষ্টি। অজস্র ধন্যবাদ রেডিও তেহরানকে এবং উপস্থাপকদ্বয়কে সুন্দর এ আসরটি শ্রোতাদের উপহার দেয়ার জন্য।”

আকতার জাহান: আমাদের অনুষ্ঠানের শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়ে যারা মেইল পাঠিয়েছেন তাদের কয়েকজনের নাম-ঠিকানা আমি জানিয়ে দিচ্ছি।

•       বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার খোশবাড়ি থেকে শাওন হোসাইন।

•       কিশোরগঞ্জ থেকে মো. শাহাদত হোসেন।

•       টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের।

•       কুড়িগ্রাম থেকে আবদুল কুদ্দুস মাস্টার।

•       কোসতিয়ানতিন প্রাভোতোরভ ইউক্রেন থেকে

•       ভারতের ছত্তিশগড় থেকে আনন্দ মোহন বাইন

•       পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর থেকে মুহাম্মদ নাজিমউদ্দিন

•       এবং নেপাল থেকে রঞ্জিত ধারনাল

আশরাফুর রহমান:: যারা শর্টওয়েভে অনুষ্ঠান শোনার পর শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

নাসির মাহমুদ: আর বন্ধুরা, দেখতে দেখতে আমাদের সকল আয়োজন শেষ হয়ে গেল। আপনারা ভালো ও সুস্থ থাকুন এ কামনা করে গুটিয়ে নিচ্ছি চিঠিপত্রের আজকের আসর।

আকতার জাহান: কথা হবে আবারো আগামী আসরে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৫

ট্যাগ

মন্তব্য