সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২০ ০৮:৪১ Asia/Dhaka

শ্রোতা ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। প্রত্যেক আসরের মতো আজও অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: আজও আমি একটি বাণী শুনিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে চাই। আহলে বাইতের মহান ইমাম হযরত জাওয়াদ (আ) বলেছেন, 'মানুষ যদি তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে পারে তাহলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। একটি হলো- আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা। দুই. মানুষের সাথে নম্র আচরণ করা এবং তিন. বেশি বেশি দান-সদকা করা।'

আকতার জাহান: আমরা সবাই যেন এই তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারি- এ কামনায় নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে। বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে আসা বেশকিছু মেইল দেখতে পাচ্ছি ইনবক্সে। ১৭ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত মোট ছয়টি মেইল পাঠিয়েছেন শ্রোতাভাই সাইফুল ইসলাম। এসব মেইলে তিনি দর্পন, ইরান ভ্রমণ, আলাপন, 'ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস' এবং ইমাম জাওয়াদ (আ.)-এর শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন।

২০ জুলাই তারিখে পাঠানো মেইলে তিনি একটি প্রশ্ন করেছেন। জানতে চেয়েছেন- রাসুল (সা.)-এর সাহাবী ও আহলে বাইতের সদস্যগণের নামের পরে আমরা সাধারণত ‘রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু’ বলে থাকি। আর ‘আলাইহিস সালাম’ বলা হয় কেবল নবী-রাসূলগণের নামের পর। কিন্তু ইরানে আহলে বাইতের সদস্যগণের নামের পরও ‘আলাইহিস সালাম’ বলা হয়- এর কারণ কি?

নাসির মাহমুদ:  'আলাইহিস সালাম' যে কেবল নবী-রাসূলগণের নামের শেষে ব্যবহার করা হয় তা কিন্তু নয়। যেমন-আমরা হযরত লোকমান, হযরত মারিয়াম এবং ইমাম মাহদির নামের শেষে 'আলাইহিস সালাম' ব্যবহার করি অথচ তারা কেউই নবী-রাসূল নন। শুধু তাই নয়, ফেরেশতাদের নামের সাথেও আমরা 'আলাইহিস সালাম' ব্যবহার করি।

‘রাদিআল্লাহু আনহু’-এর অর্থ হলো, ‘আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোক’। এটা এক প্রকার দোয়া। আবার ‘আলাইহিস সালাম’-এর অর্থ ‘তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক’। এটাও এক ধরনের দোয়া। আহলে বাইতের মহান ব্যক্তিত্বদের ‘শান্তি কামনা করে দোয়া করা যাবে না- এমন কোনো কথা নেই। বরং মহান আল্লাহ কোরআনে বিশ্বনবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি সালাম দিয়েছেন "আলে ইয়াসিনের ওপর সালাম" শব্দের মাধ্যমে।

আশরাফুর রহমান: শুধু তাই নয়- বুখারী, তিরমিজিসহ প্রসিদ্ধ হাদিসগ্রন্থগুলোতেও হযরত আলী, হযরত ফাতিমা, ইমাম হাসান, ইমাম হুসাইনের পর ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইরানে হযরত আলী থেকে শুরু করে ইমাম মাহদী পর্যন্ত বিশ্বনবীর আহলে বাইতের সম্মানিত সদস্যগণের নামের পর ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করা হয়। এতে দোষের কিছু দেখছি না।

আকতার জাহান: নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার আলী সাহারদির শিক্ষার্থী শ্রোতা পরিষদ থেকে সাঈফ আহমেদ উৎস পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “আমার আব্বু এইচ, এম, তারেকের সাথে আমিও রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠান নিয়মিত শুনে থাকি এবং আপনাদের ওয়েবসাইটও ভিজিট করে থাকি। আপনাদের ওয়েবসাইট খুবই তথ্যপূর্ণ ও বহুমুখী জ্ঞানের উৎস। আসল সংবাদ জানতে রেডিও তেহরান শোনা উচিত।”

নাসির মাহমুদ: এরপর এ শ্রোতাবন্ধু লিখেছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা খামেনেয়ী ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা আল-কাজিমীর সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন, কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের কথা ইরান কখনো ভুলবে না এবং নিঃসন্দেহে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত হানবে। ওয়েবসাইটে এই সংবাদটি শুনে আমি যারপরনাই খুশি হয়েছি। এটা আমার মতো প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মনের কথা।”

সবশেষে সাঈফ আহমেদ উৎস একটি প্রশ্ন করেছেন। জানতে চেয়েছেন পৃথিবীর কোন কোন দেশে ইরানের দূতাবাস আছে?

আশরাফুর রহমান: পৃথিবীর দেড়শতাধিক দেশে ইরানের দূতাবাস আছে। এগুলোর মধ্যে ৪০টির মতো দূতাবাস অনাবাসিক। এছাড়া, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ইরানের স্থায়ী মিশন আছে। সবগুলো দূতাবাস বা মিশনের নাম প্রিয়জনের সংক্ষিপ্ত আসরে বলা সম্ভব নয় বলে আমরা দুঃখিত।

আকতার জাহান: এবারে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে ভিআরএল ক্লাব সভাপতি এস এম জাকির হোসেনের পাঠানো একটি মেইলের দিকে নজর দিচ্ছি। তিনি লিখেছেন, আমি রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানের একজন নিয়মিত শ্রোতা। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতসহ সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান কুরআনের আলো, রংধনু, প্রিয়জন, আমি নিয়মিত শুনে থাকি। আমি ৯০ দশকের শ্রোতা। তখন নিয়মিত চিঠি লিখতাম। নিউজলেটার পেতাম নিয়মিত। এখন কি নিউজলেটার আমি নিয়মিত পেতে পারি না?

নাসির মাহমুদ: এখন নিউজলেটার নিয়মিত প্রকাশ হয় না। চলতি বছর করোনা মহামারির কারণে কোনো সংখ্যাই ছাপা হয়নি কেবল একটি সংখ্যার পিডিএফ ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে। আপনি পেয়ে না থাকলে জানাবেন- আমরা পাঠিয়ে দেবো।

আসরের পরের মেইলটি পাঠিয়েছেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জগন্নাথদীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট রেডিও লিসনার্স ক্লাব থেকে কামাল হোসাইন। তিনি রেডিও তেহরানের সকল কর্মকর্তা-কর্মী এবং শ্রোতাবন্ধুদের পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এরপর লিখেছেন, “রেডিও তেহরান মাসিক কুইজ প্রতিযোগিতার পর ‘মাসিক শ্রেষ্ঠ  শ্রোতা’ নির্বাচন করার ঘোষণা করেছে। এজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেইসাথে রেডিও তেহরানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।”

আশরাফুর রহমান: গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার ট্যাংকির পাড় থেকে মাওলানা মো. বাকী বিল্লাহ প্রধান পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “২০০০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের একজন নিয়মিত শ্রোতা ছিলাম। পরবর্তীতে আমার কর্মস্থলে চলে আসায় এবং রেডিও না থাকায় আপনাদের কোনো অনুষ্ঠান শুনতে পারি নাই। বর্তমানে গাজীপুর জেলার রাজবাড়ীতে আমার একটি কম্পিউটার দোকান আছে। এটাই আমার কর্মস্থল। আমি পার্সটুডে-এর সকল নিউজ কম্পিউটারের মাধ্যমে দেখে থাকি। কিন্তু রেডিও তেহরানের বাংলা অনুষ্ঠানগুলি আগের মতো শোনা হয় না।”

আকতার জাহান: রেডিও তেহরানকে আপনি এখনও মনে রেখেছেন এবং নতুন করে আমাদের নিউজগুলো পড়ছেন জেনে ভালো লাগল। আর হ্যাঁ, আপনি ইচ্ছে করলে পার্সটুডে ওয়েবসাইট থেকেই কিন্তু আমাদের অনুষ্ঠান শুনতে পারেন।

আসরের পরের চিঠিটি এসেছে গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইড় মধুমতি বেতার শ্রোতা সংঘ থেকে। আর লিখেছেন ফয়সাল আহমেদ সিপন। তিনি লিখেছেন, “শ্রোতাদের নিকট অনুরোধ- আপনার পরিচিত নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে ‘করোনা আক্রান্ত’ রোগীর প্রতি সহমর্মী ও আন্তরিক হোন।”

নাসির মাহমুদ:  খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সিপন ভাই। আমরা সবাই করোনা রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ করব- এ কামনা করে নজর দিচ্ছি আসরের শেষ চিঠিটির দিকে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছোট্ট এ চিঠিটি পাঠিয়েছেন সোমনাম দাঁ। লিখেছেন, “নিয়মিত শুনলেও লেখা হয় না। তবে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান আমার খুব প্রিয়। রেডিও এমন একটা মাধ্যম যার বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন। ধন্যবাদ নতুন বিভাগ শুরু করার জন্য।”

আশরাফুর রহমান: পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে কয়েকজন শ্রোতা ইমেইল পাঠিয়েছেন। আমি তাদের নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি।

•       ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভুম থেকে দেশমাতৃকা প্রসাদ রায়

•       অসমের জোরহাট থেকে পৃথ্বিরাজ পুরকায়স্থ

•       এইচ এম তারেক নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদি থেকে

•       মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার ইমামপুর থেকে মারিয়া খানম মৌরি ও ফারিয়া খানম মুমু

আকতার জাহান:

•       বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার পীরব গ্রাম থেকে মোঃ মাসুদুর রহমান

•       বগুড়ার সারাক ইন্টারন্যাশনাল লিসেনার্স ক্লাব থেকে এম.আব্দুর রাজ্জাক

•       মাগুরা থেকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ শাহিনুর রহমান।

নাসির মাহমুদ: তো বন্ধুরা, যারা ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানিয়ে চিঠি লিখেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের আসর শেষ করতে যাচ্ছি। তবে এ পর্যায়ে আপনাদের জন্য রয়েছে একটি গান। এটি গেয়েছেন শিল্পী শরীফুল ইসলাম।

আশরাফুর রহমান: তো বন্ধুরা, আপনারা গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য