সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ ১৫:২৭ Asia/Dhaka

প্রিয় শ্রোতা ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছি যথারীতি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: প্রত্যেক আসরের মতো আজও আমি একটি হাদিস শুনিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে চাই। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘পরনিন্দা ও একের কথা অপরের কাছে লাগানো থেকে দূরে থাক। কারণ, পরনিন্দা রোযাকে বিনষ্ট করে আর কথা লাগানো কবর আযাবের কারণ হয়।’

আকতার জাহান: আমরা সবাই পরনিন্দা থেকে দূরে থাকব- এ কামনা করে চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি। বরিশালের পূর্ব ইছাকাঠী থেকে জিল্লুর রহমান জিল্লু পাঠিয়েছেন আসরের প্রথম চিঠিটি। তিনি লিখেছেন, আমি বাংলাদেশ বেতারের অনেক পুরোনো শ্রোতা তবে রেডিও তেহরান নিয়মিত শোনা হয়ে উঠেনি। বর্তমানে আমি নিয়মিত শোনার চেষ্টা করছি। আজ প্রথমবারের মতো রেডিও তেহরানে লিখতে বসেছি। রেডিও তেহরানের নির্ভরযোগ্য সংবাদ, প্রতিটি অনুষ্ঠানের সুন্দর, সাবলীল উপস্থাপনা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রিয়জনের শুরুতে সুন্দর একটি হাদিস বলা হয় যা আমার খুবই ভালোলাগে আর এজন্য রেডিও তেহরান কর্তৃপক্ষকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

নাসির মাহমুদ: রেডিও তেহরান শুনতে শুরু করার পরই চিঠি লিখে নিজের অনুভূতি জানানোয় আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আসরের পরের মেইলটি এসেছে বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে। আর পাঠিয়েছেন আমাদের নিয়মিত শ্রোতা ও পত্রলেখক সাইফুল ইসলাম।  

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩০ জুলাই তারিখে রংধনু আসরে প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠানটির প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন- “ভিন্ন স্বাদের আর নতুন আঙ্গিকের এ আসরে শুনলাম গান, কবিতা, কোরবানির ইতিহাস ও শিক্ষা। বিশেষ করে ঈদের দুটি গান খুব ভালো লেগেছে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাদের এ বিশেষ পরিবেশনার জন্য।” এর আগে পবিত্র হজ উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাণীর প্রশংসা করেছেন এ শ্রোতাবন্ধু।       

আশরাফুর রহমান: কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহাদত হোসেন পাঠিয়েছেন আসরের এবারের মেইলটি। প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানানোর পর তিনি গত ৩ আগস্ট প্রচারিত প্রিয়জন অনুষ্ঠান সম্পর্কে লিখেছেন, ২৭ এবং ৩১ জুলাই প্রিয়জন প্রচারিত না হওয়ায় শ্রোতারা অধীর আগ্রহে আজকের প্রিয়জনের জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন। তাই বিশ্বসংবাদ ও দৃষ্টিপাত শেষ হয়ে যখন প্রিয়জন শুরু হলো, মনটা শান্তিতে ভরে গেল। অনুষ্ঠানটি ভালোও লেগেছে খুব।

আকতার জাহান: এরপর শাহাদত ভাই লিখেছেন, “অনুষ্ঠানের শুরুতেই আশরাফুর রহমান একটি হাদিস পাঠ করে শোনান। অনুষ্ঠানের এ কৌশলটি আমাদের খুব ভালো লাগে। প্রিয়জন শুনতে শুনতে অনেক হাদিস আমাদের শোনা হয়েছে। এতে সওয়াবও পেলাম, আর জীবনকে সুন্দর করার শিক্ষাও পেলাম। সেজন্যে রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানাই।”

নাসির মাহমুদ: বাংলাদেশের পর এবার ভারতের নয়া দিল্লি থেকে আসা একটি মেইলের দিকে নজর দিচ্ছি। এটি পাঠিয়েছেন জয়ন্ত চক্রবর্তী। বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা চিঠির কিছু অংশ আমি পড়ে শোনাচ্ছি। তিনি লিখেছেন- “আপনাদের নতুন ধারাবাহিক অনুষ্ঠান ‘পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা’ এমন এক সময়োপযোগী, গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দদায়ক যখন আমাদের জীবনযাত্রায় পশ্চিমা সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মূল্যবোধগুলো গ্রহণ করার ক্রেজ রয়েছে। শ্রোতা হিসেবে আমরা খুশি যে, রেডিও তেহরান পশ্চিমাদের ক্ষতিকারক এবং অনুপযুক্ত জীবনধারা অন্ধভাবে অনুকরণ করার প্রবণতা এড়াতে আমাদের শিক্ষার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেছে। আমি আশা করি এই সিরিজের অন্যান্য পর্বগুলোও সমান আকর্ষণীয় হবে।”

আশরাফুর রহমান: বেশকিছু চিঠিতে আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে শ্রোতাদের মতামত জানলাম। এবার নাহয় এক শ্রোতার স্বকণ্ঠে মতামত শুনি!

আকতার জাহান: হ্যাঁ, তাই হোক। টেলিফোনের অপর প্রান্তে যিনি অপেক্ষা করছেন প্রথমেই তার পরিচয় জানা যাক।  

আশরাফুর রহমান: তো, প্রিয়জনের আসরে অংশ নেওয়ার জন্য জিল্লুর রহমান ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আকতার জাহান: নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদির ‘উৎস ডিএক্স কর্ণার’ থেকে এইচ, এম, তারেক লিখেছেন এবারের চিঠিটি। তিনি লিখেছেন, “রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ সমসাময়িক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে যেভাবে তার গভীরে প্রবেশ কোরে তার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে- তা সত্যিই অভাবনীয়। একমাত্র রেডিও তেহরানের পক্ষেই তা সম্ভব।

‘করোনা মহামারি- বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের দম্ভ’ শীর্ষক দুই পর্বের পরিবেশনার জন্য ধন্যবাদ। পরিবেশনা শুনে অনেক কিছু জানলাম- যা আগে জানা ছিল না।”

নাসির মাহমুদ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার চুপী থেকে হাফিজুর রহমান পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। তিনি ইন্টারন্যাশনাল মিতালি লিসনার্স ক্লাবের সভাপতি। হাফিজুর রহমান ভাই গত ৯ আগস্ট রেডিও তেহরান শোনার পর রিসেপশন রিপোর্ট এবং অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানিয়েছেন। লিখেছেন,

আমার অন্যতম প্রিয় অনুষ্ঠান ‘পারস্যের প্রতিভা, বিশ্বের গর্ব’। ইরানি মনীষীরা যেভাবে ইরানি, ইসলামী এবং বিশ্ব- সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছেন তার চমৎকার আলেখ্য ও আলোক-সম্পাত দেখা যায় ধারাবাহিক এ আলোচনা অনুষ্ঠানে। আজকের আলোচনা শুনে আরো সমৃদ্ধ হলাম। আন্তরিক ধন্যবাদ রেডিও তেহরানকে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও তথ্যসমৃদ্ধ অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে আমাদের সমৃদ্ধ করার জন্য।

এরপর এ শ্রোতাবন্ধু কথাবার্তা ও প্রাচ্যবিদদের চোখে মহানবী (সা.)-শীর্ষক আলোচনার প্রশংসা করেছেন।

আশরাফুর রহমান: আজকের আসরের শেষ চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে। আর লিখেছেন আমাদের নিয়মিত পত্রলেখিকা শরিফা আক্তার পান্না। ১০ আগস্ট অনুষ্ঠান শোনার পর এ শ্রোতাবোন লিখেছেন- “আজ প্রিয়জনের পরিবর্তে ‘ইমাম মুসা কাজেম (আ.)’র জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষে বিশেষ একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে। অনুষ্ঠান থেকে জানতে পারি যে, ইমাম মুসা কাজেম (আ.) ছিলেন ইসলামের প্রকৃত কাণ্ডারী। তিনি ১১৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং কুড়ি বছর বয়সে ইমামতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অসম্ভব ধৈর্যবান ছিলেন, ছিলেন নির্ভীক ও ন্যায়পরায়ণ। পয়ত্রিশ বছরের ইমামতের জীবনে পুরোটাই কেটেছে কারাগারে বা নির্বাসনে। কারাগারে থেকেও তিনি নিরলসভাবে ইসলামের সেবা করে যান। উল্লেখ্য যে, আব্বাসীয় শাসকেরা নবী বংশের বেশ কয়েকজনকে শহীদ করেন। আব্বাসীয় শাসক হারুনুর রশিদ, ইমাম মুসা কাজেমকে বিষ প্রয়োগে শহীদ করেন। এসব শুনে সত্যিই খারাপ লাগছে। আব্বাসীয় শাসকেরা যে কতটা ভয়ংকর ছিল- এ অনুষ্ঠান থেকে তা উপলব্ধি করতে পারলাম।”

আকতার জাহান: আমাদের অনুষ্ঠানের শ্রবণমান জানিয়ে রিপোর্ট জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শ্রোতা। আমি তাদের পরিচয় তুলে ধরছি।

  •  ভারতের ছত্তিশগড় থেকে আনন্দমোহন বাইন
  •  পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে মুহাম্মদ নাজিমউদ্দিন
  •  বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ থেকে মো. শাহাদত হোসেন
  •  টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের
  •  সিরাজগঞ্জ থেকে ফিরোজ আলম
  •  এবং কুড়িগ্রাম থেকে আবদুল কুদ্দুস মাস্টার।

নাসির মাহমুদ: তো যারা মতামত ও শ্রবণমান রিপোর্ট জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে গুটিয়ে নিচ্ছি চিঠিপত্রের আজকের আসর।

আশরাফুর রহমান: কথা হবে আবারো পরবর্তী আসরে। সে পর্যন্ত ভালো, সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন।#

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য