সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ ১৬:১৩ Asia/Dhaka

শ্রোতা ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন। প্রত্যেক আসরের মতো আজও অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় রয়েছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।

আশরাফুর রহমান: আজও আমি একটি বাণী শুনিয়ে আসর শুরু করতে চাই। আমিরুল মোমেনীন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি বেশি কথা বলে সে বেশি ভুল করে। আর যে বেশি ভুল করে তার লজ্জা চলে যায়। আর যার লজ্জা কমে যায় তার সংযমশীলতাও কমে যায়। আর যার সংযমশীলতা কমে যায় তার অন্তর মরে যায়।”

আকতার জাহান: খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণী শুনলাম। আমরা সবাই অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকব- এ কামনায় নজর দিচ্ছি চিঠিপত্রের দিকে। আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের ইন্টারন্যাশনাল রেডিও ফ্যান ক্লাবস থেকে। আর পাঠিয়েছেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আবু তাহের।

নাসির মাহমুদ: আবু তাহের ভাইয়ের কাছ থেকে আমরা নিয়মিত রিসেপশন রিপোর্ট পেয়ে থাকি। আজ তার চিঠি পেয়ে বেশ ভালো লাগছে। তো কী লিখেছেন তিনি?

আকতার জাহান: ১৩ আগস্ট প্রচারিত অনুষ্ঠান সম্পর্কে শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠানোর পাশাপাশি ওই দিনের অনুষ্ঠান সম্পর্কেও মতামত জানিয়েছেন। আবু তাহের ভাই লিখেছেন-

আশরাফুর রহমান: “রেডিও তেহরানের বিশ্বসংবাদ, সংবাদ ভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত ও কথা-বার্তা আসরটি আমার সবসময়ই প্রিয়। নাসির মাহমুদ ভাই ও আকতার জাহান আপার উপস্থাপনায় আজকের রংধনুর আসরটি হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত। বাংলাদেশের গাজীপুরের ছোট্ট বন্ধু নাদির মাহমুদের অসাধারণ সুরেলা কণ্ঠে নাতে রাসুলটি অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। এছাড়া, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ছোট্ট বন্ধু নাজমুন নাহারের ছড়া এবং সুরাটি মনে বেশ দাগ কেটেছে। ছোট্ট বন্ধুদের প্রতিভা প্রকাশের একটি বিশেষ প্লাটফর্ম তৈরিতে রেডিও তেহরানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কৃতজ্ঞতা জানাই রেডিও তেহরান বাংলার সকল কলা-কুশলীদের প্রতি। 

নাসির মাহমুদ: বগুড়ার চাঁদনী বাজার থেকে আসা বেশকিছু মেইলের দিকে নজর দিচ্ছি। এগুলো পাঠিয়েছেন শ্রোতাভাই সাইফুল ইসলাম। একটি চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, “গত ৮ আগস্ট শুনলাম ইরানের ঐতিহাসিক গাদির দিবস বা ঈদে গাদির দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ পরিবেশনা। রাসুল (সা.)-এর জামাতা ইমাম হযরত আলীকে খেলাফতে অধিষ্ঠিত করা হয় এইদিনে।  কুড়ি মিনিটের এ আসরে এ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম।”

অন্য একটি মেইলে সাইফুল ভাই জানতে চেয়েছেন, গ্রীষ্মকালে ইরানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কতো?

আকতার জাহান: ইরানের সব এলাকার তাপমাত্রা একরকম নয়। এদেশে তিন ধরনের আবহাওয়া রয়েছে: ১. মরুময় ও আধা-মরুময় আবহাওয়া; ২. পার্বত্য এলাকার সমভাবাপন্ন আবহাওয়া; এবং ৩. কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী সমভাবাপন্ন আবহাওয়া।

ইরানের রাজধানী তেহরানে জুলাই-আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হয়ে থাকে। একইসময়ে খুজিস্তান প্রদেশের তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত উঠে থাকে। 

আশরাফুর রহমান: নারায়ণগঞ্জের আলী সাহারদির শিক্ষার্থী শ্রোতা পরিষদের প্রেসিডেন্ট সাঈফ আহমেদ উৎস পাঠিয়েছেন পরের চিঠিটি। তিনি লিখেছেন, রেডিও তেহরান শ্রোতা চাহিদার কথা স্মরণ করে- চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জনকে নতুনভাবে সাজানোয় এবং অনলাইনভিত্তিক কুইজ চালু করার ফলে চারিদিকে সাড়া পড়ে গেছে। নতুন নতুন শ্রোতা সংযুক্ত হচ্ছে রেডিও তেহরানের সাথে।

নাসির মাহমুদ: কুয়েত সিটি থেকে শাহজালাল হাজারী পাঠিয়েছেন এই মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “কুয়েতের মরুপ্রান্তর থেকে ইথারের বন্ধু হয়ে নিয়মিতই রেডিও তেহরানের সাথে যুক্ত আছি। আবার কখনো ওয়েবসাইটে ঢুকে পছন্দের অনুষ্ঠান শুনে ও দেখে থাকি।”

গত ১০ আগস্ট প্রচারিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠান সম্পর্কে এ শ্রোতাবন্ধু লিখেছেন, “ইমাম মুসা বিন জাফর আল কাজিম ()-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম রেডিও তেহরান না শুনলে হয়তো এই মহান ইমাম সম্পর্কে অজানা এবং অজ্ঞই থেকে যেতাম। নতুন ধারাবাহিক অনুষ্ঠান পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থার প্রথম পর্ব অসাধারণ ভালো লেগেছে বলে শাহজালাল হাজারী ভাই জানিয়েছেন। 

আকতার জাহান: একই দিনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে মতামত জানিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার ইন্টারন্যাশনাল মিতালি লিসনার্স ক্লাব থেকে হাফিজুর রহমান পাঠিয়েছেন এই চিঠিটি। তিনি লিখেছেন, “পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা- শীর্ষক নতুন ধারাবাহিক খুবই সুন্দর হচ্ছে। এই ধারাবাহিকের অনুষ্ঠানে পাশ্চাত্যের অনেক কিছুই যে ভালো নয়, তার উদাহরণসহ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আশাকরি অনুষ্ঠানটি শুনে অনেকেই পাশ্চাত্যের প্রতি মোহ হারিয়ে ফেলবেন। পাশ্চাত্য ভাবধারা ও অশালীন ভোগই যে সুখ নয়, তা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।”

একই দিন ইমাম মুসা কাজেম (.) এর জন্মবার্ষিকী নিয়ে বিশেষ পরিবেশনা খুবই মনোগ্রাহী ছিল বলে হাফিজুর রহমান ভাই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

আশরাফুর রহমান: বেশ কয়েকজন শ্রোতার মতামতসমৃদ্ধ চিঠি পড়া হলো। আসরের এ পর্যায়ে আমরা কথা বলব বাংলাদেশি শ্রোতা-বোন শরিফা আকতার পান্না সঙ্গে।

আকতার জাহান: শরিফা আকতার পান্নাআজকের এই সাক্ষাৎকারপর্বে অংশ নেয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আশরাফুর রহমান: আসরের সবশেষ চিঠিটি পাঠিয়েছেন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন। তার চিঠির কিছু অংশ আমি পড়ে শোনাচ্ছি। এ শ্রোতাবন্ধু লিখেছেন, প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আমার বাসায় একটু বেশি আনন্দ-উল্লাস বিরাজ করে। তার কারণ, ওইদিন রেডিও তেহরান থেকে রংধনু আসর প্রচারিত হয়। আর রংধনু প্রচারের সময় আমার ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা মাফ। কেননা, তারাও মনোযোগ দিয়ে রংধনু শুনে। রংধনু আসরের প্রতি তাদের খুব আগ্রহ, আর আমিও চাই তারা যেন এ অনুষ্ঠানটি শুনে। 

নাসির মাহমুদ: এরপর শাহাদত ভাই লিখেছেন, “গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবারে বিশ্বসংবাদ ও দৃষ্টিপাতের পর রংধনু আসর শুরু হলে আমার দুই বাচ্চা আনন্দে নেচে উঠে। সবাই মিলে সুখ বিষয়ক গল্পটি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। আমার ছেলে-মেয়েরা গল্প থেকে দারুণ একটি শিক্ষা পেল। আশা করি ভবিষ্যতে তারা এ গল্পের কথা মনে করে যা আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকবে।”

আকতার জাহান: আমাদের অনুষ্ঠানের শ্রবণমান জানিয়ে রিপোর্ট জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শ্রোতা। আমি তাদের পরিচয় তুলে ধরছি।

  •  স্পেন থেকে জুয়ান পেরেজ
  •  ভারতের ছত্তিশগড় থেকে আনন্দমোহন বাইন
  •  পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে মুহাম্মদ নাজিমউদ্দিন
  •  বাংলাদেশের রাজবাড়ি থেকে শাওন হোসাইন
  •  টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের
  •  এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ফিরোজ আলম

আশরাফুর রহমান: তো যারা মতামত শ্রবণমান রিপোর্ট জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি আজকের আসর থেকে।

নাসির মাহমদু: কথা হবে আবারো পরবর্তী আসরে। সে পর্যন্ত ভালো, সুস্থ নিরাপদে থাকুন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য